ঢাকায় থাকার খরচ আরো বাড়লো

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

গত বছরের মার্চ মাসে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ মরামারির প্রভাবে বিশ্বের অনেক দেশের মতোই বাংলাদেশেও বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম। অন্যদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মহামারিতে পরিবারভিত্তিক মাসিক আয় প্রায় ৪ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে গেছে।

‘কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ক্যাব) এ তথ্য মতে এ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬.৮৮%। যা গত তিন বছরে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৯ সালে এই বৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৬.৫০% ও ৬.০৮% এবং ২০১৮ সালে ছিল ৬% ও ৫.১৯%।মূল্যস্ফীতি ৬.৩১%  বেড়েছে।

ক্যাবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে চালের গড় ব্যয় প্রায় ২০%  বেড়েছে। দেশি ও আমদানি করা ডালের দাম বেড়েছে গড়ে ১৪.১৮% ।এরমধ্যে দেশি ডালের দাম ২৮.৮৯% এবং আমদানিকৃত ডালের দাম ৪৮.৪৫% বেড়েছে।ভোজ্যতেলের দামও গড়ে ৮.৯৭% বেড়েছে। এর মধ্যে খোলা পাম অয়েল ১৭.১৭% এবং খোলা সয়াবিন ১৪.২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।  চিনি এবং গুড়ের দাম কেজি প্রতি ২৫% এবং বিভিন্ন মশলার দাম গড়ে ২৪.৬৬%  বেড়েছে। এর মধ্যে এলাচ বেড়েছে ১০৪.১৮%, দেশি শুকনা মরিচ ৪০.৬৬%, সবুজ মরিচ ৩১.৯৬%, আমদানিকৃত আদা ৩১.০৪%, দেশি পেঁয়াজ ১৮.২৭%, আমদানিকৃত পেঁয়াজ ১৬.৮৩%, এবং আমদানিকৃত শুকনা মরিচ ৩০.৪৯% বৃদ্ধি পেয়েছে।

সবজির দাম গড়ে বেড়েছে ৯.৮৮% । এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে করলার দাম, ৩৪.৩০%। এছাড়া কাঁচা পেঁপে ৩১.১৬%, দেশি আলু ২৫.৫৫% এবং বিদেশি আলু ২৪.৮৬%  বেড়েছে।২০১৯ সালের তুলনায় গরু ও খাসীর মাংসের দাম ১০.৪৯%, মুরগির দাম ১০.৮৩% এবং ডিমের দাম ৫.৩২% বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া মাছের দাম গড়ে ৭.১৩% এবং গুঁড়ো দুধের দাম ৭.৬৪% বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে পানির দাম এক হাজার লিটারে ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, আবাসিক বিদ্যুতের গড় ব্যয় ৬.০৫% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাণিজ্যিক বিদ্যুতের গড় মূল্য ৪.৮১% বৃদ্ধি পেয়েছে।মধ্যবিত্তদের বাড়ি ভাড়া ৫.৩৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক বৃদ্ধি ফ্ল্যাট বাসা-বাড়িগুলোতে ৭.৮৫%, বস্তিতে ৩.৪৫% এবং মেসে বা সিটের ঘরগুলোতে ৩.৪৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মহামারিতে পরিবারভিত্তিক মাসিক আয় প্রায় ৪ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। ইতোমধ্যে, ক্ষুদ্রঋণ ব্যবসার সাথে জড়িত ৩৭% বা ৭০ লাখ মানুষ ২০২০ সালে চাকরি হারিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) এক জরিপে দেখা গেছে, ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোতে কর্মী ছাঁটাই ও বেতন হ্রাসের ফলে অন্যান্য খাতেও কর্মসংস্থানও হ্রাস পেয়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh