ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
এখন আমার সঙ্গে কোনো স্পন্সর নেই

আবারো শিরোপা জয়ের খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছেন সিদ্দিকুর রহমান। দিল্লি গল্ফ কোর্সে প্যানাসনিক ওপেনে রানার্সআপ বাংলাদেশি এ গলফারের সঙ্গে কথা বলেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

শিরোপা জয়ের খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছেন। এর কারণ কী বলে মনে করছেন?
দিল্লির গল্ফ কোর্সে প্যানাসনিক ওপেনে শিরোপা জিততে না পারাটা ব্যর্থতার। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে এসে বারবারই পরাজয় আমাকে নতুন করে ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকার পরও শুধুমাত্র মনোসংযোগ ধরে রাখতে না পারার কারণে ব্যর্থ হচ্ছি। তবে বসে থাকলে তো চলবে না। এই সমস্যার সমাধান কিভাবে করবোÑ সেটা নিয়েই ভাবছি।  

এবারের আসরে ২০১৪ সালের সেইল ওপেনের মতোই প্লে-অফে পরিণত হয়েছিল শেষ হোলের খেলা। নার্ভ ধরে রেখে জয় শেষ পর্যন্ত ভারতীয় গলফারেরই। অথচ এটি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম এশিয়ান ট্যুর শিরোপা। ২০১০-এ ব্রুনাই ওপেন জয়ের পর, ২০১৩ সালে হিরো ইন্ডিয়ান ওপেন। এটাও আপনাকে কষ্ট দেয়?
পেশাদার গলফারদের সব মেনে নিতেই হয়। দেখা যাচ্ছে সিনিয়র একজনের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না অথচ নতুন একজন এসেই বাজিমাত করে দিলেন। দিল্লি ওপেনে আগের দিনের চেয়ে শেষদিনে ভাল খেলেছি। প্রতিপক্ষ খালিন অনেক ভালো করলেও আমার খেলাও অনেক ভালো হয়েছে বলে মনে করি। সব মিলিয়ে খারাপ হয়নি। ফল যা করেছি, তাতে খুশি। শিরোপার লড়াইটা কঠিন করে তুলতে পারায় বেশ গর্ব বোধ করছি। অনেক ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছি। ভালো কিছু পেতে ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

দিল্লি ওপেনের পয়াজয়ে আফসোস হচ্ছে?
ওই যে বললাম, পেশাদার হলে এসব নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। যে পরিস্থিতি আসে সেগুলোকে ওভারকাম করতে হবে। লিডারবোর্ডের শীর্ষে থেকে শেষ দিনে ৪ বার্ডি ও ১ বোগি খেলেছি। এটাই আমার কাছে যথেষ্ট মনে হয়েছে। খালিন যোশি এই রাউন্ডে অসাধারণ খেলায় আমার পক্ষে জয় আনা সম্ভব হয়নি। তবে পরিসংখ্যান কিন্তু বলছে, আমি আমার সেরা পারফরম্যান্সই করেছি। খালিন যেটা করেছে, এটাকে অনেকেই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স বলছেন। সে ভালো খেলেই শিরোপা জিতেছে। আমাকে শিরোপা জিততে হলে এরচেয়ে ভালো কিছু করতে হতো, সেটা করতে পারিনি।

যারা গল্ফ নিয়ে কাজ করেন তারা আপনাকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন। শেষের সেই ব্যর্থতাই বেশি মনে হচ্ছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য কি করছেন?
আমি আরেকটা পরিসংখ্যান দিই। এই কোর্সে তিন তিনবার রানার্সআপ হয়েছি। এছাড়া শীর্ষ পাঁচে শেষ করেছি আরও কয়েকবার। আমার নিজের কাছে এই পারফরম্যান্স কিন্তু এককথায় অসাধারণই। সেই কারণে দিল্লি গল্ফ কোর্সটি আমার খুব প্রিয়। অ্যামেচারেই এখানে প্রথম শিরোপা জিতেছিলাম। পেশাদার হওয়ার পর ২০১৩ সালে জিতলাম প্রথম শিরোপা। আপনারা জানেন, এই মুহূর্তে কিন্তু আমার সঙ্গে কোন স্পন্সর নেই। দেশের গলফকে যতটুকু দিয়েছি তাতে এভাবে স্পন্সরহীন হয়ে কতদিন চলবে বুঝতে পারছি না। তবে আমার মনোবিদ, ফিটনেস ট্রেনার, ফিজিও, সুইং কোচ, বিদেশি ক্যাডির পাশাপাশি একজন ম্যানেজারও রয়েছে। তাদের সবাইকে নিয়ে দেশে বিদেশে ট্যুর করি। এসবকিছু নিজের টাকায় করেছি দেশের গলফের কথা চিন্তা করে। আশা করি, শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারবো।

Disconnect