ফনেটিক ইউনিজয়
সাফে শ্রেষ্ঠত্ব বাংলাদেশ নারী দলের
তারিক আল বান্না
ট্রফি নিয়ে সাফ শিরোপা জয়ী বাংলাদেশ নারী দলের উল্লাস
----

মাত্র দুই মাস আগে ভুটানের মাটিতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলে রানার্সআপ হয়েছিল বাংলাদেশের কিশোরীরা। এবার সেই ভুটানেই প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলের শিরোপা জয় করেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ১৫ আগস্ট রাজধানী থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে ফ্লাড লাইটের আলোয় অনুষ্ঠিত ফাইনালের মহারনে তহুরা খাতুনরা ১-০ গোলে হারিয়েছে নেপালকে।
শিরোপা নির্ধারণী জয়সূচক গোলটি করেন মাসুরা পারভীন। ম্যাচের ৪৯ মিনিটেই নেপালের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে দেন এই নারী ফরোয়ার্ড। এ জয়ে নারীদের যুব সাফের ইতিহাসে নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে বাঁধাই করে রাখলো বাংলাদেশ। ফুটবলে এখন বাংলাদেশ নারী দলের চলছে জয়জয়কার। যে আসরেই নামছে, সেখানেই জয় করছে তারা। চলতি বছরই এ নিয়ে চারটি আসরের ট্রফি জয় করলো লাল-সবুজের সেনানীরা।
ফাইনালে নামার আগে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল টিম বাংলাদেশ। মাঠের লড়াইয়েও তাদের সে আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠে। একের পর এক আক্রমণ করে নেপালকে শুরু থেকেই চেপে ধরেছিল। কিন্তু প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। গোল উৎসব করতে অপেক্ষায় থাকতে হয় ৪৯ মিনিট পর্যন্ত। অবশেষে বাংলাদেশ দলকে আনন্দে ভাসিয়ে দেন মাসুরা পারভীন। সতীর্থের ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে হেডে গোল করেন আর তাতেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। উৎসবে মেতে উঠা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুই মিনিট পরেই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। কিন্তু তাদের সে আশা পূরণ হতে দেয়নি লাল-সবুজদের রক্ষণভাগ। এদিন, নেপালিদের বেশ কয়েকটি আক্রমণ রুখে দিয়েছে গোলরক্ষক রূপনা চাকমাও। লিড নেয়ার পর মাসুরা, শামসুন্নাহাররা অনেকটাই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েন। নিজেদের সীমানায় কড়া পাহারা বসিয়ে সুযোগ বুঝে প্রতিপক্ষের দুর্গে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে আর গোল ব্যবধান বাড়াতে না পারলেও গোল হজম করেননি।
দলের এমন জয়ে দারুন খুশী কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল। ভুটানকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছিল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে মেয়েদের বলেছিলাম চাপ না নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় খেলতে। ওরা সেই নির্দেশনা মাঠে পুরোপুরি প্রয়োগ করেছে। তাছাড়া দলের সকলেই শুরু থেকেই গোলের তাড়নায় ছিল। সে তাড়না থেকেই এ জয় এসেছে।’ শিরোপা জয়ের পুরো কৃতিত্ব কিশোরীদের দিলেন কোচ ছোটন। তিনি জানান, ‘মেয়েরা তাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে খেলেছে বলেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। তারা জীবন বাজি রেখে খেলে কাক্সিক্ষত জয় তুলে নিয়েছে। মেয়েদেরকে  স্যালুট জানাই।’
পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে চলতি এ আসরে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ নারী দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলার নারীরা। শেষ চারের লড়াইয়ে স্বাগতিক ভুটানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে শিরোপা স্বপ্ন প্রসারিত করেছিল মিসরাত জাহান মৌসুমীর দল। শেষ পর্যন্ত অপরাজিতভাবেই ট্রফি লাভ করলো তারা। বাংলাদেশের দামাল কিশোরীরা এগিয়ে যাক, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক, অন্য দল তাদের কাছ থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা লাভ করুক- এমন প্রত্যাশা এখন সবার।

Disconnect