উপজেলা নির্বাচন এবং আচরণ বিধিমালা চূড়ান্ত

সংশোধিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা-২০১৩ এবং উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা-২০১৬ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিধিমালা দুটির খসড়া চূড়ান্ত করে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে তাতে কোনো সংশোধন না দিয়ে সায় দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অশোক কুমার বলেন, সংশোধিত নির্বাচন ও আচরণ বিধিমালা ভেটিং হয়ে এসেছে। আমরা যেভাবে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম ঠিক সেভাবেই এটি ফেরত এসেছে। কোনো সংশোধনী দেওয়া হয়নি। এখন এসআরও নাম্বার জারি করার জন্য আজ (বৃহস্পতিবার) আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা যা দিয়েছিলাম সেগুলোই চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন শুধু এসআরও নাম্বার জারি করা হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরই বিধিমালা দুটিতে সংশোধনীর কাজে হাত দেয় ইসির আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটি। পরবর্তীতে ২০ ফেব্রুয়ারি কমিশনের ২৭তম সভায় সংশোধিত চূড়ান্ত খসড়ায় অনুমোদন দেয় কমিশন। সেদিন সভা শেষে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানান, সংশোধিত উপজেলা পরিষদের বিধিমালা বিষয়ে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় ভেটিং করে বিধিমালা দুটি গত বুধবার ইসিতে পাঠায়। গতকাল বৃহস্পতিবার এসআরও জারি করার জন্য পাঠিয়েছে ইসি।

যেসব বিষয়ে সংশোধন আনা হয়েছে—জাতীয় সংসদের মতো উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত বা বাতিলের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি দেখানো বা কারসাজির কারণে ফলাফল পক্ষাপাতদুষ্ট মনে হলে ওই ফলাফল স্থগিত করে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত দিতে পারবে ইসি। বিদ্যমান উপজেলা পরিষদ আইন ও বিধিমালায় এ অভিযোগে ফল বাতিলে এমন ক্ষমতা ইসির নেই। জাতীয় সংসদের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম হলে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে; স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমার ক্ষেত্রে ২৫০ জন ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা দেওয়ার বিধান বাতিল; শুধুমাত্র অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া; প্রতীক বরাদ্দের আগে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন লোক নিয়ে জনসংযোগ করতে পারবেন প্রার্থীরা; কোনো পদে সমান ভোট পেলে পুনরায় ভোটের পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ; প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ না পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রদত্ত ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হতো। উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এক লাখ টাকা, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭৫ হাজার এবং মহিলা সদস্যদের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা; পোস্টারে পলিথিনের আবরণ এবং প্লাস্টিক ব্যানার ব্যবহার বন্ধ; শব্দদূষণ কমানোর লক্ষ্যে মাইকের সাউন্ড ৬০ ডেসিবেলের নিচে রাখা; পোস্টার, ব্যানার সাদা-কালো অথবা রঙিন করা যাবে; চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানের নির্বাচনী ব্যয় ২৫ লাখ এবং মহিলা সদস্যদের এক লাখ টাকা; মনোনয়নপত্রে লিঙ্গ হিসেবে হিজড়াদের অন্তর্ভুক্ত; নির্বাচনী প্রচারণায় একটি অধিক শব্দ যন্ত্র (হর্ন) বা জনসভায় চারটির অধিক শব্দযন্ত্র (হর্ন) ব্যবহার করা যাবে না; উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের হুমকি, কাজে বাধা দেওয়া বা ভয় দেখালে তা ‘নির্বাচনী অপরাধ’ হিসাবে নির্বাচন বিধিতে নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বনিম্ন ছয় মাস ও সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ইতিমধ্যে ইসি জানিয়েছে, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। এবার প্রথম ধাপে ৪ মে ১৫৩টি, দ্বিতীয় ধাপে ১১ মে ১৬৫টি, তৃতীয় ধাপে ১৮ মে ১১১টি এবং চতুর্থ ধাপে ২৫ মে ৫২টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //