কৃষ্ণচূড়ার আভায় রঙ্গিন ইবি ক্যাম্পাস

চারিদিকে তপ্ত রোদ্দুর। কখনো রোদ্দুর সাথে ঊষ্ণ বাতাস। গ্রীষ্মের তপ্ত রোদ্দুরে জনজীবন হয়ে পড়েছে ওষ্ঠাগত। তবে কাঠফাটা রোদ ছাপিয়ে গ্রীষ্মে আরেকটি চিরচেনা রূপের দেখা মেলে। সেই রূপটি হচ্ছে রক্তের মতো রাঙ্গা কৃষ্ণচূড়া আর সোনালি ফুলের রঙিন আভা। এই চিরচেনা রূপটির দেখা মেলে শহর কিংবা গ্রামাঞ্চলে। যা তপ্ত রোদ্দুরকে ছাপিয়ে প্রকৃতি ও মানব মনকে স্পর্শ করে।

ঠিক একইভাবে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু ফুলে ছেয়ে গেছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এই বিদ্যাপিঠের মেইন গেট পেরিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেই হলুদে আচ্ছাদিত সোনালুর স্বর্গের দেখা মিলবে।

যেখানে রঙ ছড়াচ্ছে হলুদের বেশে প্রকৃতিতে আসা সোনালু ফুল। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি প্রায় ৫০টি গাছে দুলছে ঝলমলে সোনালু ফুল। যাতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও প্রকৃতিপ্রেমীদের চোখ আটকে যায়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আড্ডায় মুখরিত থাকে ডায়না চত্বর নামে পরিচিত স্থানটি। ক্লাস ও পরীক্ষার পাশ কাটিয়ে সেখানে বসে গল্প ও গানের আসর।

১৭৫ একর বিস্তৃত ক্যাম্পাসটির বিভিন্ন অনুষদ ও আবাসিক হলের সামনে ফুলগাছগুলোর দেখা মেলে।

ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, খালেদা জিয়া হল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে, শহীদ মিনারের পেছনে ও খালেদা জিয়া হলের ভেতরে ফুটেছে গ্রীষ্মের রঙে রাঙা কৃষ্ণচূড়া ফুল।

গাছগুলোর ডালে ডালে চোখ ধাঁধানো রঙের ঔজ্জ্বল্য ছড়াচ্ছে রক্তলাল কৃষ্ণচূড়া। দীর্ঘ ও  প্রসারিত গাছগুলোর ফুলের প্রাচুর্যে লাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাসের আকাশ-বাতাস। এ যেন লাল রঙের এক মায়াবী ক্যানভাস। যার চিত্রপটে শিক্ষার্থীরা আঁকছে হরেক রকমের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে কখনো ক্যামেরার ফ্রেমে আবদ্ধ করছে তারা। এভাবেই রক্তলাল কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু ফুল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মনকে আলোড়িত করছে। এছাড়াও জারুল, হিজলসহ গ্রীষ্মের সকল ফুলে ছেয়ে গেছে ক্যাম্পাসটি।

বাংলাপিডিয়া মতে, কৃষ্ণচূড়া Caesalpinieae গোত্রের Delonix regia প্রজাতির আকর্ষণীয় ফুলবিশিষ্ট গাছের সাধারণ নাম। এ গাছ মধ্যম থেকে লম্বা গড়নের মাথা ছড়ানো হয়ে থাকে। ফুল ফোটে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত। কমলা অথবা লাল রঙের আকর্ষণীয় ফুলের ডালের আগাছা গুচ্ছবদ্ধ। চিকন পাতা ও সুন্দর ফুলের জন্য সারাদেশে জনপ্রিয়।

বাহারি ফুলের রঙিন ক্যাম্পাস নিয়ে বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, রক্তের মতো টকটকে লাল কৃষ্ণচূড়ায় আচ্ছাদিত হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। এই ফুলকে যত দেখি তত মুগ্ধ হই। তাই গ্রীষ্ম এলেই মনের ক্যানভাসে উঁকি মারে সোনালু ও কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য।

ফুলের মনকাড়া সৌন্দর্যের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিম জানান, গ্রীষ্ম এলেই জারুল, কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু ফুলে প্রকৃতি স্বরূপে সজ্জিত হয়। ব্যতিক্রম নয় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি বলেন, সোনালু আর কৃষ্ণচূড়ার মিতালীতে ক্যাম্পাসটি এক টুকরো স্বর্গে পরিণত হয়েছে। যা স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। এই সবুজ বৃক্ষের ফুলের সমাহার ক্রমাগত মুগ্ধ করছে আমাকে।

এ কথা উপমেয় রূপ- রঙ ও গন্ধের যূথবদ্ধতায় গ্রীষ্ম নিসর্গের এ আয়োজন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ভালোবাসার এক অপার প্রাপ্তি। প্রকৃতির রুক্ষতা ও যান্ত্রিকতা রুদ্ধশ্বাস ভুলিয়ে যা আমাদের দেয় অপার স্বস্তি ও অনাবিল শান্তি।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //