করোনাভাইরাসে চীনে একদিনে প্রাণহানি ২৪২ জনের, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৫৫

ছবি: আল জাজিরা

ছবি: আল জাজিরা

চীন থেকে ছড়িয়ে নতুন ও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস দেশটির হুবেই প্রদেশে একদিনেই কেড়ে নিয়েছে ২৪২ জনের বেশি মানুষের প্রাণ। এর ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৫৫ জনে।

গত বছরের শেষ দিন চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম এ ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ার পর থেকে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর খবর।

দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে, হুবেই প্রদেশে গতকাল বুধবার একদিনেই করোনাভাইরাস কভিড-১৯ মারা গেছেন ২৪২ জন। তাদের মধ্যে প্রদেশটির রাজধানী উহানে মারা গেছে ১৩৫ জন। 

এদিকে গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত নতুন ১৪ হাজার ৮৪০ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় চীনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার। এর মধ্যে হুবেই প্রদেশেই আক্রান্ত হয়েছে ৪২ হাজার ২০৬ জন।

চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে এ পর্যন্ত ফিলিপাইন ও হংকংয়ে দুই চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে নতুন এ ভাইরাসে। আর চীনের মূল ভূখণ্ডে এ পর্যন্ত যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে একজন জাপানি ও একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন, বাকিরা সবাই চীনা নাগরিক। 

চীনের বাইরে অন্তত ২৫টি দেশে আড়াইশর বেশি মানুষের দেহে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৩০ জানুয়ারি প্রাদুর্ভাবটিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

গত কয়েক দিন হুবেই প্রদেশে নতুন রোগীর সংখ্যা কমতে থাকায় আশাবাদী হয়ে উঠতে শুরু করেছিলেন চীনা চিকিৎসকরা। চীনে নতুন করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জয় নানশান বলেছিলেন, এ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলতি মাসেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে ও এপ্রিলের দিকে বিপদ পুরোপুরি কেটে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শেষ হয়ে আসছে- এমন কথা বলার সময় এখনো আসেনি। এখনো পরিস্থিতি যেকোনো দিকে যেতে পারে। 

প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মতো সমস্যা দেখা দেয়। 

ভাইরাসটি যাতে ছড়িয়ে না যায়, সেজন্য হুবেই প্রদেশকে পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে চীন। ওই অঞ্চলের সঙ্গে চীনসহ বাইরের দুনিয়ার সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। -আল জাজিরা ও বিবিসি

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh