রেকর্ড মৃত্যু, বেশি আক্রান্ত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেয়েছে

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেয়েছে

সীমান্তের জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণে বাড়ছে মৃত্যু। গত একদিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর মধ্যে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর বিভাগে মৃত্যুহার শঙ্কাজনক। কিন্তু এসব বিভাগের অধিকাংশ জেলায় করোনা শনাক্তে নেই আরটি-পিসিআর টেস্ট সুবিধা। কিছু জায়গায় জিন এক্সপার্ট ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন্ট টেস্টে রোগী শনাক্ত হলেও তা অপ্রতুল। ফলে টেস্ট করাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীকে, উপসর্গ নিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। 

সীমান্তবর্তী জেলার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাও এখন করোনার ‘হটস্পট’ হয়ে উঠছে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। এদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অনেক হাসপাতালে ইতোমধ্যে খালি নেই আইসিইউ শয্যা। জটিল রোগীকে বাঁচাতে তাদের স্বজনরা আইসিইউর জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছেন।

সীমান্তবর্তী জেলা-উপজেলার হাসপাতালের চিত্রও ভয়াবহ, খালি নেই শয্যা। মেঝেতে রেখেই চলছে অনেক রোগীর চিকিৎসা। তৃণমূল পর্যায়ে অনেক হাসপাতালে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সংকটও। অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। অধিকাংশ গ্রামের মানুষ করোনার নমুনা পরীক্ষা করছে না। অথচ তারা জ্বর-কাশিতে ভুগছেন। বেশির ভাগ হাটবাজারে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত। জোর করেও তাদের মাস্ক পরানো যাচ্ছে না। জনসমাগম এড়িয়ে চলার নির্দেশনাও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েও তেমন কাজ হচ্ছে না।

এদিকে দেশে গত এপ্রিলে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে। দেশে  এই ভ্যারিয়েন্ট মে মাসে ৪৫ শতাংশ ও জুন মাসে ৭৮ শতাংশ নমুনায় শনাক্ত হয়। বর্তমান দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সুস্পষ্ট প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

রবিবার (৪ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

আইইডিসিআর বলছে, বাংলাদেশে ২০২০ সালের  ডিসেম্বর থেকে এই বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিকোয়েন্স করা সকল নমুনায় আলফা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। মার্চ মাসে সিকোয়েন্সকৃত মোট নমুনার ৮২ শতাংশ বিটা ভ্যারিয়েন্ট ও ১৭ শতাংশ আলফা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এপ্রিল মাসেও বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমিতদের মধ্যে বিটা ভ্যারিয়েন্টের প্রাধান্য ছিলো।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষায় প্রাপ্ত ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কিত তথ্য জিনোম সিকোয়েন্সের বৈশ্বিক ডাটাবেজে জিআইএসএ আইডিতে জমা দেয়া হয়ে থাকে। যে ধরনের ভ্যারিয়েন্টই হোক না কেন, তা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণই করাই একমাত্র উপায়। এর সঙ্গে কোডিড-১৯ টিকাপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাকসিন নেয়া প্রয়োজন।

আইইডিসিআর জানায়, সারাবিশ্বে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসটি পরিবর্তিত হয়ে নতুন চেহারা ও বৈশিষ্ট্য ধারণ করছে, যা ভ্যারিয়েন্ট নামে পরিচিত। সংক্রমণের গতি রোগের জটিলতা (মৃত্যু হার ও হাসপাতালে ভর্তির হার), রোগ পরবর্তী ৩ টিকা গ্রহণ পরবর্তী রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা বিবেচনায় কিছু কিছু ভ্যারিয়েন্টকে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেমন আলফা, বিটা, গামা ও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাসটি ২০১৯ সালে প্রথম শনাক্তের পর থেকে এখনো পর্যন্ত অনেকগুলো ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশে সংক্রমিত মানুষের মধ্যে ভাইরাসটির ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের জন্য দেশে এ রোগটি শনাক্ত হওয়ার শুরু থেকে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর), আইসিডিডিআর,বি ও আইদেশী যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গত ডিসেম্বর হতে জুন পর্যন্ত মোট ৬৪৬টি সংগৃহীত কোভিড-১৯ নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করা হয়েছে। এ সকল নমুনায় কোভিড -১৯ এর আলফা ভ্যারিযৈন্ট (ইউকে-তে প্রথম শনাক্ত), বিটা ভ্যারিয়েন্ট (সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত), ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট (ভারতে প্রথম শনাক্ত), ইটা ভ্যারিয়েন্ট (নাইজেরিয়াতে প্রথম শনাক্ত), বি ১.১.৬১৮ ভ্যারিয়েন্ট (আনআইডেন্টিফাইড) শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে সংক্রমণ বাড়ায় রোগীর স্বজনরা আইসিইউর জন্য নানা উপায়ে দেন দরবা করেও আইসিইউ শয্যা ফাঁকা পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে তারা অন্য হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন। 

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, আমাদের হাসপাতালে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ ভাগ করে নতুন রোগী বাড়ছে। দুই সপ্তাহ আগে এমন পরিস্থিতি ছিলো না। আগামী কয়েকদিনেও হয়তো রোগী বাড়বে। এরপর লকডাউনের সুফল পাওয়া যেতে পারে। তবে এ মহামারি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh