পোশাক মালিকদের নতুন আবদার

পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস অতিমারির ধাক্কা কাটাতে পোশাক মালিকদের প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। কয়েক দফায় ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানো হলেও ঋণের আরও সময় চাচ্ছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম মান্নান (কচি) নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে তারা পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাবদ রফতানিমুখী কারখানাগুলোকে যে প্রণোদনা ঋণ সুবিধা দেয়া হয়েছে, তা পরিশোধে ১৮ কিস্তির পরিবর্তে ৩৬ কিস্তি নির্ধারণ করার দাবি জানান।

গত বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর শিল্প খাতের জন্য প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকার। এর আওতায় শ্রমিকদের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতন পরিশোধ করতে ৪ শতাংশ সুদে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয় পোশাক খাতে। মালিকদের আবেদনে পরে জুলাই মাসে দেওয়া হয় আরও প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে দেওয়া এসব প্রণোদনা ঋণের ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড ইতোমধ্যেই তিন দফায় অতিরিক্ত ছয় মাসেরও বেশি সময় বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবারের বৈঠক নিয়ে বিজিএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সংকটময় সময়ে তৈরি পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখার নিমিত্তে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য প্রদত্ত ঋণ পরিশোধের কিস্তির সংখ্যা ১৮টির পরিবর্তে ৩৬টি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বিজিএমইএ নেতারা রুগণ কিংবা বন্ধ ১৩৩টি তৈরি পোশাক কারখানাকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের মূল ঋণ ও আয় খাতে নিট সুদ অবসায়নের দাবিও জানিয়েছেন।

এই সময়ে যেসব উদ্যোক্তারা নিরাপদে ব্যবসা বন্ধ করতে চান, তাদের জন্য ‘চ্যাপ্টার ১১’ (দেউলিয়া ঘোষণার মতো) এর অনুরূপ ব্যবসা থেকে প্রস্থান নীতি প্রণয়নের জন্য সরকারকে অনুরোধ করেন তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে কোভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে পোশাক শিল্পের কঠিন সময় দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং শিল্প এখনও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলো এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। আশা করা হয়েছিল যে মহামারি পরিস্থিতির উন্নয়নের সাথে সাথে পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে সমর্থ হবে। কিন্তু নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার ও সংক্রমণ শিল্পকে আবার নতুন করে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে।

বিজিএমইএর প্রতিনিধি দলে সংগঠনের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) খন্দকার রফিকুল ইসলাম ও পরিচালক এম এহসানুল হক ছিলেন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //