২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

২০২১-২০২২ অর্থ বছরের জন্য ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি ৯ লাখ টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের ১১ হাজার ৪৬৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকার এডিপি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার এডিবি বাদে এডিপি আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যা চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরের সংশোধিত এডিবির চেয়ে ২৭ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা (১৪ শতাংশ) বেশি।

স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব প্রকল্প বাদে চলতি অর্থবছরের জন্য মূল এডিপি ছিলো ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। পরে গত মার্চ মাসে ৭ হাজার ৫০২ কোটি টাকা কমিয়ে এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকায় সংশোধন করা হয়।

মঙ্গলবার (১৮ মে) অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় ২০২১-২২ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) খসড়া অনুমোদন দিতে এনইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় এনইসি চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। শেরেবাংলা নগর এনইসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। এ ছাড়া সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও কয়েকজন মন্ত্রী ও সচিব বৈঠকে সংযুক্ত হন। পরে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, এডিপিতে খাত হিসেবে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। এ খাতের বরাদ্দ প্রায় ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা (২৭.৩৫%)। অপরদিকে একক প্রকল্প হিসেবে বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এ প্রকল্পে ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এডিপিভুক্ত মোট প্রকল্পের সংখ্যা এক হাজার ৫১৫টি বলে মন্ত্রী জানান।

এডিপিতে দারিদ্র বিমোচন, জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃজন ও মানব সম্পদ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি, শিল্প ও সেবাখাত প্রবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আইসিটি শিক্ষার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ক্ষয়ক্ষতি পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রকল্প, সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক প্রকল্প ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) বাস্তবায়িত নতুন প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি’র সফল বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন তথা দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি), পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিববৃন্দ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : এডিপি বাজেট

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh