বয়স থাকুক বশে

দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না/সে যে আমার নানা রঙের দিনগুলি... 

রঙিন দিনগুলো হারানোর বেদনায় মুষড়ে না-পড়ে বরং স্বাভাবিক থাকুন। কথায় আছে, দেহের বয়স নয় বরং মনের বয়সই আসল। কিন্তু যেহেতু মনের বয়স বাইরে থেকে বোঝা যায় না, অথচ দেহের বয়স বোঝা যায়। তাই বয়সকে লুকিয়ে রাখা যায়, কিছু নিয়ম মেনে চললেই। 

তবে এজন্য নজর দিতে হবে খাবার-দাবার, ফিটনেস ও রোজকার রূপ-রুটিনে।

কখন, কী, কতোটা খাবেন  প্রায়ই এই কথাটা শোনা যায়,  ‘এটা খেয়ো না’, ‘ওটা ভালো না’ ইত্যাদি। কিন্তু প্রথমেই জেনে নেয়া দরকার কোনটা ত্বকবান্ধব, আর কোনটা নয়। তাজা সবজি ও ফলমূল বেশি খাবেন। তাজা খাবার ত্বককে সতেজ করে। তবে শর্করা, চর্বি একদম বাদ দেবেন না। ভাত বা এ জাতীয় খাবার ছাড়াও সবজির স্যুপ, রুটি খেতে পারেন। কিন্তু ডিপ ফ্রায়েড কিছু না খাওয়াই ভালো। 

মুরগির মাংস, ডিম সপ্তাহে তিনবার খেতে পারেন। সাথে প্রচুর সবজি নেবেন। মাছের প্রতি পক্ষপাতিত্ব বাড়াতে পারেন। কারণ মাছ আপনার বয়স কমাতে সাহায্য করবে। শাকপাতায় ভিটামিন ‘এ’ ও আয়রন থাকে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জন্য রঙিন ফল বা সবজি, যেমন কুমড়ো, পেঁপে, বিট, গাজর, আম বেশি উপকারী। দই ও ছানার মতো দুগ্ধজাত খাবারে প্রচুর ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। রাতে ঘুমানোর আগে এক কাপ গরম দুধের সাথে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে খান, ঘুম ভালো হবে। 

আমলকিও খেতে পারেন। প্রতিদিন চার-পাঁচটি কাজু বা অন্য কোনো বাদাম খান। এগুলো ত্বকে পুষ্টির যোগান দেয়। কোনো ভালো ডায়েটিশিয়ান দিয়ে ডায়েটস চার্ট তৈরি করে নিতে পারেন। 

সুন্দর থাকতে শরীরচর্চা সুস্থ ও সুন্দর দেহের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত ব্যায়াম। এতে ক্লান্তি কেটে গিয়ে শরীর মনে প্রশান্তি আসে। এছাড়া দেহে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, বাড়ে ফুসফুসের ক্ষমতা ও পেশিশক্তি। হাঁটা, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ অথবা ইয়োগা- এগুলোর যেকোনোটি বেছে নিতে পারেন। অ্যারোবিক্স, সাঁতার কাটা, সাইক্লিংও সমান কার্যকর। চাই কী, হালকা তালে নাচতেও পারেন। তবে সবচাইতে ভালো হয়, আপনার বয়স অনুযায়ী ফিটনেস প্রোগ্রাম তৈরি করে নিলে। 

কিছু সাধারণ ব্যাপার মেনে চলতে পারেন। যেমন- লিফট ব্যবহার না করে সিড়িতে ওঠানামা করুন। অল্প দূরত্ব হলে হেঁটেই যান। ভোরবেলার হাঁটা সবচাইতে ভালো। নইলে রাতে-বিকেলে যেকোনো সময় পা চালাতে পারেন।

নিজের যত্ন নিন

নিজেকে সময় দিতে হবে। ত্বকের জন্য তিনটি বিষয় খুবই দরকার- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সুরক্ষা ও আর্দ্রতা। যত পরিশ্রান্ত থাকুন না কেন, বাইরে থেকে ফিরে মেকআপ তুলে নিন। তৈলাক্ত ত্বকে ব্যবহার করুন ক্লিনজিং জেল আর ত্বক শুকনো হলে ক্লিনজিং মিল্ক। দিনে তিন-চার বার মুখ পরিষ্কার করুন। রাতে শোয়ার আগে ভালো ব্র্যান্ডের ময়শ্চারাইজার অথবা নাইটক্রিম নিতে পারেন। 

চোখের নিচের কালি দূর করতে ব্যবহার করুন আইক্রিম। ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কার রাখুন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বলিরেখা পড়তে শুরু করে। এক্ষেত্রে কার্যকর হলো অ্যান্টি রিংকল ক্রিম। বেশি বয়সে চুল পড়তে শুরু করে। এসময় তিনটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগী হোন- তেল, শ্যাম্পু ও কন্ডিশনিং। ফেসিয়াল মাসে একবারই যথেষ্ট। তবে ত্বকে যদি দাগ-ছোপ থাকে, তাহলে দুইবার করতে পারেন। 

তৈরি করুন নিজস্ব স্টাইল 

চুলের স্টাইল বদলালে বয়স্কভাব কেটে যায়। মুখ ও চুলের সাথে মানিয়ে চুল কাটুন। চুলে সুন্দর হেয়ার পিস লাগাতে পারেন। পোশাক পরবেন বয়স বুঝে। হালকা রঙকে প্রাধান্য দিন। গাঢ় রঙও ব্যবহার করতে পারেন। ব্যাগ ও জুতা যেন পোশাকের সাথে মানায়। কর্মজীবী নারীরা কাজের সাথে মানিয়ে পোশাক পরবেন। কর্মক্ষেত্রে বেশি গয়না না-পরাই ভালো। দিনের অনুষ্ঠানে পরতে পারেন হালকা রঙের শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ। রাতে জমকালো পোশাক। পোশাক খুব ভারী আর জমকালো হলে হালকা গয়না পরুন। প্রয়োজন, পরিবেশ ও ব্যক্তিত্বের সাথে মিলিয়ে তৈরি করুন নিজস্ব স্টাইল।

বয়স আটকে রাখার দাওয়াই

বয়স আটকে রাখার মূলমন্ত্র হচ্ছে মনের দিক থেকে ভালো থাকা। কথায় আছে, দেহের বয়স নয়, মনের বয়সই আসল। তাই মনটা যদি থাকে তরুণ, শরীরও থাকবে সজীব। সব সময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন। সংসারে অশান্তি, মতান্তর, সমস্যা থাকবেই, কিন্তু তাই বলে এসবে হারিয়ে যাওয়া চলবে না। শৈশবকে জিইয়ে রাখুন। দেখবেন, জীবন আসলে খুব সুন্দর।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh