ফনেটিক ইউনিজয়
পিএসজি’র দুই লড়াকু নেইমার-এমবাপ্পে
মনিরুল ইসলাম

রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই চার ম্যাচে আলাদা করে নজর কেড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। করেছেন জোড়া গোল। ওদিকে ডি মারিয়াও গোল পেয়েছেন যিনি খেলেন ক্লাব পিএসজিতে। কিন্তু তাতে কী!  নেইমার জুনিয়র আর কিলিয়ান এমবাপ্পে যে এখন বিশ্ব ফুটবলে আক্রমণের সেরা তীর। বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই দুই  খেলোয়াড় এখন পিএসজি’র রাজপুত্র। এই তো সেদিনের ঘটনা। ফরাসি লিগকে একঘোড়ার রেস বানিয়ে ইতিহাসের পাতা রাঙিয়েই চলেছে পিএসজি। ক্লাব ও লিগ রেকর্ড ভাঙার পর এবার মৌসুমের শুরুতে টানা জয়ের নতুন ইউরোপিয়ান  রেকর্ড গড়ে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। দলের বড় দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নেইমারের গোলেই যে রচিত হয় সে নতুন ইতিহাস। পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিগকে ২-১ গোলে হারিয়ে চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে টানা ১২তম জয় পেয়েছে পিএসজি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ মিলিয়ে মৌসুমের শুরুতেই এতগুলো ম্যাচ জেতা প্রথম দলই এখন পিএসজি। আগের রেকর্ডটি ছিল টটেনহ্যামের। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শুরুতে টানা ১১ ম্যাচ জিতেছিল স্পাররা।
 সেই রেকর্ড ভাঙার পথে পিএসজি’র ফরাসি সেনসেশন এমবাপ্পে নিজেও গড়েন দারুণ দারুণ সব কীর্তি। মাত্র ১৯ বছর ১০ মাস ১৩ দিন বয়সেই ফরাসি লিগে ৪০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন এমবাপ্পে। গত ৪৫ বছরে ফরাসি লিগে ৪০ গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় তিনি। এ মৌসুমে লিগে আট ম্যাচেই ১১ গোল হয়েছে আগুনে ফর্মে থাকা এমবাপ্পের। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ মিলিয়ে যা সর্বোচ্চ। তার এমন কাজে আরেক ফুটবলার আতোইন গ্রিজম্যান তো বলেই বসেছেন, এমবাপ্পে হচ্ছে পিএসজি’র ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মৌসুম শেষে তার গোল ৫০ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা নিয়ে গ্রিজম্যান বলেন, ‘রোনালদো রিয়ালে যেমন নিয়মিত গোল পেয়েছে, এমবাপ্পেও পিএসজি’র হয়ে তেমনটাই করছে। এই মৌসুমের শুরু থেকেই প্রায় প্রতি ম্যাচেই গোল পেয়েছে সে। আমার তো মনে হয় এই মৌসুমে সে ৫০ গোলও  পেতে পারে!’
বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের চেয়ে পিছিয়ে নেই ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারও। ফরাসি লিগে নেইমারকে রুখবেÑ এমন সাধ্য যেন কোনো ডিফেন্ডারেরই নেই। পিএসজি’র জার্সিতে একের পর এক ম্যাজিক দেখিয়েই যাচ্ছেন রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে বার্সেলোনা ছাড়া এ তারকা। ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে অভিষেকই নিজের মূল্য প্রমাণ করেছিলেন তিনি। পিএসজিতে এই তারকা খেলোয়াড়ের দারুণ প্রভাবে উচ্ছ্বসিত মিডফিল্ডার আদ্রিও রাবিও। তাই তাকে বলতে শোনা যায়, ‘নেইমার একটি বিস্ময়Ñ গত মৌসুমে আমরা এটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম, যখন কাম্প নউয়ে সে অনেকটা একাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক-আউট পর্ব থেকে আমাদের বিদায় করে দিয়েছিল। তাকে আমাদের বিপক্ষে পাওয়ার চেয়ে, সঙ্গে পাওয়াটা অবশ্যই ভালো।’ পিএসজিতে আসার পর লিগে নেইমারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গোলের সংখ্যাও চল্লিশের ঘরে! এ কারণেই এমবাপ্পে ও নেইমারের কাঁধে ভর করেই উড়ছে টমাস টুখেলের দল।

Disconnect