খোলা আকাশের নিচে ১৮ কোটি টাকার গাড়ি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গলার কাঁটা পরিবহন খাত। এই খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বছরে ব্যয় হয় প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা। বিশাল অংকের টাকা ব্যয় হলেও এ খাতে সেবা মিলে যৎসামান্য। সংশ্লিষ্ট খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গাড়ি সংখ্যা ৪৩। এসব গাড়ির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গ্যারেজ না থাকায় এসব গাড়ি প্রায় ২০ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। ফলে গাড়ির রং নষ্টসহ ব্যাটারি ও তেল চুরির ঘটনা ঘটে অহরহ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পালাবদল হলেও পরিবহন খাতের ভাগ্যবদল হয়না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ হতে আনা নেয়ার জন্য ক্যাম্পাসের নিজস্ব বাস রয়েছে ২২টি। এর মধ্যে শিক্ষকদের যাতায়াতের জন্য এসি কোস্টার বাস রয়েছে ৬টি। যার এক একটির মূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। সেই হিসেবে ৬টি বাসের মূল্য প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য সম্প্রতি দুটি নতুন হুন্দাই বাস ক্রয় করা হয়েছে। যার একটির মূল্য ৭০ লাখ টাকা। সেই হিসেবে দুটি বাসের মূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এছাড়াও শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য সর্বমোট বাস রয়েছে ১৪টি। কোম্পানি ভেদে এসব বাসের একটির মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। সেই হিসেবে ১৪টি গাড়ির মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য কোষাধ্যক্ষ, অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাসহ বিভিন্ন সেক্টরের ছোট-বড় গাড়ি রয়েছে ২১টি। এসব গাড়ির মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। সেই হিসেবে ৪৩টি গাড়ির বাজার মূল্য প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। 

সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যবহারের ৩০টি গাড়ি কুষ্টিয়ার কাস্টমস মোড়ের রাস্তার দুই পাশে রাখা হয়। সেখানে টিন দিয়ে ছোট একটি গ্যারেজ থাকলেও সর্বোচ্চ পাঁচটি গাড়ি রাখা যায়। বাকি গাড়িগুলোকে রাখা হয় খোলা আকাশের নিচে। ফলে এসব গাড়ির উপর দিয়ে রোদ, বৃষ্টি ও শীত কেটে যায়। এতে গাড়ির রং নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও অহরহ ঘটে ব্যাটারি ও তেল চুরির ঘটনা। ওই স্থানে গাড়ির নিরাপত্তা দেয়ার জন্য দিন-রাতে মিলে ছয়জন আনসার সদস্য রাখা হয়েছে। অনেক সময় ব্যাটারি ও তেল চুরির ঘটনা ঘটে। এতে দায়িত্ব অবহেলায় আনসার সদস্যদের জরিমানা গুনতে হয়। এছাড়াও বাকি গাড়িগুলো ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাখা হয়। এখানেও গাড়ি রাখার জন্য নির্ধারিত কোন গ্যারেজ নেই। ফলে রাস্তার দু’ধারে গাড়িগুলো রাখা হয়। এতে গাড়িগুলোর রং নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চুরির ঘটনা ঘটছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে, প্রায় ২০ বছর ধরে গাড়িগুলো ক্যাম্পাস ও কুষ্টিয়ার কাস্টমস মোড়ে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। তবে বিগত প্রশাসন গ্যারেজ করার জন্য কুষ্টিয়ায় জমি অধিগ্রহণের চিন্তাভাবনা করে। সে অনুযায়ী সিন্ডিকেটে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। তবে অদৃশ্য জটিলতায় জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি আটকে যায়। নতুন প্রশাসন আসার পরে বিষয়টির তেমন অগ্রগতি নেই। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাড়ি চালকরা। 

তারা অভিযোগ করে বলছেন, ‘নিজের সন্তানের মতো আমরা গাড়িগুলোকে আগলে রাখি। কেননা এগুলোর সাথে আমাদের আত্মার সম্পর্ক। গাড়ি চালিয়ে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। তাই গাড়িগুলো অযত্নে অবহেলায় থাকলে আমাদের কষ্ট হয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টির সমাধান চাই।’

এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জি. কে সাদিক বলেন, ‘গাড়িগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এগুলো অবহেলা ও অযত্নে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। বছর যায় বছর আসে নতুন গাড়ি ক্রয় করে প্রশাসন। কিন্তু এগুলোর যত্নে তারা উদাসীন। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই।’

এ বিষয়ে পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চিন্তাভাবনা করছে। তবে এই মুহূর্তে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জমি কেনার কোন পরিকল্পনা নেই। গাড়িগুলো রাখার জন্য ক্যাম্পাসেই স্থায়ীভাবে গ্যারেজ তৈরী করা হবে।’

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //