২০৫০ সাল নাগাদ ২৫ শতাংশ মানুষ শ্রবণ সমস্যায় ভুগবে

বিশ্বে ২০৫০ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ বা প্রতি চারজনে একজন মানুষ শ্রবণ সমস্যায় ভুগবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ বিষয়ে সতর্ক করে এর প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় অতিরিক্ত বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২ মার্চ) ডব্লিউএইচওর শ্রবণবিষয়ক প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামীকাল ৩ মার্চ বিশ্ব শ্রবণ দিবস। দিবসটি সামনে রেখে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করলো ডব্লিউএইচও।

প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী শ্রবণ সংক্রান্ত এ প্রতিবেদনে সমস্যার মূল কারণ হিসেবে সংক্রমণ, রোগ, জন্মগত ত্রুটি, অতিরিক্ত শব্দ ও জীবনধারাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এসব সসম্যার অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। শ্রবণক্ষমতা হ্রাস প্রতিরোধ ও সমস্যাটিকে গুরুত্ব দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে এতে।

রিপোর্টে পদক্ষেপ গ্রহণ বাবদ একটি প্যাকেজ প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রতি বছর মাথাপিছু ১.৩৩ মার্কিন ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বর্তমানে প্রতি পাঁচজনে একজনের শ্রবণ সমস্যা রয়েছে। কিন্তু এ সংখ্যা আগামী তিন দশকে ১.৫ গুণ বেড়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া মানুষের সংখ্যা আগামী তিন দশকে দেড় গুণেরও বেশি বাড়তে পারে। ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, শ্রবণ সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১.৬ বিলিয়ন। ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন হতে পারে। অর্থাৎ ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের শ্রবণ সমস্যা নিয়ে বসবাস করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সাল নাগাদ ২৫০ কোটি মানুষের মধ্যে ৭০ কোটি মানুষের অবস্থা এমন গুরুতর পর্যায়ে যেতে পারে যে তাদের শ্রবণ সহায়ক যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিবেদনে শ্রবণ সমস্যার বড় ধরণের কারণ হিসেবে চিকিৎসার অভাবকে দায়ী করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ঘাটতি রয়েছে। শ্রবণ সমস্যায় ভোগা প্রায় ৮০ শতাংশ লোক এসব দেশে বাস করে। তারা তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পায় না। এমনকি উন্নত দেশে তুলনামূলক ভালো সুযোগ-সুবিধা থাকলেও চিকিৎসায় সুষম বিন্যাস নেই।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শিশুদের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ শ্রবণশক্তি হ্রাস প্রতিরোধ সম্ভব এবং তা রুবেলা-মেনিনজাইটিসের টিকাদান, প্রসূতি-নবজাতকের যত্নআত্তির উন্নয়ন, মধ্যকর্ণের সংক্রমণজনিত প্রদাহ শনাক্ত-চিকিৎসা প্রভৃতির মাধ্যমে। আরো বড়দের ক্ষেত্রে তা প্রতিরোধ সম্ভব শব্দ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ শ্রবণ, কানের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত প্রভৃতির মাধ্যমে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসিস বলেছেন, শ্রবণ সমস্যা মোকাবেলায় সম্মিলিত ব্যর্থতার কারণে প্রতি বছর এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের শ্রবণক্ষমতা মূল্যবান একটি বিষয়। শ্রবণশক্তি হ্রাসের চিকিৎসা না হলে তা মানুষের যোগাযোগ, শিক্ষা ও জীবিকার সক্ষমতার ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এটা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh