ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
কাবাডি নিয়ে নতুন করে ভাবছি

জাতীয় খেলা কাবাডিতে চলছে দুর্দিন। ফেডারেশনের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা’র সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

আগামী ৯-১৮ মার্চ নেপালে দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) গেমস-এর আসর বসার কথা। প্রস্তুতি কেমন বাংলাদেশের?
বাংলাদেশের জন্য এসএ গেমস অনেক বড় টুর্নামেন্ট। ২০১৬ সালে সর্বশেষ আসর বসেছিল ভারতের শিলং ও গৌহাটিতে। ২০১৯ সালে বসার কথা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। আমাদের প্রস্তুতি এখনও সেভাবে শুরু হয়নি। তারিখ নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছি। নেপাল যদি নিশ্চয়তা দেয় নির্ধারিত সময়ে এসএ গেমস শুরু হবে তখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দেব। এমনিতে যেসকল ফেডারেশন খেলার মধ্যে রয়েছে তাদের প্রস্তুতি তো রয়েছেই। তাতেই নতুন করে প্রস্তুতি যোগ হবে খেলোয়াড় বাছাইয়ের মাধ্যমে।

তৃতীয় সামার ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এখানে প্রস্তুতি কেমন। বাংলাদেশ কোন ডিসিপ্লিনগুলোতে আশা দেখছে?
ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসে ২০৬ টি দেশের ৪০০০ হাজার ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করছে। ৩২টি খেলায় ২৪১ টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলাদেশ ৩টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে। এখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মার্চপাস্টে দেশের পতাকা থাকা। সে কারণেই মাত্র ৩টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। হকি দল বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি), আর্চারী গাজীপুরের টঙ্গীর শহিদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে আর শুটিং গুলশানের শুটিং কমপ্লেক্সে প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে এই তিন ডিসিপ্লিনের মধ্যে আমি কেবল হকি আর শুটিং নিয়ে আশাবাদী। কারণ হকি দল সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। শুটার অর্নব শারার লাদিফও একই সুযোগ পেয়েছে। সে কারণে দুই ডিসিপ্লিন নিয়ে আশাবাদী। হয়তো পদক জিততে পারবে না তবে পারফরম্যান্সের উন্নতি হবে আশাকরি।

এশিয়ান গেমসে ৩২ বছরেও কোনো পদক পায়নি বাংলাদেশ। এটি একটি দেশের জন্য লজ্জার। এরপর সামনের আসরগুলোর জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা নিয়েছেন?
এবারের এশিয়ান গেমস থেকে বাংলাদেশ কোন পদক জিতেনি এটা সত্য। তবে পারফরম্যান্সে কিন্তু অনেক উন্নতি হয়েছে। আগে বক্সিং, কাবাডি ও ক্রিকেট থেকেই পদক জিতেছে। এবার আর সেটি হয়নি। বিশেষ করে ফুটবলে কিন্তু অনেক উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। প্রথমবারেরমতো কাতারকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের গণ্ডি পেরুতে পেরেছে বাংলাদেশ। পদক পেলে অবশ্য বড় অর্জন হত। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ ড্র করেছে আর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে লড়াই করে ৩-১ গোলে হেরেছে। এটিকে ছোট পারফরম্যান্স বলা যাবে না।

কিন্তু প্রথমবারেরমতো কাবাডিতে পদকশূন্য হয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ। জাতীয় খেলার ধারা বলছে এটি এখন পতনের দিকে রয়েছে। এই বিষয়ে আপনাদের ভাবনা কী?
কাবাডির পতন নিয়ে আমরা নিজেরাও উদ্বিগ্ন। দেশের জাতীয় খেলা নিয়ে আমরা হতাশ। ১৯৭৮ সালের পর থেকে এবারই পদক জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এখন কাবাডিকে ঢেলে সাজানোর কোনো বিকল্প নেই। ইরান, জাপান, পাকিস্তান যেভাবে এগুচ্ছে সেভাবে আমরা পারছি না। এই বিষয় নিয়ে আমরা অলিম্পিকের মিটিংয়ে কথা বলেছি। এখন ফেডারেশনের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা করা হবে। কাবাডির এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বড় পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। কাবাডি নিয়ে নতুন করে ভাবছি আমরা।

Disconnect