করোনা সংক্রমণ বাড়লে আবারও স্কুল বন্ধ হবে : প্রধানমন্ত্রী

দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার বেড়ে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবারও বন্ধ হবে; আর বিষয়টি মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের সময়কে কাজে লাগাতে ও ক্লাসে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটা মানুষ মারা গেল আর ১৫টা গাড়িতে আগুন দিলেন, এতে যারা আহত বা নিহত হলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হলেন; সেই দায়িত্বটা কারা নেবে। তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তো তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।

আজ বুধবার (১ ডিসেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল উদ্বোধন এবং ধানমন্ডিতে জয়িতা টাওয়ারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মনে রাখতে হবে যে এই করোনা কিন্তু এখনও শেষ হয়ে যায়নি। আমরা ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছি, এখন শিক্ষার্থীদেরও দিচ্ছি। বর্তমানে আবার নতুন আরেকটা ওয়েব আসছে। কাজেই এটা মাথায় রাখতে হবে যদি এটা বিস্তার লাভ করে তাহলে যেকোনও সময় আবার কিন্তু সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। 

তিনি বলেন,তাই যেটুকু সময় পাওয়া যাচ্ছে সবাইকে অন্তত যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য আমি আরেকটা কথা বলবো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন করোনার জন্য বন্ধ ছিল। এখন সব স্কুল-কলেজগুলো খুলে গেছে। সবাইকে এখন পড়াশোনা করতে হবে। যার যার স্কুলে ফিরে যেতে হবে। 

রাস্তায় চলাচলে সাবধান হতে ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে সরকারপ্রধার বলেন, গাড়ি চালকদের যেমন ট্রাফিক আইন মানতে হবে এবং প্রশিক্ষণ নিতে হবে তেমনি যাত্রী ও পথচারীদেরও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তাদেরকেও ট্রাফিক নিয়ম মানতে হবে। কেউ গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড় দেওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটলে কেন দায় সবসময় চালকের উপর পড়বে? 

তিনি বলেন, অনেক সময় পথচারীর দোষে দুর্ঘটনায় হয়। তখন কেন সবাই রাস্তায় নেমে বাস বন্ধ করে দেন। সড়ক বন্ধ করে অচলাবস্থা তৈরি করা হয়? অনেক বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সেখানে কি যাত্রী থাকে না? তাদের কিছু হলে তার দায় কে নেবে? আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশি সতর্ক আছে। কেউ সড়কে নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে তাকে চিহ্নিত করা হবে। আর আগুন দেওয়ায় কেউ হতাহাত হলে কড়া শাস্তির আওতায় আনা হবে। 

অনুষ্ঠানে পরপর সিটি করপোরেশনের গাড়ির মাধ্যমে দুর্ঘটনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পর উত্তরেও একই ঘটনা, এই রহস্য আমাদের জানতে হবে। তদন্ত করে এর ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করা হবে। 

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেশি। তাই চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, সেটা দেওয়া হচ্ছে। তবে একজন চালক টানা কত ঘন্টা গাড়ি চালাতে পারবে সেটাও দেখতে হবে। আলাদা বিশ্রামাগার তৈরি করে দিতে হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

এক স্কুল শিক্ষার্থীর বক্তব্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাকে বলতে শুনলাম আমি গাড়িতে চড়ি, বাসে উঠিনি কখনও। আমরা ছোট থাকতে সব ধরনের যানবাহনে চলেছি। এমনকি ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর রিক্সা, ভ্যান, নৌকা, বাস এমনকি কাঁদামাটিতে হেঁটে সারাদেশ ঘুরেছি। বাংলাদেশকে চিনেছি বলেই উন্নত করতে পারছি। 

তিনি বলেন, গত ১২ বছরে আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক অগ্রগতি লাভ করেছি। আজ মানুষ অনেক উন্নত জীবন পাচ্ছে। ১৪ বছর আগের বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশে অনেক তফাৎ। এখনকার বাংলাদেশে আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেটা দেখছে চিরদিন কিন্তু এটা ছিল না। ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙা ছাত্রদের কাজ না। এটা করবে না। দয়া করে যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাও এবং লেখাপড়া করো।  

এসময় বাংলাদেশের উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী এবং নারীর উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিতে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //