জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি মাস ছিল ব্যস্ততম মাস। জানুয়ারিতে ২৭ কার্যদিবসে শ্রমিকরা কারখানায় গড়ে ২৯৫ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।

এসময় তারা গড়ে কাজ করেছেন ২৬৮ ঘণ্টা। এর বিনিময়ে বেতন পেয়েছেন ১২ হাজার টাকা। 

আজ সোমবার (১৮ এপ্রিল) পোশাক খাতের শ্রমিকদের জীবনমানের ওপর প্রকাশিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপটি যৌথভাবে চালিয়েছে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং মাইক্রোফিন্যান্স অপরচুনিটিস (এমএফও)। ‘গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিজ’ শীর্ষক এই গবেষণার আওতায় ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতি সপ্তাহে এক হাজার ৩০০ জন নির্বাচিত পোশাক শ্রমিকের তথ্য সংগ্রহ করছে সংস্থা দুটি।

জরিপে অংশ নেয়া শ্রমিকরা বাংলাদেশের পাঁচটি প্রধান শিল্প এলাকা চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায় নিযুক্ত। জরিপের অন্তর্ভুক্ত শ্রমিকদের তিন-চতুর্থাংশ নারী, যা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের শ্রম খাতের প্রতিফলন।

এক ঘণ্টার মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাদে, শ্রমিকরা জানুয়ারিতে গড়ে ২৬৮ ঘণ্টা কাজ করেছেন বলে জরিপে বলা হয়েছে। নারী কর্মীরা জানুয়ারিতে গড়ে ২৬৭ ঘণ্টা কাজ করেছেন, যেখানে পুরুষ শ্রমিকরা এক ঘণ্টার মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাদ দিয়ে গড়ে ২৭০ ঘণ্টা কাজ করেছেন।

ফেব্রুয়ারির ২৪ কার্যদিবসে শ্রমিকরা গড়ে ২৫৯ ঘণ্টা কারখানায় ব্যয় করেছেন। এক ঘণ্টার মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাদ দিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে শ্রমিকরা গড়ে ২৩৫ ঘণ্টা কাজ করেছে। তাদের মধ্যে নারী শ্রমিকরা গড়ে ২৩৪ ঘণ্টা ও পুরুষ শ্রমিকরা গড়ে ২৩৫ ঘণ্টা কাজ করেছেন।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি উভয় মাসে, জরিপকৃত শ্রমিকরা আইনত অনুমোদিত ১০ ঘণ্টার (আট ঘণ্টা নিয়মিত ও দুই ঘণ্টা ওভারটাইম) বেশি কাজ করেছেন।

ডিসেম্বরে কাজের জন্য নারী শ্রমিকরা জানুয়ারিতে গড়ে ১২ হাজার টাকা এবং পুরুষ শ্রমিকরা গড়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পেয়েছেন। জানুয়ারিতে কাজের জন্য নারী শ্রমিকরা ফেব্রুয়ারিতে গড়ে ১২ হাজার টাকা বেতন পেয়েছেন যেখানে পুরুষ শ্রমিকরা পেয়েছেন ১৩ হাজার টাকা। আর ফেব্রুয়ারিতে, ৫৪ শতাংশ কর্মী মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, নগদ, রকেট, ইত্যাদি) মাধ্যমে এবং ৪৬ শতাংশ নগদ অর্থে বেতন পেয়েছেন।

প্রায় ২০ শতাংশ গার্মেন্টস কর্মী জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের পরিবারের অন্তত একজন সদস্য অসুস্থ ছিলেন। জানুয়ারিতে এই অসুস্থতার হার ছিল ২৬ শতাংশ।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //