ফনেটিক ইউনিজয়
ফুটবলে নারীদের শক্তিশালী দল প্রয়োজন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপের নারীরা
----

বাংলাদেশের ফুটবলে আশার প্রদীপ এখন জ্বালিয়ে রেখেছেন মেয়েরা। নিয়মিত সাফল্য পাওয়ায় প্রতিনিয়িত নতুন নতুন অনুষঙ্গ যোগ হচ্ছে। কিছুদিন আগেই সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতায় সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও পরের দু’টো আসরে বড় কোনো সাফল্য পায়নি গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। প্রথমে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাইপর্বের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। এরপর অলিম্পিক বাছাই প্রতিযোগিতায়ও বাজে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে মেয়েদের। তিন ম্যাচ খেলে এক পয়েন্ট অর্জন করেছিল লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ভারত ও মিয়ানমারের বিপক্ষে বড় হারের পর নেপালের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের গোলে সম্মানজনক ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। এই ১ পয়েন্ট পাওয়াতেই বেজায় খুশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মহিলা উইং! কারণ অলিম্পিক বাছাইয়ে আগে যে কোনো পয়েন্টই পায়নি বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০১৩ সালে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল বাঘিনীরা। সে হিসেবে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাই প্রতিযোগিতায় তিনটি ম্যাচ খেলে একটিতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছিল। এর মধ্যে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে সাত গোল হজম করার রেকর্ডও হয় তখন।
যদিও এগুলো কারণ একটি দলের মাপকাঠি পরিমাপ করতে যথেষ্ট নয়। কিন্তু সত্যিকার অর্থেই ফুটবলে বাংলাদেশের কোনো জাতীয় দল নেই এখন। যাদেরকে নিয়ে জাতীয় দল গঠন করা হচ্ছে তাদের বেশির ভাগই অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব- ১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের। সে কারণে অভিজ্ঞ দলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না মারিয়া মান্ডা, মিসরাত জাহান মৌসুমী, তহুরা খাতুনরা।
২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে সিনিয়র সাফ চ্যাম্পিয়নশীপে গোলশূন্য ড্র করেছিল বাঘিনীরা। সেই দলটির বিপক্ষে ২০১৭ সালে সিনিয়র সাফের ফাইনালে পরাজয়ের ব্যবধানটা ছিল ৩-১ গোলের। ১৯ মাসের ব্যবধানে সেই ভারতের বিপক্ষে পরাজয়ের ব্যবধানটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭-১ গোলে। প্রায় তিন বছরে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া আর ভারতে এগিয়ে যাওয়া। জাতীয় দল যে পিছিয়ে পড়েছে সেটি পরিসংখ্যান পরিষ্কার করে দিচ্ছে। বয়সভিত্তিক দল আর জাতীয় দল যে এক নয়, সেটা কারও অজানা নয়। তাই মেয়েদের ফুটবলে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো একটি শক্তিশালী জাতীয় দল।
মূলত, সাবিনা খাতুন ছাড়া সর্বশেষ খেলায় অংশ নেয়া দলের বেশির ভাগেরই এখন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলার মতো সামর্থ্য নেই। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজাতে হয়েছে। অলিম্পিক গেমস বাছাইপর্বে খেলার আগে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাইপর্বে খেলেছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। সেখানে দেখা যায় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাঠে লড়াই করতে পারছে না বাংলার মেয়েরা।  বয়সের সঙ্গে শারীরিক সামর্থ্য মিলিয়ে মিয়ানমার, ভারত আর নেপালের মেয়ে ফুটবলারদের সঙ্গে দেশের খেলোয়াড়দের পেরে ওঠার কথা নয়, এর প্রমাণ মাঠেও মিলেছে। তাছাড়া বাংলাদেশের মেয়েরা নিয়মিত ফুটবল খেলছে ১০ বছর ধরে, সেখানে ভারত খেলছে ৫০ বছর ধরে। সর্বশেষ খেলা জাতীয় দলে অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের আটজন, অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ১১ জন এবং একমাত্র সিনিয়র খেলোয়াড় ছিলেন সাবিনা খাতুন। অথচ দলটি আরও অভিজ্ঞদের নিয়ে গড়ে উঠলে ফলাফল এতটা খারাপ হতো না। তাই বাফুফেকে এখন জাতীয় দল নিয়ে ভাবতে হবে। পাশাপাশি, জাতীয় দলকে নিয়মিত মাঠে নামাতে হবে।

Disconnect