এনআইডি ইস্যু

মুখোমুখি অবস্থানে স্বরাষ্ট্র-ইসি

এনআইডি ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এনআইডি ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

জাতীয় পরিচয়পত্র কার দায়িত্বে থাকবে? এমন প্রশ্নে বিতর্ক চলছে বেশ ক’মাস ধরেই। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সাথে কয়েক দফা চিঠি চালাচালির মধ্যেই এনআইডির দায়িত্ব হস্তগত করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ।কিন্তু এই দায়িত্ব যে অত সহজে ছাড়বেন না সেটিও জানিয়ে দিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ নিয়ে অনেকটাই মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

‘‘জাতীয় পরিচয়পত্র কোন চেয়ার টেবিল নয় যে চিঠি দিয়েই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা তুলে নিয়ে যাবে’’- এমনটাই মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। এনআইডি কেন ইসিতে রাখা দরকার, তার পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরে সিইসি। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলছেন, যথাস্থানেই যাচ্ছে এনআইডির দায়িত্ব। এনআইডি জাতীয় সেবা। তাই থাকতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনেই। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

তবে, এনআইডি দায়িত্ব হাতছাড়া হলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব হবে। এবং সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হবে। এমন অভিমত দিয়ে আসছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্বের হাতবদল হলেই জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনে যথাযথ ব্যবস্থাপনা বা সেবার মান নিশ্চিত করা সম্ভব কি না-এমন প্রশ্ন থেকে যায়। এনআইডি’র দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে স্থানান্তর করা হলে সাংবিধানিক সংকট ও ইসির স্বাধীনতার কফিনে সরকারের শেষ পেরেক হিসেবে দেখছেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৭ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক চিঠিতে বলা হয়, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন দেশের উদাহরণের আলোকে সুরক্ষা সেবা বিভাগ এই দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বিবেচিত বিধায় সুরক্ষা সেবা বিভাগের দায়িত্বগুলোর মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্র আইন-২০১০ সংশোধন করে ‘নির্বাচন কমিশন’-এর পরিবর্তে ‘সরকার’ শব্দ অন্তর্ভুক্ত করে আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা যেতে পারে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল ইসি থেকে সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এরপর থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে শুরু হয় টানাপোড়েন। দায়িত্বটি ইসির কাছেই থাকছে, না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাচ্ছে তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে ইসি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সুশীলসমাজ, তথ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কাছেই যাচ্ছে। এ বিষয়টি স্পষ্ট করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ফের চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর আগে এনআইডি সেবা দেওয়ার দায়িত্ব নিজেদের কাছে রাখার যুক্তি দেখিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছিল ইসি। 

গত ৮ জুন জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কার্যক্রম নিজেদের কাছে রাখার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দেওয়া ইসি’র ওই চিঠিতে বলা হয়, এনআইডির কাজ অন্য বিভাগে গেলে ভোটার তালিকা করা ও তা হালনাগাদ, নির্বাচনসহ বিভিন্ন সমস্যা হবে, এটি সংবিধানবিরোধী। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইসিকে ফিরতি চিঠি দিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ২০ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব শফিউল আজিম স্বাক্ষরিত চিঠিটি ইসি সচিবকে পাঠানো হয়। ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্তকরণ’ শিরোনামে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, সরকার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম আইনানুগভাবে নির্বাচন কমিশন হতে সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এমতাবস্থায়, নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। 

এদিকে গতকাল বুধবার (২৩ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনে মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা টেবিল-চেয়ার না যে উঠিয়ে নিয়ে গেলাম। এটা নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। সেখানে আমাদের আরো যে যুক্তি আছে সেগুলো তুলে ধরব। এরপর সরকার কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে না নেবে এটা তো পরের কথা। এই কথা তো আমি বলেছি অনেকবার যে, কমিশন চায় এনআইডি আমাদের কাছে থাকুক। এনআইডি সেবা চলে গেলে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে অসুবিধা হবে। নিশ্চয়ই সচিব পর্যায়ে এ বিষয়ে কথাবার্তা হবে। আমাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো তাদের জানাব। 

সিইসি আরো বলেন, ‘সরকারের কাছে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত হয়েছে এরকম বলা যায় না। তারা নিতে চায়, আমরা দেব না এরকমও বলা যায় না। সেই রকম অবস্থানে আমরা নেই। আমাদের বসতে হবে তাদের সঙ্গে এটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কথা। বসে আমাদের যে অবস্থান আছে সেটা তাদের বোঝাব, সিদ্ধান্ত কী হবে তখনকারটা তখন দেখা যাবে। এখন তো আগেই বলা যাবে না।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া যথার্থ। এই বিষয়ে যেসব কথা হচ্ছে তা একেবারেই অবান্তর। আমরা জেনে-বুঝেই সবার মতামত নিয়ে এনআইডি সেবাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে দিয়েছি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে।

এই পদক্ষেপকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছেন খোদ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, কী উদ্দেশ্যে এই আত্মঘাতী ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আমার বোধগম্য নয়। নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এনআইডি স্থানান্তরের নির্দেশ কমিশনের অঙ্গচ্ছেদের নামান্তর। এ বিষয়ে কমিশনকে না জানানো নির্বাচন কমিশনের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশের শামিল। নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে এযাবৎকালে এমন ঘোরতর দুর্দিন আর আসেনি। এটি কমিশনের জন্য রক্ষাকবচ হলেও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এখন কোথায়। এটি সংবিধানের ১১৯ ধারার পরিপন্থী। আমি আশঙ্কা করি, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ অন্যত্র স্থানান্তর সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার অন্তিমযাত্রার আয়োজন।

ভোটার পরিচয়পত্র থেকেই বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)-এর ধারণাটি পোক্ত হয়। এনআইডি আইন করা হয় ২০১০ সালে। এতদিন নির্বাচন কমিশন এনআইডির দায়িত্ব পালন করে এলেও এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগকে এই দায়িত্ব দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সেটা করতে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব তৈরি করা, জাতীয় পরিচয়পত্র আইন সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশন থেকে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো সুরক্ষা বিভাগে হস্তান্তরের কাজ করতে হবে। তবে এর বিরোধিতা করছে নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিবকে গত ২৪ মে পাঠানো চিঠিতে এনআইডি’র কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগে ন্যস্ত করতে তাদের তিন ধরনের কার্যক্রম নিতে বলা হয়েছে : ১. জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন সংক্রান্ত সব ধরনের কাজ সুরক্ষা বিভাগে ন্যস্ত করতে রুলস অব বিজনেস-১৯৯৬-এর ১০ অনুসরণ করে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো। ২. জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০১০-এ ‘নির্বাচন কমিশন’-এর পরিবর্তে ‘সরকার’ শব্দ অন্তর্ভুক্ত করাসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা করা। ৩. সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কাজ পরিচালনার জন্য বিদ্যমান অববাঠামো ও জনবল নির্বাচন কমিশন হতে সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ সুরক্ষা বিভাগের অধীনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সেটা করতে হলে কিছু আইন ও অ্যালোকেশন অব বিজনেস সংশোধন করার দরকার আছে। সেটা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ করবে। তারা সেটা করলে তারপর আমরা কাজ শুরু করব। এখনো আইনগতভাবে কিছু করার অবস্থা এই ডিভিশনের হয়নি। তারা সেই কাজ করছেন। সেটা সম্পন্ন হলে সুরক্ষা বিভাগ কাজ শুরু করতে পারবে। এটা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অবকাঠামো ও জনবল হস্তান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন হলে তখন আমরা ওই কাজটি শুরু করতে পারব।

নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এর বিরোধিতা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। তারা বলছে, যে কাজটি নির্বাচন কমিশন করছে সেটা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করাতে গেলে নতুন জনবল ও অবকাঠামো তৈরিতে কোটি কোটি টাকা খরচ হবে। আর ভোটার আইডি কার্ড করতে গিয়ে কমিশন নাগরিকদের ৩২ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। তাই কাজটি কমিশনের হাতে থাকাই যুক্তিযুক্ত হবে।

সরকার আগেই অবশ্য এনআইডির দায়িত্ব থেকে নির্বাচন কশিমনকে বাদ দেওয়ার চিন্তা করেছিল, কারণ এনআইডি হবে দেশের সব নাগরিকের জন্য, শুধু ভোটারের জন্য নয়। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তাসহ আরো অনেক কাজে এটা ব্যবহারোপযোগী করতে চায়। গত আগস্টে এ নিয়ে সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগও আগ্রহ দেখায়। তবে শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগকে উপযুক্ত মনে করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে আছে-বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, কারা অধিদফতর এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকটি বিভাগের নাম জননিরাপত্তা বিভাগ। এর অধীনে আছে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। একজন সিনিয়র সচিব এই বিভাগের দায়িত্বে আছেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র বাংলাদেশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠৈছে। এখন এই পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ২২ ধরনের সেবা দেওয়া হয়। তবে ভোটার যারা, তারাই এখন জাতীয় পরিচয়পত্রের অধিকারী। শুরুতে ম্যানুয়েল থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্র এখন ডিজিটাল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এ পর্যন্ত ১৮ বছরের বেশি বয়স এরকম ১০ লাখ নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্টর বাংলাদশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে ভোটার তালিকা জড়িত, যা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের (নির্বাচন কমিশন) অধীনে রয়েছে। এটি তাদের অধীনেই থাকা উচিত। এখন নতুন আইন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া উচিত নয়।

কেন মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচিত নয় বা গেলে কি প্রভাব পড়তে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এনআইডির কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গেলে ভোটার তালিকা তৈরিতে প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি ভোটেও প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া এনআইডির অপব্যবহার হতে পারে। সেইসঙ্গে এটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হতে পারে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হলে অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতি আরো বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আমি মনে করি। এনআইডির সঙ্গে ভোটার তালিকার সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দায়িত্ব পেলে তখন ইসিকে ভোটার তালিকার জন্য মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হতে হবে। কিংবা দুই কর্তৃপক্ষের কাছেই তালিকা থাকতে হবে। এর ফলে এ নিয়ে যেমন দ্বন্দ্ব তৈরি হবে, তেমনি দুই কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের খরচও আলাদাভাবে লাগবে। ইসি যদি ভোটার তালিকা করে, আর এনআইডি অন্যরা করলে ওই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অন্য জটিলতাও সৃষ্টি হবে। আইনত নির্বাচন কমিশন আলাদা থাকবে। অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এরকম দাপ্তরিক যোগাযোগ থাকা ঠিক হবে না। অনেক দেশে ‘সিটিজেন রেজিস্ট্রেশন’ আলাদা কর্তৃপক্ষের কাছে থাকায় যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা আমরা দেখেছি। আমাদের এখানে সমস্যা এর চেয়ে বেশি হবে। সরকার একান্তই যদি মনে করে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা উচিত, সে ক্ষেত্রে তারা ভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করে ভিন্ন জনবল দিয়ে নতুন করে আলাদা পরিচয়পত্র তৈরি করুক। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অবকাঠামো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া ঠিক হবে বলে আমি মনে করি না।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh