ফনেটিক ইউনিজয়
যে উপহার মেয়েকে দিতে মরিয়া সেরেনা
খলিলুর রহমান
বাবা ওহানিয়ানের সঙ্গে বসে খেলা দেখছে ছোট্ট অলিম্পিয়া
----

টেনিস খেলে আর বিভিন্ন পণ্যের দ্যুতিয়ালি করে যে টাকা কামিয়েছেন, চাইলে  সেরেনা উইলিয়ামস মেয়েকে উপহার হিসেবে ব্যক্তিগত বিমানও কিনে দিতে পারেন। কিন্তু সেরেনা মেয়ে অ্যালেক্সি অলিম্পিয়া ওহানিয়ানকে এমন একটা উপহার দিতে চান, যা টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। মূলত মেয়েকে একটা গ্র্যান্ড সøাম এককের শিরোপা উপহার দিতে মরিয়া সেরেনা।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ২২টি গ্র্যান্ড স্লাম এককের শিরোপা জিতেছেন যা, তাকে দিয়েছে বিশ্ব টেনিসের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা মহিলা টেনিস খেলোয়াড়ের তকমা। কিন্তু ২২টি শিরোপাই তিনি জিতেছেন মেয়ের জন্মের আগে। মেয়েকে প্রত্যক্ষ সাক্ষী রেখে  জেতা শিরোপাই উপহার দিতে চান। সেরেনার এই ইচ্ছা এ বছরই পূরণ হতে পারত। ভাগ্যদেবীই হয়তো তাকে অপেক্ষায় রেখেছেন। নয়তো টানা দু’টি গ্র্যান্ড স্লাম  টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেও সেরেনা শিরোপা বঞ্চিত থাকবেন কেন!
২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর দুনিয়ায় এসেছেন অলিম্পিয়া। এরপর গত  ফেব্রুয়ারিতেই  টেনিস কোর্টে ফিরেছেন সেরেনা। ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন-টুর্নামেন্টে অংশও নিয়েছেন। উঠেছিলেন উইম্বলডন ও ইউএস ওপেনের ফাইনালে। কিন্তু দু’বারই তাকে কোর্ট ছাড়তে হয়েছে হার নিয়ে। গ্র্যান্ড স্লাম এককের ফাইনালে উঠা মানেই সেরেনার জয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এটাই প্রমাণ করেছেন মার্কিন কৃঞ্চকলি। সেই সেরেনা কিনা টানা দু’টি গ্র্যান্ড স্লামে ফাইনালে উঠেও শিরোপা-বঞ্চিত। তবে কি অলিম্পিয়াই তার জন্য অপয়া? কিন্তু অন্য সব মায়ের মতো সেরেনার কাছেও অলিম্পিয়া সাক্ষাৎ লক্ষ্মী। এই লক্ষ্মীর দোহাই দিয়েই বলেছেন, তিনি গ্র্যান্ড সøাম শিরোপা জিতবেনই।
আসছে জানুয়ারিতেই বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। এই টুর্নামেন্টের দিকে ইঙ্গিত করেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ৩৭ বছর বয়সী সেরেনা বলেছেন, ‘পরিসংখ্যান ও ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে ও হয়তো জানতে পারবে যে, ওর মা এতোগুলো গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জিতেছে। কিন্তু আমি ওর চোখের সামনেই একটা শিরোপা জিততে চাই। ওকে দেখাতে চাই, ওর মা গ্র্যান্ড সøাম জিততে পারে। অন্তত একটা শিরোপা জিতে আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে উদযাপন করতে চাই। সেটাই হবে ওর জন্য আমার সেরা উপহার।’
কিন্তু অলিম্পিয়ার বয়স তো সবে ১৫ মাস। এই বয়সে ও শিরোপার কি বুঝবে?  সেরেনার উত্তর-সে বুঝে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে সেরেনা যতগুলো ম্যাচ খেলেছেন, সবগুলো ম্যাচেই দর্শক হয়েছেন ছোট্ট অলিম্পিয়া। কখনো বাবা অ্যালেক্সি ওহানিয়ানের কোলে বসে। কখনো বা খালা ভেনাসের সঙ্গে। সেরেনার দাবি, ‘ও সব  বুঝে। আমি খেলার ড্রেস পরলেই ও বুঝতে পারে আমি খেলতে যাচ্ছি। ম্যাচ জেতার পর তো রীতিমতো হাত নাড়াচাড়া করে!’

Disconnect