সব ট্রেনেই শিডিউল বিপর্যয়, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন শুক্রবার (৮ জুলাই) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সবকটি ট্রেনেরই শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে।

এর আগে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়। প্রথম দুই দিন কোনো শিডিউল বিপর্যয় না থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার কিছু ট্রেন বিলম্বে ছেড়েছে।

তবে শুক্রবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে অধিকাংশ ট্রেনই নির্ধারিত সময়ের দুই-তিন ঘণ্টা পর স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ঈদে ঘরমুখো মানুষ।

কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়,  প্ল্যাটফর্মে ট্রেন এলেই ভিড় ঠেলে কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের দিকে ছুটছেন সবাই। প্রতিটি ট্রেনেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ট্রেনের ভেতরে সামান্য জায়গা নেই। প্রতিটি ট্রেনই যাত্রীতে ঠাসা। প্রতিটি ট্রেনের দরজা মানুষের ভিড়ে বন্ধ।

এদিকে টিকিট কেটেও সিট পাননি অনেকে, উঠেছেন ছাদে। অনেকে টিকিট ছাড়াই দাঁড়াচ্ছেন প্লাটফর্মে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাদের থামাতে পারছে না।

সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মে যাত্রীরা ট্রেনের অপেক্ষায় বসে আছেন। কেউ কেউ পত্রিকা বিছিয়ে শুয়ে আছেন। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনগুলো ২ থেকে ৩ ঘণ্টা দেরি করছে। প্ল্যাটফর্মগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী দেখা গেছে। গরমে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের কষ্ট হচ্ছে।

ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কমলাপুর রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছাড়ার কথা সকাল ৬টায়। সেটি সাড়ে ৩ ঘণ্টা দেরি করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশন ছাড়ে। নীলফামারির চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছাড়ার কথা। এ ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে আসে সকাল সাড়ে ৯টায়। পৌনে ১০টার দিকে ট্রেনটি স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ছেড়ে যায়।

একই অবস্থা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের। এ ট্রেনটির সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের স্টেশন ছাড়ার নির্ধারিত সময়। এ ট্রেনটিও দেরিতে ছাড়বে বলে জানিয়েছে কমলাপুর স্টেশন কর্তৃপক্ষ। সকাল ১০টায় ট্রেনটি ছাড়ার সম্ভাব্য সময় থাকলেও বেলা ১১টা পর্যন্ত ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছায়নি। রংপুর এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা সকাল ৯টা ১০ মিনিটে। এ ট্রেনটি ৩০ মিনিট দেরি করে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে স্টেশন ছাড়ে। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে কর্ণফুলী কমিউটার ছাড়ার কথা। এ ট্রেনটি ৩০ মিনিট দেরি করে সোয়া ৯টার দিকে স্টেশন ছেড়ে যায়।

এদিকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কোথাও জায়গা না পেয়ে প্রথম শ্রেণির বিশ্রাম কক্ষের সামনের মেঝেতে পত্রিকা বিছিয়ে শুয়ে পড়েন ধানমন্ডির বাসিন্দা সাবিনা খানম। তিনি রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী। তিনি বলেন, ভোর থেকেই রেলস্টেশনে বসে আছি। অসুস্থ হওয়ায় বাসে যেতে পারি না। তাই কষ্ট করে অপেক্ষা করছি। কিন্তু ট্রেনের দেখা নেই। স্টেশনে দু’দিন অপেক্ষা করে ট্রেনের টিকিট কেটেছিলাম। কিন্তু যেতেও এমন ভোগান্তি ভাল লাগে না।

ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয়, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

রেলওয়ে সূত্র জানায়, রাজশাহী কমিউটার ট্রেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বিকাল ৪টার। যদিও ট্রেনটি যাত্রার সময় ছিল দুপুর  ১২টা ২০ মিনিটে। নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস বেলা ৩টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল, ৫টা ১৫ মিনিটেও ছেড়ে যায়নি।

রাজশাহী সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সন্ধ্যা ৬টায় সম্ভাব্য সময় দিয়েছে রেলওয়ে। তারাকান্দির যমুনা এক্সপ্রেস, সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামের সুবর্ণ এক্সপ্রেস— সবক’টি শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে। এ ট্রেনগুলো এখনও ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত আমাদের ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনের কথা ছিল। কিন্তু গার্মেন্টস ছুটি হওয়ায় হঠাৎ চাপ বেড়ে গেছে। এ সময়ে ৬০ হাজারের জায়গায় প্রায় দুই লাখ যাত্রী ট্রেনে যাত্রা করেছেন।

তবে যাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াও রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।


সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //