৪৫ বছর পর দেখা দুই বন্ধুর

সিরাজুল আলম খানকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন মাহবুব তালুকদার

সিরাজুল আলম খানকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন মাহবুব তালুকদার

একসময়ে তারা ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। রাজনীতি বিষয়ে একে অপরের পরামর্শদাতা। দিনরাতের আড্ডার সঙ্গী। আজও থাকেন একই শহরে। রাজধানীতে থাকলেও তাদের মধ্যে কোনো দেখা-সাক্ষাত নেই। এক বছর-দুই বছর নয়। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে দেখা হয়নি তাদের। 

একজন স্বাধীনতা পূর্ববর্তী প্রখ্যাত নিউক্লিয়াস গ্রুপের মূল ব্যক্তি রাজনীতিতে রহস্যপুরুষ বলে পরিচিত সিরাজুল আলম খান। অন্যজন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অন্যতম কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

লেখক ও রাজনৈতিক গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদের ফেসবুক পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, তখন ১৯৬২ সাল। তখন ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সেক্রেটারি শেখ ফজলুল হক মনি, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সিরাজুল আলম খান, কালচারাল সেক্রেটারি মাহবুব তালুকদার। মাহবুব তালুকদার আবার ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার এবং ছাত্রলীগের একুশে সংকলনের সম্পাদক। তার সঙ্গে দুজনের ‘তুই’ সম্পর্ক, শেখ মনি আর সিরাজুল আলম খান। ঘনিষ্ঠ বন্ধু তারা। শেখ মনি আর নেই।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অন্যতম কমিশনার মাহবুব তালুকদার, লেখক-গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ ও স্বাধীনতা পূর্ববর্তী প্রখ্যাত নিউক্লিয়াস গ্রুপের মূল ব্যক্তি সিরাজুল আলম খান

দেখা না হলেও পুরোনো দিনের কথা কে ভুলে! পুরোনো সে দিনের কথা তারাও ভুলতে পারেননি। রাজনীতি বিষয়ে প্রখ্যাত লেখক মহিউদ্দিন আহমদের মধ্যস্থতায় মাহবুব তালুকদার আর সিরাজুল আলম খান পরস্পরের সঙ্গে দেখা করার ও কথা বলার আগ্রহ দেখালেন। দুজনের হৃদয়েই বেজে উঠলো ফের রবীন্দ্রনাথের সেই স্মৃতিকাতর গান, ‘ আবার দেখা যদি হল, সখা, প্রাণের মাঝে আয়।’

অবশেষে বুধবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে মাহবুব তালুকদার লেখক মহিউদ্দিনকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেলেন সিরাজুল আলম খানের কাছে। বন্ধুর জন্য বই আর ফল নিলেন। পথে পড়ল বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। বন্ধুর জন্য কিনলেন সন্দেশ।

বন্ধু মাহবুব তালুকদারকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন সিরাজুল আলম চৌধুরী

ঘরে ঢুকেই দুজন দুজনের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। ‘কী রে, কেমন আছিস’ বলে কথা শুরু হলো দুজনের। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর দেখা হলো দুজনের। তৈরি হলো এক আবেগঘন পরিবেশ। দুজন দুজনের মুখে সন্দেশ তুলে দিলেন। তারপর ঘণ্টাখানেক আড্ডা, কফি পান, স্মৃতিচারণ। ফেলে আসা দিনগুলোর কথা- তাঁদের বন্ধুদের আর কে কে বেঁচে আছেন, কোথায় আছেন। অসম্ভব সুন্দর এক সন্ধ্যার আবহ তৈরি হলো।

দুজনেই ৮০ পেরিয়েছেন। ভগ্ন স্বাস্থ্য। ছলছল চোখে পরস্পরের কাছ থেকে বিদায় নিলেন তারা। কে জানে তাদের আর দেখা হবে কিনা।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //