‘সিন্ডিকেট আতঙ্কে’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা!

রাজধানীর উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টর কাঁচাবাজারের সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন আতঙ্কে দিন পার করছে। আর সাধারণ ব্যবসায়ীদের এ আতঙ্ককে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে এ সিন্ডিকেট প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী এই প্রতিবেদককে এমনটাই অভিযোগ করে বলেছেন।

জানা গেছে, বাজারের দুটি পরিচালনা কমিটি থাকলেও নতুন করে আরও একটি পক্ষ এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে বলে জানা গেছে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিমত, গ্রুপগুলো এখন রীতিমতো মুখোমুখি অবস্থানে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত কাঁচাবাজারটি রাজউকের প্রায় ৬০ কাটা জমির ওপর গড়ে উঠে। সম্প্রতি রাজউক সব কয়টি প্লট নিলামে তুলে বিক্রির জন্য। রাজউক জমি নিলামে তোলার কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন বেশ আতঙ্কে আছে। আর এ আতঙ্ককে পুঁজি করে বাজারের ব্যবসায়ী নয় এমন একটি পক্ষ সাধারণ দোকানিদের কাছ থেকে মোটা টাকা দাবি করছে। রাজউকের নিলাম ঠেকানোর কথা বলে নতুন এ চক্রটি বাজারের প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান থেকে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ভাগ ভাটোয়ারা করে নিচ্ছে। কিন্তু রাজউকের নিলাম ঠেকানোর কথা বলে নেওয়া এ টাকা না দিলে দোকান বন্ধ করারও হুমকি দিচ্ছে চাঁদাবাজ চক্রটি। 

রাজউকের নিলাম ঠেকাতে না পেরে সেই চক্রটির কয়েকজন লোক দেখানো একটি মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে দেখা যায়, ৫০ থেকে ৬০ জন লোক দিয়ে কয়েকটি ব্যানার নিয়ে যারা মানববন্ধনে অংশ নেয় তাদের অধিকাংশ বাজারের ব্যবসায়ী নয় বলে জানিয়েছেন, কাঁচাবাজার ক্রেতা-বিক্রেতা সমবায় সমিতির যুগ্ম সম্পাদক খালেক সরকার। 

তিনি বলেন, এই বাজার তৎকালীন ১/১১ পর বিডিআরের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠা হয়। তাদের নির্দেশনাতেই ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি বাজার পরিচালনা করে আসছে। তাই আমার বক্তব্য হচ্ছে, আজকে যারা মানববন্ধন করেছে, তারা বাজারের কেউ না। 

মানববন্ধনের বিষয়ে বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলী রাজ বলেন, আমি দীর্ঘ দিন থেকে বিডিআর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের কল্যাণে কাজ করে আসছি। কিন্তু গত কয়েক মাস থেকে মোশাররফ সরকারের নেতৃত্বে আমাদের কমিটিকে পাশ কাটিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করছে।  

সাধারণ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দুই ভাই মোশাররফ সরকার ও তারই আপন চাচাত ভাই রুবেল সরকার বাজার জোরপূর্বক দখল করে নেয়। তাদের দখলে যাওয়ার পরই সাধারণ ব্যবসায়ীরা নানা হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে। এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কিউ কথা বলতে গেলে ভয়ভীতি দেখায়। এ দুই ভাইয়ের বাজারে কোনও দোকান না থাকলে তারা এখন মাতবর সেজেছে। তাদের এ কাজে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করছেন মহসিন সরকার, এমনটাই অভিযোগ। এই তিন জনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেও দখল চাঁদাবাজির অভিযোগ বেশ পুরনো। 

এ বিষয়ে মোশাররফ সরকারকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, এসব তথ্য মিথ্যা ও বানোয়াট। অপপ্রচার করে আমাদের দমাতেই এমনটা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2023 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //