ফনেটিক ইউনিজয়
নীলাদ্রি যেন বাংলাদেশের কাশ্মীর
ভ্রমণ প্রতিবেদক

কাশ্মীরকে পৃথিবীর স্বর্গ বলা হয়। আর এর মোহনীয় প্রকৃতি সবাইকে মুগ্ধ করে। তবে বাংলাদেশে বাস করে ভারত কিংবা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে যাওয়া ব্যয়বহুল। আবার সবার সেখানে যাওয়ার মতো সময়টুকু নাও থাকতে পারে। তবে যদি এমন হয় যে, খুব অল্প খরচে ও কম সময়ে কাশ্মীরের মতো লোভনীয় প্রকৃতি দেশে বসেই উপভোগ করা যায়, বিষয়টি মন্দ হয় না বাংলাদেশেই রয়েছে এমন একটি জায়গা, যেখানে অল্প খরচে পুরো কাশ্মীরের প্রকৃতির ছোঁয়া নেওয়া যেতে পারে। এমন জায়গার অপরূপ সৌন্দর্যে নিশ্চিন্ত মনে ডুব দিতে চাইলে চলে যেতে পারেন সিলেটের সুনামগঞ্জে।
সিলেট ভ্রমণের কথা বললেই আমাদের চোখে ভাসে লাউয়াছড়া, বিছানাকান্দি বা রাতারগুলের মতো জায়গাগুলো। অনেকে আবার সুনামগঞ্জের টাংগুয়ার হাওর দেখতে যান। কিন্তু এর আশেপাশেই যে নয়নাভিরাম অনেক জায়গা রয়েছে, যা কোনো পর্যটকের মনকে মুহূর্তেই দোলা দিয়ে যেতে পারে, সেটা অনেকেরই অজানা এমনই একটি জায়গা হলো, টেকেরঘাট চুনাপাথরের পরিত্যক্ত খনির লাইমস্টোন লেক। এর পানি, আশেপাশের পরিবেশ, সবকিছুই কেমন জানি নীলাভ চাদরে ঢাকা। আর এর ফলে স্থানীয় লোকজন একে নীলাদ্রি লেক বলেই জানে। এর নাম যেমন সুন্দর, রূপটাও তেমনি মোহনীয়। অনেক গল্প আগে থেকেই জেনেছিলাম লেকটি নিয়ে। তাই দেখার ইচ্ছাটাও ছিল প্রবল। একদিন কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই হাজির হয়েছিলাম সেখানে।  তবে চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না যে, পানির রঙ এতোটা নীল হতে পারে, আর প্রকৃতির রুপ এতোটা মায়াবী। লেকের স্বচ্ছ পানি, মাঝের টিলা আর ওপাড়ের পাহাড়, অপূর্ব সে দৃশ্য। পাহাড়ের নিচের অংশটুকু বাংলাদেশ এর শেষ সীমানা।

কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে শ্যামলী, মামুন, এনাসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাস যায় সুনামগঞ্জে। ভাড়া পড়বে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। সুনামগঞ্জ নতুন ব্রীজ পার হয়ে মোটর সাইকেল নিয়ে যেতে হবে। চাইলে টেকেরঘাট পর্যন্ত সরাসরি মোটর সাইকেল রিজার্ভ নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা নিতে পারে। সুনামগঞ্জ থেকে লাউড়ের গড় পর্যন্ত মোটর সাইকেলে করে যাওয়া যাবে। আর মাঝপথে যাদুকাটা নদী পার হতে জনপ্রতি ভাড়া ৫ টাকা। মোটর সাইকেল এর ভাড়া নেবে ২০ টাকা করে। যাদুকাটা নদী পার হয়ে বারেক টিলা থেকে ১২০ টাকা ভাড়ায় টেকেরঘাট। তবে মোটর সাইকেলের ভাড়া আগেই ঠিক করে নেওয়া ভালো।
এছাড়া ঢাকা থেকে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে যাওয়া যাবে আন্তনগর ট্রেন হাওর এক্সপ্রেসে। ঢাকা থেকে প্রতিদিন এটি ছাড়ে রাত ১১ টায়। ভাড়া পড়বে ২০০ টাকার মতো। মোহনগঞ্জ থেকে এক ঘণ্টার রাস্তা মধ্যনগর। সেখান থেকে বর্ষাকালে নৌকা, ট্রলার বা স্পিডবোট দিয়ে খুব সহজে যাওয়া যায় গন্তব্যে। আর নেত্রকোণা থেকেও সরাসরি নৌকা/ট্রলার যোগে যাওয়া যায়। শীত কালে মোটরসাইকেলে করে খুব সহজে নেত্রকোনা থেকে যাওয়া যায়। নিজস্ব গাড়ির ব্যবস্থা থাকলে সংক্ষিপ্ত পথ হলো ঢাকা থেকে নেত্রকোনা হয়ে বারহাট্টা বা মোহনগঞ্জ দিয়ে টেকেরঘাট।

আবাসিক ব্যবস্থা
বড়ছড়া বাজারে রেস্ট হাউজ আছে কিছু। সেখানে বেশ কম খরচে থাকা যায়। বারেক টিলা পার হয়েই বড়ছড়া বাজার। এছাড়াও লেকের পাশে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি চুনা পাথরের কারখানা আছে তার গেস্ট হাউজে থাকা যেতে পারে যদি খালি থাকে।

Disconnect