ইবির রাতের ক্যাম্পাস যেন ভূতের বাড়ি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

চারিদিকে গুমোট অন্ধকার। বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকলেও নেই লাইট। সন্ধ্যা হলেই তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে বাড়ে ভয়। দীর্ঘদিন বন্ধ ক্যাম্পাসে বেড়েছে ঝোপঝাড়। সেই সাথে বেড়েছে বিষাক্ত সাপের উপদ্রব। ঝোপঝাড় ও আলোহীন রাতের ক্যাম্পাস হয় ভূতুড়ে। কর্তৃপক্ষের নজরে পড়লেও লাইট লাগানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। ফলে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েই ক্যাম্পাসে চলতে হয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল হতে শেখ হাসিনা হলের প্রবেশপথ, শহীদ জিয়াউর রহমান হল থেকে লালন শাহ হলের পকেটগেট, ক্রিকেট মাঠ সংলগ্ন রাস্তা, প্যারিস রোড, রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের পেছনের রাস্তা, বিজ্ঞান অনুষদ থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদ যাওয়ার রাস্তা, থানা গেট, বিশ্ববিদ্যালয় লেক পুরোপুরি অন্ধকার থাকে। এসব রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকলেও লাইটের ব্যবস্থা নেই। কিছু স্থানে লাইট থাকলেও তা অকেজো। এমন আলো স্বল্পতায় রাতের ক্যাম্পাসকে মনে হয় ভূতের বাড়ি। 

এদিকে করোনাকালে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ঝোপঝাড় বেড়েছে। ফলে সন্ধ্যা হলেই ক্যাম্পাসে হাঁটতে বের হওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তা শঙ্কায় থাকেন। কেননা ক্যাম্পাসে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এছাড়াও বন্ধ ক্যাম্পাসে বেড়েছে চুরি ও মাদকসেবীদের আড্ডা। আলো স্বল্পতা ও রাতে আনসার সদস্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক এলাকায় বসে মাদকের আড্ডা। এছাড়াও আবাসিক এলাকা, হল ও একাডেমিক ভবনগুলোতে নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। 

এ বিষয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পিয়াস পান্ডে বলেন, ‘রাস্তায় হাঁটতে গেলে কখন জানি সাপে কাটে সেই শঙ্কা হয়। ক্যাম্পাসের অধিকাংশ রাস্তা অন্ধকার থাকে। ক্যাম্পাসকে দেখে মনে হয় ভূতের বাড়ি। অথচ নিরাপত্তাকর্মীরা সহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাসে ঘুরোঘুরি করেন। তবুও বিষয়গুলোর সমাধান করেন না। অতিদ্রুত ক্যাম্পাসকে আলোকিত চাই আমরা।’ 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা কর্মী জানান, ‘ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু রাস্তায় আলো স্বল্পতা রয়েছে। এসব স্থানে আলো না থাকায় আমাদের একটু বেশি সতর্ক থাকতে হয়। আলো না থাকায় দূর থেকে অনেক কিছু দেখা যায় না। এছাড়াও সাপের উপদ্রব তো রয়েছেই। ফলে আমাদের একটা বাড়তি চাপ নিতে হয়।’

রাতের বেলা ক্যাম্পাসে হাঁটতে বের হওয়া একাধিক  শিক্ষক বলেন, ‘হাতে লাইট নিয়ে আমাদের হাঁটতে বের হতে হয়। অনেকদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো আলোহীন। কর্তৃপক্ষ চাইলে বিষয়টি কয়েকদিনের মধ্যে সমাধান করতে পারে। অতিদ্রুত লাইট লাগানোর ব্যবস্থা করবে বলে আমরা আশা করি।’ 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা রোজদার আলী রূপম বলেন, ‘গত প্রায় দুইমাস আগেও প্রক্টর স্যারকে জানিয়েছি। হিসাব শাখায় ফান্ডের জন্য লিখিত আবেদনও দেয়া হয়েছে। সেটি এখনো পাশ হয়নি। কোথায় কোথায় লাইট নেই আমরা আবার আজ (সোমবার) খোঁজখবর নিবো। লাইটের ব্যাপারে আবার প্রক্টর স্যারকে জানাবো।’

বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশল বিভাগের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শরীফ উদ্দাীন বলেন, ‘অর্থ ও হিসাব শাখায় বাজেটের জন্য আমরা নোট দিয়েছি। সেটি এখনো পাশ হয়নি। এজন্য আমরা লাইট লাগাতে পারছি না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি প্রকৌশল অফিসকে অবহিত করেছি। আজকে আবারে অবহিত করবো। যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইটগুলো লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়।’  

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //