নারীর ক্ষমতায়ন প্রচারে আইন তৈরির সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে চাকরিতে নারীদের সমান অধিকার প্রচারের জন্য কোনো আইন নেই। তাই সরকারের উচিত তৈরি পোশাক কারখানায় লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও নীতির ভিত্তি তৈরি করা।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে প্রেসক্লাবের তফাজ্জাল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে কোভিড-১৯ পরবর্তী জেন্ডার নীতি তৈরি’ শীর্ষক একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরতে গিয়ে এমন সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।

গবেষণা দলের পক্ষে গবেষণার ফলাফল ও সুপারিশ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি সাবেক অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষণা দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরে যে বিশাল জনশক্তি কাজ করছে; এই বড় জনশক্তি এক সময় কর্মশক্তির বাইরে ছিল। এখনও আমরা ঠিক চমৎকার কাজের পরিবেশ আমাদের নিশ্চিত করতে পারিনি। তবে আশার কথা হলো এই সেক্টর অবশ্যই মানুষের জন্য ন্যূনতম একটি জীবন যাপনের সুযোগ করে দিচ্ছে।

জালাল আহমেদ বলেন, যে সকল দেশ এখন আমাদেরকে উন্নয়নের ছবক দেন, তারাও একসময় আমাদের চাইতে খারাপ অবস্থায় ছিলেন। তারা ধাপে ধাপে উন্নতি করে আজকের অবস্থানে এসেছে। আমরাও ধীরে ধীরে অপেক্ষাকৃত ভালো জায়গায় উন্নীত হচ্ছি। আমাদের এটিও মাথায় রাখতে হবে আমাদের দেশের শ্রমিকদের উৎপাদন ক্ষমতা ভিয়েতনামের শ্রমিকদের প্রায় অর্ধেক। এসময় তিনি চাকরির বাজারে টিকে থাকতে শ্রমিকদের দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে অধ্যাপক সালমা ইসলাম বলেন, কোভিড-১৯ নারী কর্মীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। পুরুষদের তুলনায় বয়স্ক ও গর্ভবতী মহিলারা অসমভাবে তাদের চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে ছিল। করোনার কারণে কারখানাগুলো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করেছে এবং এগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা প্রমাণ করে শ্রমিকদের বিনা বেতনে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ওভারটাইমের ক্ষতি তাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নারীদের বিরুদ্ধে কারখানায় নির্যাতন বেড়েছে, বিশেষ করে মৌখিক অপব্যবহার, অসভ্যতা এবং চিৎকার। কারণ পুরুষ লাইন সুপারভাইজাররা তাদের অবাস্তব উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ করতে চাপ দিয়ে থাকে। চাকরি হারানোর ভয়ে নারীরা অভিযোগ করতে ভয় পায়। নারী শ্রমিকেরা তাদের অধিকারের ব্যাপারেও যথেষ্ট সচেতন নন। ফলে তারা অনেক ক্ষেত্রে অধিকার বঞ্চিত হন।

এ সময় পোশাক কারখানার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে একটি স্বাধীন ‘ওয়াচডগ’ প্রবর্তন ও ক্ষমতায়নের সুপারিশ করেন অধ্যাপক সালমা। এছাড়াও চাকরিচ্যুত নারীদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনা, কারখানাগুলোতে নারীদের যৌন নির্যাতন, হয়রানি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও অন্যান্য সুবিধাদানে মালিকপক্ষকে বাধ্য করতে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশও করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //