অ্যাডমান্ড থমাস ক্লিন্ট

২৫২২ দিনে সৃষ্টি করেছেন ২৫ হাজারের বেশি চিত্রকর্ম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

শিশু, তবে সে সাধারণ শিশু নয়। রঙের রাজপুত্তুর। নাম তার অ্যাডমান্ড থমাস ক্লিন্ট (১৯৭৬-১৯৮৩)। জীবনের সময়সীমা ছিল মাত্র ২৫২২ দিন, যা বছরের হিসেবে সাত বছর। এই অতি সামান্য বয়সে ভারতীয় শিশু ক্লিন্ট দুনিয়া কাঁপিয়ে দিয়েছেন। পঁচিশ হাজারের বেশি ছবি এঁকেছেন। অবিশ্বাস্য! এমন নয় যে চিত্রে কানুন প্রতিফলিত হয়নি। ডিসট্যান্স, স্পিড ও প্রোপশন সবই আছে তাঁর চিত্রে। বৃত্তের ভেতরে ছবি এঁকে সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে ব্যবহার করেছেন যথাযথ জ্যামিতি।

ক্লিন্টের বয়স যখন ৫ বছর তখন সে একটি চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ১৮ বছরের নিচের বয়সী এখানে প্রতিযোগী ছিল। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে সে-ই প্রথম হয়েছিল। ১৯৯৫ ও ২০০৭ সালে তার চিত্রকর্মের প্রদর্শনী হয় কেরালার তিরুভনানথাপুরমে। কোচির একটি সড়ক ক্লিন্টের নামে নামকরণ করা হয়েছে। মালায়লাম চলচ্চিত্র ‘আনন্দ ভৈরবী’ তৈরি হয়েছে তার ক্ষণস্থায়ী জীবনের গল্প অবলম্বনে।

কোচির বাসিন্দা, মুল্লাপারাম্বিল থমাস জোসেফ এবং চিনাম্মা জোসেফের ঘরে ১৯৭৬ সালের ১৯ মে শিশুটির জন্ম হয়েছিল। বাবা তার নাম শখ করে রেখেছিলেন ‘কাউবয়’ চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্লিন্ট ইস্টউডের নামে।

শিশুটি বড় হচ্ছিল তার বাবার মুখে হিন্দুপুরাণের কাহিনী আর বাইবেলের নীতিগল্প শুনে শুনে। বাবাকে সে পাপু বলে ডাকত। মায়ের কাছ থেকে ক্লিন্ট শুনত প্রকৃতির নানা ঘটনা, কারণ তার মা ছিল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ভক্ত। ফলে তার অনেক ছবিতে এসবের প্রভাব পড়েছিল!

তখনো সে পরিণত হয়নি, এই অবস্থায় একদিন খড়িমাটির টুকরো নিয়ে একটা নিখুঁত বৃত্ত আঁকল। আর এটা করেছিল তাদের বসার ঘরের মেঝেতে।

পরিবারের ধারণা, এটা সম্ভবত জোসেফের শিল্পীবন্ধু জি মোহনানের অনুপ্রেরণায় হতে পারে, কারণ তিনি প্রায়ই বাচ্চাদের উপস্থিতিতে আঁকা-আঁকি করতেন। ক্লিন্ট অন্য শিশুদের মতো নয়। সাধারণত এ সময়টাতে শিশুরা ভীষণ চঞ্চল থাকে, কোনো কিছুতে মনযোগ দেয় না; কিন্তু উল্টো হয়েছে তার ক্ষেত্রে। সে এ সময় শিল্পীর স্ট্রোকগুলো গভীর মনযোগ দিয়ে খেয়াল করত। আঁকার জন্য তৎপর হয়ে উঠত।

ক্লিন্ট বাপ-মায়ের একমাত্র শিশু সন্তান হওয়ায় তার প্রতি তাদের গভীর প্রযত্ন ছিল। যে কারণে তারা নানা রঙের চক বা খড়িমাটি জোগাড় করে দেন। পুত্রের মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে তারা সচেষ্ট হয়েছিলেন; কিন্তু বেশি দিন এটা অব্যাহত করা যায়নি। কারণ শিশুটির শরীর চকের গুঁড়ার প্রভাবে খারাপ হয়ে পড়ে। প্রমাণিত হয় এটা তার জন্য অস্বাস্থ্যকর। ক্লিন্টের ক্ষুদ্র শরীর ফুলে-ফেঁপে ওঠে।

তথাপি ছেলের এই আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্বহীন হতে দেননি তারা। সাধারণ চকের পরিবর্তে এবার ক্রেয়ন (crayon) জোগাড় করে দেন। শিশুটির সামনে তখন একটা নতুন ক্যানভাস জোটে, আর সেটা হচ্ছে তাদের বাড়ির দেয়ালগুলো।

ছোট ছোট আঙুলগুলো যে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে দেয়ালের সবখানে আঁকতে থাকে। একটা পর্যায়ে তার ডুডলগুলো ধরে রাখার মতো আর কোনো জায়গা ছিল না। তার বাবা জোসেফ ৫ হাজারের মতো কার্টন বক্স জোগাড় করেছিলেন। ছেলের ছবি আঁকার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ছিল পরিবারের। ক্লিন্ট তিন মাসের মধ্যে কার্টনগুলো শেষ করে ফেলে।

আসলে জোসেফকে অনেক সংগ্রাম করতে হতো অর্থ সঞ্চয়ে। ক্লিন্টের শিল্প প্রণোদনায় তার সক্ষমতার সবকিছু করেছিলেন। ব্যবসার কাজে যখন অনেক দূরের শহরগুলোতে যেতেন, সেখানকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সন্তানের ছবি সরবরাহ করতেন। এ জন্য তাকে অনেক সময় ব্যয় করতে হতো।

ততদিনে ক্লিন্টের বেশিরভাগ চিত্রে সাধারণ জীবনযাপনের গল্প উঠে আসতে শুরু করেছে। দৈনন্দিন জীবনের দিকগুলো প্রতিফলিত হচ্ছে গভীরভাবে।

তার প্রাণীর স্কেচগুলোতে এনাটমি জ্ঞান সুচারুরূপে প্রতিফলিত হতো। যেটা কিনা হাসিল করতে একজন শিল্প শিক্ষার্থীর নিদেনপক্ষে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

যদিও জোসেফ ও চিনাম্মা ক্লিন্টের প্রতিভাকে মূল্য দেওয়ার চেষ্টা করছিল; কিন্তু তখনো তারা তাদের ছেলের সুপ্তপ্রতিভাকে চিনতে পারেননি।

শিল্পীবন্ধু মোহনানই বুঝতে পেরেছিলেন আরও ভালো শিল্পের সংস্পর্শ ও শৈল্পিক পরিবেশ পেলে এই শিশু অসামান্য শিল্পী হয়ে উঠবে। তার পরামর্শ এরকম-‘সে যা চায় তাই আঁকুক। তার কিছু বলার আছে।’

জোসেফ যাকে গাইড বা পরামর্শকের মতো ছেলের পাশে চেয়েছিল, সেই প্রাণের বন্ধু মোহনানও অনুভব করেন তিনি ক্লিন্টের জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি নন। ঠিকমতো গাইড করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ শিল্প শিশুটির সত্তায়, নাড়িতে বিদ্যমান। এতকিছু সত্ত্বেও ক্লিন্ট মোহনানকেই গুরু হিসেবে মান্য করত।

দিনে দিনে এমন হলো যে, শিশুশিল্পীর ছোট্ট জীবনে কাউকে কল্পনার সঙ্গে মেলানো যাচ্ছিল না। তখন এ ঘটনাও ঘটল, সে উদ্দীপ্ত হয়ে মাত্র একদিনে ১০০টি ছবির আঁকার প্রত্যয় ব্যক্ত করল।

ক্লিন্টের বয়স তিন বছর হলে একটা কঠিন দুঃসংবাদ নেমে আসে। রোগ নির্ণয়ে ধরা পড়ে-তার কিডনিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে তার ভবিষ্যৎ। যে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা আর কারোর জন্য সহনীয় নয়। তার পেট ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুলে যায়।

এই নিদারুণ ক্লান্তির মধ্যেও ক্লিন্ট অক্লান্ত। নিরুদ্বিগ্নভাবে শিল্প সৃষ্টিতে অভিনিবেশ দেয়। এ সময় তার চিত্রে মৃত্যু, নির্জনতা ও প্রেম উঠে আসে। এছাড়া আরো গভীর বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করতে থাকে।

ডাক্তারদের দোরে দোরে ছেলের জন্য ছুটে গিয়েছিলেন জোসেফ আর চিনাম্মা। কেউ তাদেরকে আশার বাণী শোনাতে পারেন নি। তারা নিশ্চিত ছিলেন, তাদের ছেলেকে চিরতরে হারিয়ে ফেলবেন। এই পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক ডা. জোসেফ আব্রাহাম। শিশুটিকে তিনি মৃত্যুর খাঁদের কিনার থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন।

সুস্বাস্থ্য ফিরে পেয়ে তারা শিশুটির জন্য আরো উৎসাহিত হয়ে ওঠেন। পরের দুই বছর সৃজনশীলতা প্রকাশে শিশুটির সামনে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা খুঁজে পান নি। শিগগিরই শিশুটি স্কুলে যাওয়া শুরু করলো। অল্পদিনে অবিশ্বাস্য প্রতিভার কারণে সে শিক্ষকদের চোখে আশ্চর্য শিশু হিসেবে পরিগণিত হলো।

তার খ্যাতির খবর ছড়িয়ে পড়ল পুরো রাজ্যে। কারণ ক্লিন্ট ১৮ বছরের কম বয়সী শিল্পীদের এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে চমকে দিয়েছিল সবাইকে। তার বয়স ছিল পাঁচ বছর মাত্র। 

ক্লিন্ট প্রতিযোগিতায় নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটায় জলরঙে। বয়সের তুলনায় যা অভাবনীয়। এই ছবিতে পরিণত বয়সীর দর্শন প্রতিফলিত হয়েছিল।

পিতা জোসেফ প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়ত ছেলের নানা ধরনের প্রশ্নে। তার জিজ্ঞাসা ‘আমরা কোত্থেকে এসেছি?’ ‘যখন আমরা মরে যাব, তখন আমরা কোথায় যেতে পারি?’ ‘আমরা কেন মরে যাব?’ এমন জীবন জিজ্ঞাসা নিত্যদিন করতেই থাকত তার বাবা-মাকে।

এই সময়টাতে তার কয়েকটি সেরা কাজ প্রকাশিত হয়েছিল। প্রাকৃতিক দৃশ্য থেকে শুরু করে ত্রিশূর পুরামের হাতির মিছিল পর্যন্ত। সে বিশ্বের সামনে এমন কিছু রঙের মধ্য দিয়ে তা তুলে ধরে, যা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। সারফেসে সে চোখ ধাঁধাঁনো রঙ লেপন করেছিল।

শেষ পর্যন্ত দুর্ভাগ্যক্রমে মা-বাবার আদরের ছোট্ট ক্লিন্ট তার পার্থিব প্রতিশ্রুতিগুলোকে বিদায় জানালো। তার সপ্তম জন্মদিনের মাসে পুনরায় কিডনি বিকল হয়ে পড়ল। এ যাত্রা আরও কঠিনতর ছিল। সংক্ষিপ্ত অসুস্থতা কোমায় রূপান্তরিত হলো। এখান থেকে সে আর কখনই জাগেনি!

বোধহয় ছোট্ট ছেলেটি তার অন্তিমযাত্রা সম্পর্কে আগেই টের পেয়েছিল।

মূঢ়তার কয়েক মুহূর্ত আগে, চিনাম্মাকে বলেছিল, ‘এটা কিছুই নয়, মাম্মি ... আমি হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়তে পারি। তুমি যখন আমাকে ডাকবে তখন আমি নাও জাগতে পারি... আমি কেবল ঘুমাচ্ছি। দয়া করে দুঃখ করো না, মা ... দয়া করে কাঁদবে না।’

১৯৮৩ সালের ১৫ এপ্রিল ক্লিন্ট মালায়ালাম নববর্ষ বিশুকানিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। তিনি শিল্পকর্মের এক ধনভাণ্ডার রেখে গেছে-যা প্রজন্মের শিল্প-প্রেমীদের বিমূঢ় বিস্ময় জাগাবে।

এরপর থেকে তরুণ মাস্টারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে কেরালার পর্যটন বিভাগ প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে উদীয়মান শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

এ ছাড়া তার স্মরণে কোচির পেরুমানুরে একটি রাস্তার নাম রাখা হয়।

ক্লিন্টের আঁকা শেষ চিত্রকর্মের পেছনের গল্পটি কেউ কল্পনাও করতে পারে না। তাদের চেনার চেয়েও অচেনা।

লোককাহিনী এবং ধর্মীয় নৃত্যগুলো কেরালার সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অঙ্গ। তবে এসব কিছুই ক্লিন্টকে মোহিত করে বলে মনে হয় না।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পরে বাড়ি ফেরার পথে ক্লিন্ট, বাবা জোসেফের সঙ্গে প্রথমবারের মতো একটি ‘থিয়াম’ (পূজা-অর্চনার নিমিত্তে একপ্রকার নৃত্য) উপভোগ করল। দেখল মুচিলোত্তুকে, যার ভেতরে ভগবতীর বৈশিষ্ট্য, যিনি সর্বজনীন মা। যেখানে পারফর্মটি হচ্ছিল তার একটু দূরে সরে গেল ক্লিন্ট। বিষয়টি গভীরভাবে দেখতে থাকল। 

দু’মাস পরে ঘটনাটি ঘটল এইযে, সর্বজনীন মা ক্লিন্টের ক্যানভাসে নাচলেন। তার পরিপূর্ণ চিত্রকর্ম এটি। এখনো এটি তার অন্যতম সেরা কাজ হিসাবে রয়েছে।

এর বহু বছর পর তার পিতা-মাতা বুঝে নিয়েছিলেন চিত্রকর্মের আশপাশের ঘটনাগুলো। তাদের বিশ্বাস-ক্লিন্টের ওপর দেবতা ভর করে সর্বজনীন মাকে ছায়া দিচ্ছে। এ থেকে টের পেয়েছিল ছোট্ট এ শিশুসন্তানটি অনিবার্য পরিণতির ইঙ্গিত করছে।

তিরুবনন্তপুরমে ক্লিন্টের ছবিগুলোর একটি প্রদর্শনীর সময়, তারা ভিড়ের মাঝে থিয়ামের পারফরমার ও মেকআপ শিল্পীদের একটি দলকে পেয়েছিল। তারা ক্লিন্টের ছবিতে দেবতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। তারা এই অভিনয় শিল্পীদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে এমন সব উত্তর পেয়েছিল যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।

একজন মেকআপ শিল্পী তাদের বিশ্বাসের কথা জানান ক্লিন্টের চিত্র দেখে। তিনি তখন এই কথা বলেছিলেন- ক্লিন্টের প্রদর্শিত চিত্রটি হলো মুচিলোত্তু ভগবতীর থিয়াম। আমরা যখন থিয়ামের মেকআপের বিস্তৃত প্রক্রিয়াটি সম্পাদন করি; তখন আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এটি অসম্পূর্ণ রেখে যাই। আশঙ্কা করি যে মেকআপটি সম্পন্ন হলে শিল্পী শিগগিরই মারা যাবে। এই থিয়াম পুরোপুরি সম্পূর্ণ এবং নিখুঁত। ক্লিন্ট কি এ কারণেই তার পরিণতির কথা জানান দিয়ে মারা গিয়েছিল? এটা তর্ক সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে একটা কথা অনেকের মধ্যেই প্রচলিত আছে, যখন কেউ মারা যায় তখন সে মৃত্যুর আলামত রেখে যায়। 

ক্লিন্ট পৃথিবীতে সংক্ষিপ্ত সময় ব্যয় করেছিলেন, অথচ তার উদ্ধৃতিতে কী গভীর তাৎপর্য রয়েছে- ‘আপনি কত দিন বেঁচে থাকবেন তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপনি কীভাবে জীবনযাপন করেন।’

অ্যাডমান্ড থমাস ক্লিন্ট তার শিল্পের মাধ্যমে মৃত্যুকে হয়তো পরাজিত করে বেঁচে আছেন সকলের মাঝে।

নোট: ক্লিন্টের জীবন সম্পর্কে আরও বিস্তৃত জানতে আগ্রহী হলে পড়তে পারেন আম্মু নায়ারের A Brief Hour of Beauty উদ্ধৃতিসমূহ এই বইটি থেকে নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //