ব্যাংকখাতের বিপর্যয় ঠেকাতে প্রজ্ঞাপন জারি

দেশের ব্যাংকখাতের চলতি বিপর্যয় ঠেকাতে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আর্থিকখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। বেনামী ঋণ, তারল্য সংকট, উচ্চ খেলাপির হার, পরিচালক নিয়োগে পারিবারিক দৌরাত্ম ব্যাংক খাতকে সংকটে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, চাপ সামলাতে অধিকাংশ ব্যাংক ধারদেনা করে চলছে। পাশাপাশি ব্যাংকে সুশাসনের অভাব দেখা দেওয়ায় ব্যাংকগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সামনে ব্যাংকেখাতে দুর্ভোগ বাড়বে।

আজ মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছে। 

বাংলাদেশের ব্যাংকখাতের দুর্বলতা নিয়ে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলেও (আইএমএফ) সংস্কার পরামর্শ দিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংকগুলোকে কার্যকর দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ বা প্রোম্ট কারেক্টিভ অ্যাকশন (পিসিএ) ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। 

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিপর্যয়ের হাত থেকে ব্যাংকিং খাতকে উদ্ধার করতে সংশোধীমূল পরিকল্পনা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশোধনী পরিকল্পনায় ব্যাংকগুলোকে ক্যাপিটাল টু রিস্ক অ্যাসেট রেটিও (সিআরএআর), ক্যাপিটাল রেটিও (সিআর), কমন ইক্যুইয়িটি (সিইটি), নেট নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) এবং কর্পোরেট সুশাসনকে ভিত্তি করে ৪টি ক্যাটাগরিতে ভাগে করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। 

এসব সংশোধনী কার্যাবলী ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ থেকে বাস্তবায়ন করেত নির্দেশ প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের অভ্যন্তরে সব তফসিলি ব্যাংক ও বিদেশি ব্যাংকে কেন্দ্র থেকে শাখা পর্যন্ত প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। আর গৃহীত সংশোধনী কার্যাবলী বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভার অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাংকের সংকটে উত্তরণে নতুন করে সংশোধনী কার্যাবলী আগামী ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের আলোকে প্রস্তুত করার কথা জানানো হয়েছে।

যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পূর্ব নির্ধারিত পর্ষদ সভায় পরিচালকদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। এ নীতিমালা ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৭৭/ক ধারা, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার এবং তফসিলি ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমওইউ এর আলোকে করতে হবে এমন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  

সূত্র জানায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বর্তমানে সুনির্দিষ্টভাবে মার্জার নীতিমালা নেই। দুর্বল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বাধ্যতামূলকভাবে একে অপরের সঙ্গে একীভূত হতে পারে সেজন্য গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংক উদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। তবে এবার ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ বিপর্যয় ঠেকাতে সংশোধনী কার্যাবলী নিতে নির্দেশ দিয়েছে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংক সংশোধনী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপ নিজেরাই বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত ভাবে জানাতে বাধ্য থাকবে। যদি কোনো ব্যাংক একই সঙ্গে চারটির ক্যাটাগরির একাধিক বিভাগের অধীনে পড়ে, তবে সেই ব্যাংক খারাপ ক্যাটাগরিটিতে রয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে। পিসিএ শুরু করার পরে সংশোধনমূলক নির্দেশক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকা নামে জারি করা হবে। ব্যাংকের অবনতিশীল আর্থিক ও পরিচালন সূচক অবস্থার স্বাভাবিক উন্নতি বছরের মধ্যে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে একটি গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে। যা বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা নির্ধারিত একটি বিন্যাস করার পর প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত ধারার আলোকে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //