ফনেটিক ইউনিজয়
অনিয়মে ডুবছে ব্যাডমিন্টন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রাইজমানি না থাকায় বিজয়ীদের কাছে ট্রফিই সম্বল
----

গ্রামগঞ্জ, শহর-বন্দর সবখানেই ব্যাডমিন্টনের সমান জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশেষ করে শীতকাল এলে কৃত্রিম আলোর নিচে খেলার আনন্দে মেতে ওঠে তরুণ ও মাঝবয়সীরা। মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকার পাশাপাশি ভালমানের প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় থাকার পরও ব্যাডমিন্টনের উন্নতি হচ্ছে না।
এ অবস্থার মধ্য দিয়েই সম্প্রতি শেষ হয়েছে সামার ওপেন (র‌্যাঙ্কিং) ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। প্রথমবারেরমতো কোনো প্রাইজমানি না থাকার পাশাপাশি নানা অনিয়মের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে এবারের আসর। আসর শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনেই নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছিলেন ফেডারেশনের সদস্য ও রেফারি জাহিদুল হক কচি। বেশির ভাগ সময় গরহাজির থাকছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। যতটা অনিয়ম আর অভিযোগ উঠলে একটি টুর্নামেন্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে তার সবই হয়েছে সামার ব্যাডমিন্টনে। তবে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছেন গৌরব সিং। ছেলেদের এককের শিরোপা জিতে জানান দিয়েছেন আগমনী বার্তার। দ্বৈত শিরোপা জিতে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন এলিনা সুলতানা ও নাবিলা জামান। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এবারের আসরে বেশকিছু ঘটনা সাক্ষী হয়ে আছে। যেমন, মিনহাজ ও আসাদের মধ্যকার ম্যাচের বিপত্তি। ম্যাচের একপর্যায়ে জাজের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন সাজ্জাদ। তিনি আসাদের কোচ। এই কোচকে কোনোভাবেই থামাতে না পেরে জাজ জাহিদুল হক কচি তাকে কোর্ট থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথাও বলেছিলেন। ঘটনার সূত্র ধরে বহিরাগত বেশ কয়েকজন যুবকও নাকি উডেন ফ্লোর জিমনেশিয়ামে প্রবেশ করেছিলেন! যদিও বিষয়টি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কেউ স্বীকার করেনি।
তবে রেফারি নিয়ে বড় রকমের জালিয়াতি করেছে ফেডারেশন। টুর্নামেন্টে রেফারি হতে হলে পাঁচবছর ডেপুটি রেফারি এবং আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া ২০১৭ সালে ব্যাডমিন্টনের আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নিয়ম করে দেয়া হয়েছে যে, কোনো কোচ জাজ কিংবা আম্পায়ার হতে পারবেন না। জাজ হিসেবে জাহিদুল হক কচির এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। তবুও তাকে দিয়ে ম্যাচ পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি জুমার আমিন ও সিলেটের গৌরবের ম্যাচটি শুরুর হয় নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর। এছাড়া টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ও সমাপনী দিনেই কেবল ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদকের দেখা পাওয়া গেছে। রেফারিদের জন্য কোনো জার্সি দেয়া হয়নি। যে যার মতো টি-শার্ট পরে খেলা পরিচালনা করেছেন। উডেন ফ্লোরে গরমে অতিষ্ঠ খেলোয়াড়রা প্রথম দু’দিন কষ্ট করার পর তৃতীয়দিনে দু’টি স্ট্যান্ড ফ্যান পেয়েছে! এছাড়া কোচ ও খেলোয়াড়দের জন্য ব্যবহৃত টয়লেটও অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত ফেডারেশনে আসেন না বলেও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এতসব সমস্যা নিয়ে দেশের জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি হয়ে ব্যাডমিন্টন চলছে। সামার ওপেনে সব সময়ই প্রাইজমানি থাকে, কিন্তু এবার নাকি আয়োজন করতেই বেশ বেগ পেতে হয়েছে ফেডারেশনকে। এ নিয়ে অবশ্য ক্ষোভের শেষ নেই খোলোয়াড়দের। এলিনা সুলতানা, নাবিলা আক্তার, শাপলা আক্তার, গৌরব সিংরা তাই গায়েগতরে খেটেই এই আসরে খেলে গেছে। ২০১৭ সালের সামারে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পেলেও এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া সবাইকে দেয়া হয়েছে শুধু ট্রফি! এই অনিয়মের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেলেই কেবল উন্নতির কথা চিন্তা করা যাবে, এর বাইরে নয়।

Disconnect