চীনকে বোকা বানানোর দিন চলে গেছে : শি

তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ৭০ হাজার লোকের উপস্থিতিতে ভাষণ দেন শি জিনপিং। ছবি : ডয়চে ভেলে

তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ৭০ হাজার লোকের উপস্থিতিতে ভাষণ দেন শি জিনপিং। ছবি : ডয়চে ভেলে

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অবনমিত উপনিবেশ থেকে বৃহৎ শক্তিতে চীনের ‘অপরিবর্তনীয়’ উত্থানের প্রশংসা করেছেন। আজ ১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শততম বার্ষিকী  উদযাপন উপলক্ষে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এ প্রশংসা করেন। 

বিশেষ এ দিনটি উপলক্ষে রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ৭০ হাজার লোকের উপস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন জিনপিং।

এই তিয়েনআনমেন স্কয়ারে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং পিপলস রিপাবলিক অব চায়নার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই শি বলেন, চীনকে বোকা বানানোর দিন চলে গেছে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে উঠেছে চীন। যারা চীনের সাথে লাগার চেষ্টা করবে, তাদের মাথা ভেঙে দেয়া হবে। 

একইসাথে তাইওয়ান প্রসঙ্গেও স্পষ্ট অভিমত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, তাইওয়ান চীনের অংশ। মূল চীন থেকে তাকে যদি কেউ আলাদা করতে চায়, তাহলে শাস্তি পেতে হবে।

তিনি আয় বৃদ্ধি ও জাতীয় গর্ব পুনরুদ্ধারের জন্যে পার্টির প্রশংসা করেন। এ সময়ে তার মাথার উপর ঝুলছিল মাও সেতুংয়ের বিশাল বড়ো প্রতিকৃতি। শি বলেন, এই পার্টি জাতীর পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছে। দারিদ্রের কবল থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছে লাখ লাখ চীনাকে। পাল্টে দিয়েছে বিশ্ব উন্নয়নের মানচিত্র।

মাও সেতুং স্টাইলের জ্যাকেট পরা শি আরো বলেন, চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবন একটি অপরিবর্তনীয় ঐতিহাসিক ধারাক্রমে প্রবেশ করেছে। চীনের মানুষ কেবল পুরনো মূল্যবোধ ভেঙে, নতুন মূল্যবোধ গড়ে তুলেছে। শক্তিশালী চীন গড়ে তুলেছে। যেখানে দারিদ্র্য নেই। অনটন নেই। দেশকে আরো উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরো বলেন, দেশের সামরিক শক্তি আরো উন্নত করতে হবে। সেনাবাহিনীকে আরো আধুনিক করে তোলা হবে। এক সময় চীনের মানুষদের হত্যা করা হতো। তাদের নিয়ে হাসাহাসি করা হতো। সে যুগ চলে গেছে। চীনে কমিউনিস্ট শাসন গড়ে উঠেছে। ১৪০ কোটির দেশের বিরুদ্ধে কেউ সে কাজ করার চেষ্টা করলে তার মাথা ভেঙে দেয়া হবে। গ্রেট ওয়াল অব স্টিলে মাথা থেতলে দেয়া হবে। 

প্রেসিডেন্টের কথা শুনে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। হাততালি দিয়ে তারা স্বাগত জানিয়েছেন শি জিনপিংয়ের কথা।

উল্লেখ্য, মাও সেতুং পরবর্তী চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা হিসেবে শি’কে বিবেচনা করা হয়। তার অধীনে কমিউনিস্ট পার্টি চীনে আরো ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছে। কোভিড মহামারী জয় থেকে শুরু করে বিশ্ব মঞ্চে অবস্থান শক্ত করা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এগিয়েছে চীন।

শি জিনপিং কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাব বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছেন। ২০১২ সালে তিনি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি হন এবং ২০১৩ সালের মার্চে  চীনের প্রেসিডেন্ট হন। এরপরই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরেন তিনি। তার সময়েই কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ৯ কোটির বেশি সদস্য রয়েছে এ দলে।

শি তার বক্তব্যে পার্টির প্রশংসা করার পাশপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভয়াল চেহারা তুলে ধরার কথাও ভোলেননি। এক্ষেত্রে তিনি জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তোলা ও নতুন চীনের গর্ব হিসেবে নিজের নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। 

এদিকে আড়ম্বরপূর্ণ ও দেশপ্রেমমূলক এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার গায়ক গায়িকা ব্যন্ডের তালে তালে দেশপ্রেমের গান পরিবেশন করে। তারা পতাকা নাড়িয়ে উল্লাস করে।

সাংহাইয়ে ১৯২১ সালের গ্রীষ্মে মাও ও মাক্সবাদী-লেনিনবাদী চিন্তাবিদরা মিলে এই কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর এটি বিশ্বের অন্যতম একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংস্থায় রূপ নেয়। -এএফপি ও ডয়চে ভেলে

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //