ফনেটিক ইউনিজয়
এশিয়া কাপ
শিরোপার মিশনে মাশরাফিরা
তারিক আল বান্না

এশিয়া কাপে দুইবার ফাইনালে উঠেও হেরে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে সেই ইতিহাস পেছনে ফেলে এবার শিরোপা জেতার মিশনে প্রস্তুত মাশরাফি বাহিনী।   
বিশ্বের অন্যতম ক্রিকেট অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়া। এ অঞ্চলে রয়েছে তিন বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দেশ পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলংকা, রয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে চমক লাগানো বাংলাদেশ ও নতুন শক্তি আফগানিস্তান। তাদের সঙ্গে থাকছে বাছাই পর্ব পার হওয়া দল হংকং। ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের আসর। ফাইনাল লড়াই অনুষ্ঠিত হবে ২৮ সেপ্টেম্বর।
১৯৮৪ সালে শুরু হয় এশিয়া কাপ ক্রিকেট। এতে ভারত সর্বাধিক ছয়বার, শ্রীলংকা পাঁচবার ও পাকিস্তান দুবার শিরোপা লাভ করেছে। তবে ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় আসর থেকে এতে অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। মোট ১২ বার অংশ নিয়ে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সব মিলিয়ে ৪২টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ মাত্র সাতটি ম্যাচ জিতেছে। আর হেরেছে বাকি ৩৫টি। বাংলাদেশ ২০১২ সালের এশিয়া কাপ ক্রিকেটে অল্পের জন্য শিরোপা জিততে পারেনি। ফাইনালে স্বাগতিকরা মাত্র ২ রানে হেরে যায় পাকিস্তানের কাছে। ম্যাচে পাকিস্তানের ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৩৬ রানের জবাবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে করে ২৩৪ রান। সর্বশেষ ২০১৬ সালের আসরেরও আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। সেবার তারা বৃষ্টি বিঘ্নিত ফাইনালে ৮ উইকেটে ভারতের বিপক্ষে হেরে যায়। বাংলাদেশের ১৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১২০ রানের জবাবে ভারত ১৩.৫ ওভারে ২ উইকেটে করে ১২২ রান। ফাইনাল ম্যাচে বৃষ্টির বাধা না হলে হয়তো ফলাফল অন্যরকম হতেও পারত বলে মনে করেন অনেকেই।  
এবার বাংলাদেশের লক্ষ্য নিঃসন্দেহে শিরোপার দিকেই। অবশ্য তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে পেছনে ফেলে শিরোপা জেতা খুব সহজ ব্যাপার নয়। আবার ঠিকমতো খেলতে পারলে লক্ষ্য অর্জন খুব কঠিন নয়। বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পায়। সেই থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সত্যিকারের পদচারণা শুরু হয় লাল-সবুজের দলটির। এখন বাংলাদেশ নিয়মিত বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও এশিয়া কাপে খেলছে। তবে কাঙ্খিত কোনো শিরোপার দেখা মেলেনি তাদের। এবার এশিয়া কাপের শিরোপা জিততে বদ্ধপরিকর মাশরাফিরা। গত তিন আসরের দুটিতেই ফাইনালে খেলেছে তারা। তাই তাদের শিরোপা জেতার আকাক্সক্ষা খুব বেশি চাওয়াও নয়। তবে টুর্নামেন্টে টানা ভালো খেলতে হবে।
এবারের আসরে প্রথমে দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে দলগুলো। ‘এ’ গ্রুপে লড়বে ভারত, পাকিস্তান ও হংকং। গ্রুপ ‘বি’তে বাংলাদেশের সঙ্গী শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান। দুই গ্রুপ থেকে সেরা চার দল নিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে হবে সুপার ফোর।

এশিয়া কাপের সূচি
১৫ সেপ্টেম্বর     বাংলাদেশ- শ্রীলংকা, দুবাই
১৬ সেপ্টেম্বর    পাকিস্তান-হংকং, দুবাই
১৭ সেপ্টেম্বর    শ্রীলংকা-আফগানিস্তান, আবুধাবি
১৮ সেপ্টেম্বর    ভারত-হংকং, দুবাই
১৯ সেপ্টেম্বর    ভারত-পাকিস্তান, দুবাই
২০ সেপ্টেম্বর    বাংলাদেশ-আফগানিস্তান, আবুধাবি
২১ সেপ্টেম্বর    গ্রুপ ‘এ’ বিজয়ী-গ্রুপ ‘বি’ রানার্সআপ
২১ সেপ্টেম্বর    গ্রুপ ‘বি’ বিজয়ী-গ্রুপ ‘এ’ রানার্সআপ
২৩ সেপ্টেম্বর    গ্রুপ ‘এ’ রানার্সআপ বনাম গ্রুপ ‘এ’ বিজয়ী
২৩ সেপ্টেম্বর    গ্রুপ ‘বি’ বিজয়ী বনাম গ্রুপ ‘বি’ রানার্সআপ
২৫ সেপ্টেম্বর    গ্রুপ ‘এ’ বিজয়ী বনাম গ্রুপ ‘এ’ রানার্সআপ
২৬ সেপ্টেম্বর    গ্রুপ ‘বি’ বিজয়ী বনাম গ্রুপ ‘বি’ রানার্সআপ
২৮ সেপ্টেম্বর    ফাইনাল, দুবাই

Disconnect