রাশিয়ায় যোগদান প্রসঙ্গে ইউক্রেনের ৪ প্রদেশে গণভোট শুরু

মস্কো সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের ৪ প্রদেশে আজ শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে গণভোট শুরু হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রদেশগুলোতে রুশ-নিযুক্ত নেতারা গত মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোটগ্রহণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, উল্লেখিত প্রদেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার অংশ হিসেবে ঘোষণার জন্য এই গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। 

এদিকে ইউক্রেন ও দেশটির মিত্ররা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা এই গণভোটের ফল মেনে নেবেন না।

ইউক্রেনের ১৫ শতাংশ ভূখণ্ড লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিঝঝিয়া প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। আজ শুক্রবার থেকে আগামী মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর)  পর্যন্ত এ এলাকাগুলোতে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম তাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রদেশগুলোতে সময়স্বল্পতা ও কারিগরি সুবিধার অভাবে ইলেক্ট্রনিক ভোটের পরিবর্তে প্রথাগত কাগজের ব্যালটভিত্তিক ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ প্রথম ৪ দিন ভোটারদের দরজায় দরজায় যেয়ে ভোট সংগ্রহ করবে। শুধুমাত্র শেষদিন ভোটকেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে।

দীর্ঘ ৭ মাস প্রতিরক্ষামূলক মনোভাব দেখানোর পর এ মাসের শুরু থেকে ইউক্রেন বড় আকারে পালটা আক্রমণ শুরু করেছে এবং বেশ কিছু দখলকৃত ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে ফিরিয়ে নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গণভোটের বিষয়টি মস্কো-সমর্থিত কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েক মাস ধরে আলোচনা করলেও ইউক্রেনের সাম্প্রতিক বিজয়ের ঘটনায় এ সিদ্ধান্ত তরান্বিত হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত মঙ্গলবার ইউক্রেনে যুদ্ধ করার জন্য তিন লাখ রিজার্ভ সেনাসমাবেশের ঘোষণা দেন। 

এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়া ফের চলমান সংঘর্ষে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছে।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এ সপ্তাহে বলেন, ‘অভিযানের একদম শুরু থেকে আমরা জানিয়েছি, বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের তাদের নিজেদের ভাগ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ এবং বর্তমান পরিস্থিতি এটাই নিশ্চিত করছে যে তারা তাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করতে চান।’

এদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া এই গণভোটের ফলকে জনগণের কণ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। পরবর্তীতে তারা এটাকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে এ অঞ্চলগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ করে নেবে। একইভাবে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া অঞ্চলকেও রাশিয়া দখল করে নেয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও ক্রিমিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

বিশেষজ্ঞরা ভাবছেন, গণভোটের মাধ্যমে এই চার অঞ্চলকে নিজ ভূখণ্ডের অংশ করে নেওয়ার পর যুদ্ধের তীব্রতা বাড়াতে পারে রাশিয়া। 

গত বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) পুতিন জানান, রাশিয়া নিজেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের হাতে থাকা ‘সব ধরনের উপায়’ ব্যবহার করতে পারে। পশ্চিমের বিশ্লেষকদের মতে, এটি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত।

পুতিন আরো বলেন, ‘এটা কোনো ফাঁকা বুলি নয়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামের এক পোস্টে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ জানান, ‘রুশ ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ একটি অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য সব ধরনের ক্ষমতা ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে।’

আসন্ন গণভোটে রাশিয়ার পক্ষে ফলাফল আসার বিষয়টিকে অবশ্যম্ভাবী ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৪ সালের গণভোটের ফল অনুযায়ী, ৯৭ শতাংশ বাসিন্দা চান ক্রিমিয়া রাশিয়ার সাথে যোগ দিক। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই গণভোটকে ‘সাজানো’ বলে অভিহিত করেছে এবং এর প্রতি নিন্দা জানিয়েছে।

লুহানস্কের গভর্নর সের্হেই গাইদাই বলেন, ‘যদি এসব অঞ্চলকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়, তাহলে এ অঞ্চলের প্রতি যেকোনো আক্রমণকে তারা রাশিয়ার ওপর সরাসরি হামলা হিসেবে অভিহিত করবে এবং কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই যুদ্ধ করতে পারবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল এই গণভোটের নিন্দা জানিয়েছেন। এছাড়াও ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থাও (ওএসসিই) তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে।

ইউক্রেন জানিয়েছে, এই গণভোট এটাই নির্দেশ করছে, যে রাশিয়া এখন ভীত।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশ নেতৃবৃন্দের যেকোনো সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের কোন কিছুর পরিবর্তন করছে না। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আমাদের সামনেই আছে। এগুলো হচ্ছে, দেশকে স্বাধীন করা, আমাদের জনগণের সুরক্ষা ও এসব কাজ শেষ করার জন্য সারা বিশ্বের কাছ থেকে সহায়তা জোগাড় করা।’

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //