ফনেটিক ইউনিজয়
তৃতীয়বারও রানার্সআপই সাফল্য
তারিক আল বান্না
মাশরাফিদের এই উল্লাস একটুর জন্য চূড়ান্তরূপ নিতে পারেনি
----

গেল এশিয়া কাপ ক্রিকেটের খুব কাছে গিয়েও শিরোপার দেখা পেলো না বাংলাদেশ। ২০১২ ও ২০১৬ সালের পর তৃতীয় বারের মতো ফাইনালের টিকিট পেলেও অধরাই রয়ে গেল শিরোপা ট্রফি। গত চার আসরে তিন বার রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ, এটাই এখন দেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় সাফল্য। কারণ, এশিয়া মহাদেশে রয়েছে বিশ^কাপের তিন চ্যাম্পিয়ন দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। তাদের মতো দলগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করে শিরোপা লড়াইয়ে জায়গা করে নেয়া প্রশংসার যোগ্য।  
এবারের ফাইনাল ম্যাচে দুর্দান্ত ওপেনিং আর লিটন দাসের অনবদ্য সেঞ্চুরি আশার আলো দেখিয়েছিল। কিন্তু বিতর্কিত আম্পায়ারিংয়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লিটনের বিদায়ে পথ হারায় লাল সবুজ শিবিরের ইনিংস। তারপরও হাল ছেড়ে দেয়নি মাশরাফি বিন মর্তুজার বাহিনী। বল হাতে লড়াই করে গেছে শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে। পুরো আসরে কম-বেশি ভালো করেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহীম, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েসসহ অনেকেই। তবে তাদের এই ভালো করা জোরদার হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ শিরোপা বঞ্চিত হবে না, সেটাই প্রমাণিত এবারের আসরে।   
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচ উপহার দেয়ার জন্য ভারতের নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের। তিনি লিখেছেন ‘ছেলেদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয়ের কৃতিত্বটা অসাধারণ। কঠিন যুদ্ধের ফাইনালের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন।’ মাশরাফিদের মাঠের পারফরমেন্স কেড়েছে ভিভিএস লক্ষ্মণের মনও। ছোট্ট এক টুইট বার্তায় বাংলাদেশকে টুপি খোলা অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার। লিখেছেনÑ ‘এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন ভারতকে অভিনন্দন। সাকিব ও তামিমকে ছাড়াই দীপ্তিময় লড়াই আর খেলোয়াড়ি মানসিকতা, হাল না ছাড়া, নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে লড়াইয়ের জন্য বাংলাদেশকে টুপি খোলা শ্রদ্ধা।’ অদম্য বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের স্তুতি গেয়েছেন ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান বীরেন্দর শেবাগও। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘এশিয়া কাপ জেতায় ভারতকে অভিনন্দন। মূল খেলোয়াড়দের বাইরে রেখেও তেজোদীপ্ত লড়াই গড়ার জন্য বাংলাদেশকে অভিবাদন। শিরোপা জিতলেও ভারতের অনেক জায়গায় এখনও কাজ করতে হবে। আমার প্রত্যাশা তারা ভালো করবে।’
বাংলাদেশ এবার এশিয়া কাপ থেকে বেশ কিছু শিক্ষা নিতে পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) আরও ব্যালেন্স দল গড়তে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তারকাদের বিকল্প খেলোয়াড় তৈরি ও খেলোয়াড়দের মনোবলে ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে হবে, শক্তিশালী একাদশ গঠনে আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ দলের ম্যাচ সংখ্যা বাড়াতে হবে। কারণ, বিকল্প খেলোয়াড় না থাকায় ইনজুরি অবস্থাতেও মাঠে নামতে হয়েছে মুশফিক, সাাকিব, তামিমের মতো তারকাদের। আবার তাদের মনোবলে কিছুটা ঘাটতি থাকায় ফাইনালে লিটন দাস, সৌম্য সরকার ও মিরাজ ছাড়া কেউই দুই অঙ্কের রানের ফিগারে পৌঁছতে পারেননি। একটি শক্তিশালী একাদশ না থাকায় বার বার দলের ব্যাটিং লাইন পরিবর্তন করতে হয়েছে। বিদেশের মাটিতে আরও ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলে ফাইনালে রান সংখ্যা আরও বেশি আশা করা যেত বাংলাদেশ দলের জন্য। তাই পরের এশিয়া কাপে শিরোপা জিততে হলে সেই  চিন্তা করতে হবে এখন থেকেই।

Disconnect