মেয়াদ বাড়ানো করোনা টিকাগ্রহণ যতটা যৌক্তিক

সারাদেশে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্ধিত মেয়াদের ফাইজারের টিকার চতুর্থ ডোজ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মেয়াদ বাড়ানো টিকাগ্রহণে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সিংহভাগ সচেতন নাগরিক। তবে তাদের সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে অধিদপ্তর বলছে, এসব টিকাগ্রহণে কোনো ঝুঁকি নেই। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এসব টিকাগ্রহণে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আজ রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর মেয়াদ বাড়ানো টিকাগ্রহণে দেশবাসীতে আশ্বস্তের বার্তা জানান।

তিনি বলেন, টিকার মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ীই সব কাজ করা হয়েছে। টিকার চতুর্থ ডোজ হিসেবে ফাইজার-বায়োএনটেকের যে টিকা দেওয়া হচ্ছে, তার মেয়াদ মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ৩০ নভেম্বর থেকে ৭০ দিন বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন নিয়েই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার-বায়োএনটেক মেয়াদ বাড়িয়ে চিঠি দিয়েছে এবং টিকার মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বাড়িয়েছে। আর বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপস (নাইট্যাগ), জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ওই টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। আর যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, নিয়ম, প্রক্রিয়া মেনেই স্বাস্থ্য অধিদফতর টিকা দিচ্ছে। সুতরাং চতুর্থ ডোজে ওই টিকা নিতে কোনো সমস্যা নেই। যারা প্রক্রিয়াটা জানেন, সেসব গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে সঠিক নিউজ দিয়েছেন।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম বলেন, করোনা টিকার মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে একটি ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। টিকা নিয়ে কনফিউশনের কারণ নেই। মেনুফ্যাকশন কমিটি টিকা নিয়ে কাজ করে। তাদের সাথে কথা বলেই টিকার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এটি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। 

তিনি বলেন, কিছু গণমাধ্যমে খবর এসেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা ব্যবহার করছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর, তাই এর ব্যাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. শামসুল হক স্বাক্ষরিত  পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, ফাইজারের যে টিকার মেয়াদ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ছিল, তা বাড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজারের অনুমোদন নিয়েই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা হিমাঙ্কের নিচে মাইনাস ৯০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে জমাট অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়। মানুষের শরীরে প্রয়োগের আগে সাধারণ রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে টিকার ভায়াল রাখা হয় ৬ ঘণ্টা। তাতে সেটা আস্তে আস্তে গলে যায়। তখন ডাইলুয়েন্টের সাথে মিশিয়ে এই টিকা মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হয়।

এতে আরো বলা হয়, যেসব টিকার ভায়ালে বা বক্সের গায়ে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ রয়েছে, সেসব টিকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে গলানোর ৭০ দিনের মধ্যে অথবা মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখের মধ্যে যেটা আগে আসে, সে তারিখের মধ্যে টিকার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এই সময় উপস্থিত ছিলেন কোভিড সংক্রমণ মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মজিবুল হক, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. শামসুল হক, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2023 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //