গৃহকর্মীর মানবাধিকার লঙ্ঘন: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

সাত বছর আগে রাজধানীর মিরপুরে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী খাদিজাকে মিরপুর থানা পুলিশ সুরক্ষা দিতে না পারায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তিন মাসের মধ্যে উপযুক্ত সুপারিশ বাস্তবায়ন করে কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের শুনানি শেষে খাদিজার নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে মর্মে এই নির্দেশ দেয়া হয়। ওই ঘটনায় তিন দফা সুপারিশ করা হয় বলে জানান এ সংক্রান্ত রিট মামলার আইনজীবী ইশরাত হাসান।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহানা সাঈদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘কমিশনের কাছে ভিকটিম খাদিজা বক্তব্য দেয়ার সময় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিচার চেয়েছে। ঘটনার সময় ভিকটিম খাদিজা মা হারা একজন অনাথ শিশু হিসেবে যে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, বর্তমানেও নির্যাতনের সেই ক্ষত তার মনে দাগ কেটে আছে।’

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এর আগে, খাদিজার ঘটনায় মানবাধিকার কমিশন ব্যর্থ বলে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

২০১৩ সালে রাজধানীর মিরপুরে গৃহকর্মী খাদিজাকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে চিঠি দেয়া হয়। এরপর পাঁচ বছর কেটে গেলেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

রিটের শুনানি নিয়ে আদালত ২০১৯ সালের ৯ জানুয়ারি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। এছাড়াও গৃহকর্মী খাদিজাকে নির্যাতনের ঘটনায় কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা জানাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিবকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন পর মামলাটির রুলের ওপর শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh