নিয়োগ নিয়ে ছাত্রলীগের সাথে প্রভোস্টের দ্বন্দ্বে অফিসে তালা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আল-বেরুনী হলে দুই কর্মচারীকে নিয়োগ দেয়াকে কেন্দ্র করে হল প্রভোস্টের রুমে তালা ঝুলিয়েছে হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।  

আজ বুধবার (১৫ নভেম্বর) সকাল আট টায় নিরাপত্তা প্রহরী এবং অফিস সহায়কের নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলবেরুনী হল প্রভোস্টের অফিসে তালা ঝুলায় এবং প্রভোস্টের বাসার সামনে অবস্থান নেয় সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। 

এসময় সাধারন শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্ট কাছে চার দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো- তিনি হল প্রভোস্ট কিন্তু তাকে নিয়মিত পাওয়া যায় না বিভিন্ন কাগজ সাইন করানোর জন্য তার বাসায় যেতে হয়, কোনো সুবিধা অসুবিধার জন্য যোগাযোগ করা হলে নানান অজুহাতে এড়িয়ে যান, হলের পুকুর বহুদিন যাবত মশার কারখানা এই বিষয়ে বার বার বলা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেননি, হল কন্সট্রাকশনের ব্যাপারে তিনি উদাসীন হলের কাজ অর্ধেক বাকি থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি, হলের সামনে রাস্তার কাজে গাফেলাতি হলের সামনের ইটের স্তুপ জমা থাকলেও তা সরানোর কোন অবকাশ নেই, তিনি তার ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যাস্ত।

তবে সংশ্লিষ্ট হল সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর দুইটায় আলবিরুনী হলের চতুর্থ শ্রেণীর দুইজন কর্মচারী নিয়োগের অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। পছন্দের দুই প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার জন্যই শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুর রহমান এনামের নির্দেশে হল প্রভোস্টের রুমে তালা লাগায় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা।

এবিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম বলেন, আমি ঘুম থেকে ওঠার পর দেখি হলের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং হল প্রভোস্ট পরে আমি শিক্ষার্থীদের ডাকে নিচে আসি এবং বিষয়টা জানতে পারি যে তারা প্রভোস্ট স্যারের কাছে এসব দাবি দাওয়া জানাইছে এবং স্যারের সাথে এখানে আসছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর সাথে বলতে গেলে আমি একমত দাবিগুলো দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো। 

নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, আলবেরুনী হল ছাত্রলীগ হলে কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা ছাত্রলীগের সাথে কোনো প্রকার কথা বলে নাই। আমি এই বিষয়টা সম্পর্কে অবগত নই।  

নিয়োগ বোর্ডের দিনই কেন আন্দোলন করা হলো এবিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগের দিন আন্দোলন করা যাবে না এমন তো কোনো কথা নাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা তো এটাও মনে হয় জানে না যে আজকে বোর্ড আছে তার দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে আন্দোলন করেছে তবে আজকেই কেন করছে এবিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবে।  

তবে হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অফিস সহকারী ও নিরাপত্তাকর্মী দুইটি পদে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে আট লাখ করে মোট ১৬ লাখ টাকা নিয়েছে হল প্রশাসন। আর ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় পেশ ইমাম পদে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ১৭ লাখ টাকার ‘ডিল’ করে হল ছাত্রলীগ। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তাকর্মী ও অফিস সহকারী পদে নিজেদের প্রার্থীকে নিয়োগের দাবি জানায় ছাত্রলীগ। আর পেশ ইমাম পদে প্রভোস্টের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব করে। এ নিয়ে হল প্রশাসন ও ছাত্রলীগের মাঝে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ছাত্রলীগের প্রস্তাব গ্রহণ না করায় শাখা ছাত্রলীগের সহ—সভাপতি এনামুল হক এনাম, নাহিদ ও যুগ্ম সম্পাদক চিন্ময় সরকারের নির্দেশে হল অফিসে তালা দেয় নেতাকর্মীরা। 

এব্যাপারে হল প্রভোস্ট সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ছাত্ররা যে দাবিগুলো জানিয়েছে সেগুলো আগে কখনো আমাকে জানায়নি। আজ সকালেই হঠাৎ করে তারা আমার অফিসে তালা দিয়েছে। ১৯ তারিখে প্রভোস্ট কমিটির মিটিং আছে। সেখানে দাবিগুলো আলোচনা হবে। বোর্ড পোস্টপনড হওয়ার পরেই তারা তালা খুলে দিয়েছে। এখানে আমার আর কি বলার আছে? হলে অনেক আগে থেকেই মাস্টাররোলে একজন কর্মচারী পাঁচ বছর ধরে সার্ভিস দিচ্ছে। তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে তো আমি নিতে পারিনা। হলে নিয়োগের বোর্ড আছে। এখানে আমার একার কিছু করার নেই।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //