জুলাইয়ে ভয়ংকর রূপ করোনার

ঢামেক হাসপাতালে শয্যা পাওয়ার লড়াই। ছবি: স্টার মেইল

ঢামেক হাসপাতালে শয্যা পাওয়ার লড়াই। ছবি: স্টার মেইল

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে। গেল জুলাই মাসে সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ দেখিয়েছে করোনা। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে যে পরিমাণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, গেল জুলাই মাসে প্রায় সমান মৃত্যু হয়েছে করোনায়। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬ হাজার ৯৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর শুধু জুলাই মাসেই মারা গেছেন ৬ হাজার ১৮২ জন। এছাড়া জুলাই মাসে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২৬ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে, যা জুন মাসের  তুলনায় তিনগুণ। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ওই মাসে মোট ৫১ জনের মৃত্যু হয়। এরপর এপ্রিলে ১৬৩ জন, মে মাসে ৪৯২ জন, জুনে ১১৯৭ জন, জুলাইয়ে ১২৬৪ জন, আগস্টে ১১৭০ জন, সেপ্টেম্বরে ৯৭০ জন, অক্টোবরে ৬৭২ জন, নভেম্বরে ৭২১ জন এবং ডিসেম্বরে ৯১৫ জনের মৃত্যু হয়।

এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ এ তিন মাস কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে করোনা পরিস্থিতি। জানুয়ারিতে ৫৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৮১ জন, মার্চে ৬৩৮ জন, এপ্রিলে ২৪০৪ জন, মে ১১৬৯ জন এবং জুনে ১৮৮৪ জনের মৃত্যু হয় এবং জুলাই মাসে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। জুলাই মাসে দেশে এখন পর্যন্ত সর্ব্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর আগে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় এপ্রিলে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৭ জন রোগী শনাক্ত হয়। মে মাসে শনাক্ত কিছুটা কম ছিল। এরপর জুনে আবার ১ লাখ ১২ হাজার ৭১৮ রোগী শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৮ জুন পর্যন্ত শনাক্ত রোগী ১ লাখ ছাড়ায়। ৩০ দিনের ব্যবধানে ১৮ জুলাই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখে। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ লাখে পৌঁছায় ২৬ আগস্ট। এর দুই মাস পর ২৬ অক্টোবর রোগীর সংখ্যা ৪ লাখ হয়। এরপর করোনা সংক্রমণের হার কমে যায়। সংক্রমিতের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়ায় গত ২০ ডিসেম্বর।

চলতি বছরে ২৯ মার্চ করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়ায়। শনাক্তের সংখ্যা ৭ লাখে পৌঁছাতে সময় লাগে ১৬ দিন। ১৪ এপ্রিল ৭ লাখ ছাড়ানোর ৪৭ দিন পর ৩১ মে রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ হয়। ৯ জুলাই ১০ লাখ ছাড়ানোর ১০ দিনের মধ্যে আরও ১ লাখ রোগী শনাক্ত হয়। ২৮ জুলাই রোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়ায়।

করোনা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় গত ১ জুলাই থেকে ১৪ দিনের জন্য ‘কঠোর’ বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন শুরু করে সরকার। তবে, ঈদ উদযাপনের জন্য আটদিনের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। পরে গত ২৩ জুলাই থেকে ফের দুই সপ্তাহের জন্য ‘কঠোর’ বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, গণপরিবহন এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিল্প-কারখানা খুলে দেয়া হয়।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //