বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা শুনে গর্বে বুকটা ভরে গেছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাতিসংঘের শান্তি মিশনে কর্মরতদের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনারা বিশ্বে বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখবেন। 

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জামসহ বাংলাদেশের সকল শান্তিরক্ষী যাতে আরো আত্মবিশ্বাসের সাথে স্ব স্ব অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তার জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা অবশ্যই সবকিছুর ব্যবস্থা করব। এই প্রচেষ্টা আমাদের থাকবে।

আজ শনিবার (২৯ মে) ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২১’ উদযাপন অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সেনাকুঞ্জের এই অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যারা শান্তিরক্ষায় যাচ্ছে, তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করছি। সব ধরেনের সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করছি। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য যা যা প্রয়োজন সাথে সাথে তাই দেয়ার ব্যবস্থা করছি। সফরে বিশ্বের যখন যেখানে গেছি, সেখানে সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা আমাদের শান্তিরক্ষীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। গর্বে আমার বুকটা ভরে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। এটা গর্বের বিষয়, আপনারা বিশ্বশান্তি রক্ষায় কাজ করছেন। যেখানেই যাচ্ছেন, বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন। পরকে আপন করে নেয়ার মতো কাজটি করছেন। জানি আপনাদের কষ্ট হয়, বৈরী পরিবেশে দায়িত্ব পালন করছেন। এটা একটা চ্যালেঞ্জও। সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ-জটিল জায়গায় আমাদের শান্তিরক্ষীরা সফলভাবে কাজ করছে। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের নিয়ে আমি গর্ববোধ করি।

শান্তিরক্ষী বাহিনী কর্মরত নারীদের প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন, নারী পাইলটদের নিয়ে খুব গর্ববোধ করি। এখন সব জায়গায় মেয়েদের একটা ভালো সুযোগে আছে।

বাংলাদেশ যুবশক্তিকে বিশ্ব শান্তির অন্যতম নিয়ামক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কারণ আমাদের তরুণ সমাজ, তারাও যেন এটা শেখে- শান্তিই একমাত্র উন্নয়নের পথ, শান্তিই নিরাপত্তার পথ, শান্তিই মানুষের কল্যাণের পথ। সেই পথে যেন সকলে যেতে পারে বা সেভাবে যেন তৈরি হয়, আমরা সেটা চাই।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে বিভিন্ন দেশে এখন অসহিষ্ণুতা, অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে উল্লেখ করে এই সময়ে অত্যন্ত ধীর স্থিরভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।

শান্তিরক্ষায় কর্মরতদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালন করা হয়।

শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্য এবং আহত শান্তিরক্ষীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর একটি বিশেষ উপস্থাপনাও পরিবেশন করা হয়।

সেনাকুঞ্জ প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন শহীদ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্য এবং আহত শান্তিরক্ষীদের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

সেনাকুঞ্জে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক ও অসামরিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh