জাতীয় দলে নতুনদের দরজা খুলছে

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে রাসেল ডমিঙ্গোর নিয়োগ পাওয়ার পরই নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন স্থানীয় কোচরা। 

বিশেষ করে কয়েক বছরের মধ্যে জাতীয় দল থেকে অবসর নেয়ার পর যারা কোচ হিসেবে বিভিন্ন দলের হয়ে কাজ করছেন তাদের জন্য সুযোগটা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসতে পারে। 

সেখানে কয়েকটি নামকে একটু আলাদা করা যেতে পারে। রাজিন সালেহ, আফতাব আহমেদ ও তালহা যুবায়ের কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছেন। কারণ এই তিনজনই এখন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) থেকে শুরু করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) কাজ করছেন। সেখানে দক্ষতার পরিচয়ে নিজেদের আলাদা করে রেখেছেন। এই সুযোগ আসার সম্ভাবনা তখনই তৈরি হয়, যখন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো তার সহকারী কোচ হিসেবে স্থানীয় কোনো কোচকে মনোনীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিগত দিনে কাজ করে যাওয়া কোনো কোচই এমন মন্তব্য করেননি। 

এই দক্ষিণ আফ্রিকানের লক্ষ্য, ২০২৩ বিশ্বকাপের পর যাতে স্থানীয় কোচের হাতে জাতীয় দলের দায়িত্ব তুলে দিয়ে যেতে পারেন তিনি। জাতীয় দলের সহকারী কোচ হওয়ার মতো অনেকেই ঢাকায় আছেন বলে মনে করেন এই কোচ। কার্যত স্থানীয় কোচরা নিজেদের সামর্থ্যে প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে। তাদের নিয়েই কাজ করে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে চান তিনি। 

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিপিএল ও ডিপিএলে তাদের সাফল্যে মুগ্ধ টাইগারদের কোচ। অনেক দিন থেকেই তাদের দেখছেন ডমিঙ্গো। বাংলাদেশ ঘরোয়া ক্রিকেট তথা বিপিএল, এনসিএল, বিসিএল ও ডিপিএলে স্থানীয় কোচদের মধ্যে অনেকেই সফল। একমাত্র বিপিএল বাদ দিলে বাকি সব ঘরোয়া ক্রিকেট আসরে স্থানীয় কোচরা প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন। 

রাজিন, আফতাব ও তালহার পাশাপাশি স্থানীয় সফল কোচদের তালিকায় নাম আসবে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, জাফরুল এহসান, মিজানুর রহমান বাবুল, মাহবুব আলী জাকি ও ফয়সাল হোসাইন ডিকেন্সদের নাম। তাদের অনেকেই বিসিবির অধীনে বিভিন্ন দলের হয়ে কাজ করছেন। এইচপি দল, বাংলাদেশ ‘এ’ দল এবং ইমার্জিং দলের হয়ে নিয়মিতভাবেই দেখা যাচ্ছে তাদের। এই যেমন সর্বশেষ আইসিসি যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল চ্যাম্পিয়ন হয়। যে দলের সাপোর্ট স্টাফে ছিলেন বাংলাদেশি দুই কোচ। বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন মাহবুব আলী জাকি এবং ফিল্ডিং কোচ হিসেবে ছিলেন ফয়সাল হোসাইন ডিকেন্স। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হওয়া এ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের বোলিং এবং ফিল্ডিং ছিল দুর্দান্ত। 

এ দুই কোচের কাজেও সন্তুষ্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাদের এই সাফল্য দেখে স্থানীয় কোচদের যুব দলের দায়িত্ব দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিসিবি। 

যদিও বর্তমানে যুব দল থেকে জাকি ও ডিকেন্সকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু দিন ধরে বিকেএসপিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনুশীলন ক্যাম্প চলছে। যে দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার মেহরাব হোসেন অপিকে, বোলিং কোচ হিসেবে রাখা হয়েছে সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার তালহা যুবায়েরকে। 

ঘরোয়া ক্রিকেটে স্থানীয় কোচদের তালিকায় নতুন কিছু নামও যোগ হয়েছে। সেই তালিকায় আছেন- রাজিন সালেহ, আফতাব আহমেদ, সৈয়দ রাসেল, ডলার মাহমুদ ও তালহা যুবায়ের। জাতীয় দলের সাবেক এই তারকা ক্রিকেটাররা কোচ হিসেবেও আলো ছড়াতে শুরু করেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লিজেন্ড অব রূপগঞ্জের প্রধান কোচ ছিলেন আফতাব আহমেদ। সেবার তার দল রানার্সআপ হয়েছিল।

রাজিন সালেহও কোচ হিসেবে সফল দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে। প্রধান কোচ হিসেবে জাতীয় ক্রিকেট লিগে সিলেটকে টায়ার-২ চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। সর্বশেষ বিপিএলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়ে সফল হয়েছিলেন রাজিন। চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তার দল রাজশাহী রয়্যালস। এছাড়া ডিপিএল, বিসিএলেও কাজ করছেন সহকারী কোচ হিসেবে।

তালহা যুবায়ের জাতীয় ক্রিকেট লিগে ঢাকা মেট্রোর তিনবার প্রধান কোচ ছিলেন। এছাড়াও ডলার মাহমুদ ও সৈয়দ রাসেলদের সাফল্যও চোখে পড়ার মতো।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh