করোনা পরিস্থিতিতে দেশের পর্যটন ও অর্থনীতি

দেশের সূচনালগ্ন থেকেই কোনো এক অদৃশ্য অজানা কারণে পর্যটন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হতে পারেনি। বাংলাদেশের পর্যটনের ৮০ ভাগই আউটবাউন্ড নির্ভর, আর শতকরা ১৫ ভাগ ডোমেস্টিক ও ৫ ভাগ ইনবাউন্ড ট্যুরের অন্তর্গত বলে সাধারণ হিসেবে ধরে নেয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পর্যটনের প্রভাব ও অংশগ্রহণ অনেক।

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যৎ পর্যটন উন্নয়নের জন্য বেশকিছু অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিবর্তন-পরিবর্ধন করছে, কিন্তু গত একবছরের বেশি সময় ধরে পর্যটন বাধাগ্রস্ত বা আংশিক অথবা পূর্ণ বন্ধ থাকায় এর সাথে সম্পৃক্ত কয়েক লাখ মানুষ তাদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

যদিও এইসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের চালিকাশক্তি ছিলো, কিন্তু আজকে এই অসহায়ত্বের দিনে তাদের দিকে দেখার কেউ নেই বা কেউ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসেনি। এইসব ক্ষতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে আছে ট্যুর গাইড, ট্যুর অপারেটর, হোটেল-মোটেল-রিসোর্টের মালিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, এয়ারলাইন্স-বাস-নৌজানের মালিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, লজিস্টিক কোম্পানির লোকবল, রেস্টুরেন্ট, সুভিনিয়োর শপ থেকে শুরু করে সকল ট্যুরিজম এলাকাগুলোর প্রতিটি ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

এই অংক করে ক্ষতির হিসাবটা বেড় করে নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দিতে পারি যে, আমরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতাম। যাইহোক এই মহামারি পরিস্থিতি কতো দিন চলবে আমারা কেউই বলতে পারি না, হয়তো নিরবেই অর্থনৈতিকভাবে শেষ হয়ে যাবে এর সাথে সংযুক্ত মানুষ।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও পর্যটন কেন্দ্রগুলো সচল রাখা যেতো, আমার অতি সামান্য সাধারণ বুদ্ধিতে যা বুঝি, তাই শেয়ার করছি-

১. মহামারি পরিস্থিতি বন্ধ হবে না, তাই এই মুহূর্তে নিউ-নরমালের এস ও পি মেনটেইন করে এবং বাইরে ১০০ ভাগ মাক্স পরিধান বাধ্যতামূলক করে এখনই সবকিছু খুলে দেয়া।

২. যে সকল প্রতিষ্ঠান গত তিন বছর (২০১৯-২০২০ অর্থবছর) পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারকে ট্যাক্স প্রদান করে এসেছে সেইসব প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩ বছরের জন্য ট্যাক্স হলিডে / রেয়াত দেয়া।

৩. সে সকল প্রতিষ্ঠান এই মহামারির সময়ে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি বলবত রেখেছে সে সব প্রতিষ্ঠানই দুই নং পয়েন্টের জন্য যোগ্য হবে।

৪. এয়ারপোর্টে ডোমেস্টিক এয়ারলাইন্স ট্যাক্স এবং সকল ইন্টারসিটি বাসের টোল আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত রহিত করা।

৫. বাংলাদেশ সরকারের তালিকাভুক্ত সকল ট্যুর গাইডকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসিক রেশন প্রদান করা।

৬. আগামী জানুয়ারি ২০২২ থেকে স্পেশাল ট্যুরিজম এরিয়া ট্যাক্স প্রণয়ন করা।

৭. প্রধান প্রধান ট্যুরিস্ট এরিয়াগুলোকে ট্যুরিস্ট পুলিশের অধীনস্থ করা, যেন তারা সার্বক্ষণিকভাবে এস ও পি এবং ভ্রমণ পিয়াসুদের মনিটরিং করতে পারে।

৮. সকল টিও-ননটিও ভুক্ত সংগঠনকে নিয়ে ট্যুরিজম বোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় কনভেনশন করা।

৯. বাংলাদেশের সকল আগমনী যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা (কর্মজীবী প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি)।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh