প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলেই আশায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষাটা শেষ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। করোনাকালে কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর ইংল্যান্ড যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দিয়ে প্রথম ক্রিকেট মাঠে ফিরিয়েছিল সেই দলটিকে দিয়ে এবার বাংলাদেশের ক্রিকেট ফিরতে যাচ্ছে। 

১০ মাসের অপেক্ষার পর আবারো জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। শুরুতে সিরিজটি পূর্ণাঙ্গ থাকলেও সেখানে কাটছাঁট করা হয়েছে। তিন টেস্ট, তিন ওয়ানডে আর দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। কিন্তু সেখান থেকে দুইটি সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ম্যাচকে একেবারে বাদ দেয়া হয়েছে, হাত লাগানো হয়েছে টেস্ট সিরিজেও। একটি কমে এখন দুই টেস্ট খেলবে দুটি দল। আর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সবগুলোই থাকছে। সে হিসাবে তিনটি ম্যাচ কম খেলার কষ্ট নিয়েই সিরিজটি শুরু করতে হবে। 

আজ রবিবার (১০ জানুয়ারি) বাংলাদেশে আসছে বিশ্ব ক্রিকেটের একসময়কার এই পরাশক্তি দেশটি। যদিও এখন আর সেই শক্তি নেই। ক্ষয়ে ক্ষয়ে এখন মাঝারি মানের দলে পরিণত হয়েছে। সাফল্যও ধরা দিচ্ছে না আগের মতো। 

আর মাঝে মধ্যে উঁকি দেয় নানা সমস্যা। সেখানে বিদ্রোহের গন্ধ পাওয়া যায়। যেমনটি পাওয়া গিয়েছিল ২০০৯ সালে। মাশরাফি আর সাকিবের নেতৃত্বাধীন সেই সময়কার জাতীয় দল টেষ্ট ও ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়ে এসেছিল ক্যারিবিয়া দীপপুঞ্জের দেশটি থেকে। সে সময় প্রথমসারির প্রায় সবাই ছিলেন দলের বাইরে। আর মাশরাফিও একটি টেস্ট ম্যাচের অর্ধেকটা খেলতে পেরেছিলেন। এরপর আর সাদা পোশাকের ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাননি। 

ঠিক একই অবস্থার তৈরি হয়েছে এবারো। তবে কোনো বিদ্রোহ নয়, করোনা ভীতির কারণে বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার ছাড়াই বাংলাদেশে আসছে ক্লাইভ লয়েড, গর্ডন গ্রিনিজ, ডেসমন্ড হেইন্স, কোটনি ওয়ালশ, ব্রায়ান লারাদের উত্তরসূরিরা। এছাড়া প্রায় এক যুগ আগে পাওয়া প্রথম সাফল্যের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের কাছে কঠিন কোনো প্রতিপক্ষ নয়। পুরো শক্তি দলকে বেশ কয়েকবার হারানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে লাল সবুজ প্রতিনিধিদের। এবার দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে না নামার হতাশা কাটাতে এরচেয়ে বড় সুযোগ আর হতে পারে না। 

২০১৮-১৯ মৌসুমে টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকায় এসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সব মিলিয়ে দুই দল এখন পর্যন্ত টেস্ট খেলেছে ১৬টি। বাংলাদেশের জয় চারটি ও হার ১০। ড্র সাকুল্যে দুই। ওয়ানডে খেলেছে দুই দল ৩৮টি। বাংলাদেশের জয় ১৫ ও হার ২১। বাকি দুটি ট্রাই হয়েছে। 

মাশরাফিকে নিয়ে আশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি এ সিরিজে থাকছেন না। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পর সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বলেছেন, ’ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই দলের সাফল্য না পাওয়াটাই হবে আশ্চর্যের। কারণ সেরা দল না নিয়েও তাদের আমরা একাধিকবার হারিয়েছি।’

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh