পর্দা উঠল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের

বাছাই পর্ব দিয়ে আজ থেকে শুরু হল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর। মাসকটের আল আমেরাত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নেমেছে স্বাগতিক ওমান এবং পাপুয়া নিউগিনি। প্রথম ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন স্বাগতিক ওমান অধিনায়ক জিশান মাকসুদ।

দিনের আরেক ম্যাচে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপের প্রথমপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মাহমুদউল্লাহরা। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় লড়বে বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ড। 

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ভারতের মাটিতে। কিন্তু করোনার প্রকোপে সেটি ভারত থেকে সরে আসে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। তবে পুরো বিশ্বকাপের আয়োজক থাকছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডই।

প্রথমপর্বের দুই গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন এবং রানারআপ মিলে মোট চারটি দল মূলপর্বে খেলার সুযোগ পাবে। প্রথমপর্বে গ্রুপ ‘এ’তে রয়েছে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, নামিবিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’তে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে স্কটল্যান্ড, ওমান এবং পাপুয়া নিউগিনি।

বাছাইপর্বের ৮টি দল ছাড়াও সুপার টুয়েলভে দু’গ্রুপে আছে আরো আটটি দল। মোট ১৬ দল লড়বে এক ট্রফির জন্য। সুুপার টুয়েলভে গ্রুপ-১এ আছে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গ্রুপ-২'তে আছে ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তান।

আজ বিশ্বকাপের পর্দা উঠলেও এই আসরের মূলপর্ব বা সুপার টুয়েলভ শুরু হবে আগামী ২৩ অক্টোবরে। ৮ নভেম্বর শেষ হবে সুপার টুয়েলভের লড়াই। এখান থেকে দুই গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের সেরা চার দল সেমিফাইনালের টিকিট পাবে। ১০ ও ১১ নভেম্বর হবে দু’টি সেমিফাইনাল। প্রথম সেমি হবে আবু ধাবিতে, দ্বিতীয়টি হবে দুবাইয়ে। ১৪ নভেম্বর দুবাইয়ে হবে ফাইনাল। দুই সেমিফাইনালের দুই বিজয়ী দল ফাইনাল খেলবে। ফাইনালের জন্য রিজার্ভ-ডে রাখা হয়েছে। 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ছয় আসরের মধ্যে সর্বোচ্চ দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একবার করে শিরোপা জিততে সক্ষম হয়েছে চারটি দল। এগুলো দল হচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ইংল্যান্ড।

২০১৪ ও ২০১৬ সালের মতো এবারও বাছাই পর্ব খেলে সুপার টুয়েলভে যেতে হবে বাংলাদেশকে। রাউন্ড অব সিক্সটিন বা বাছাই পর্বে শ্রীলঙ্কার মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকেও খেলতে হচ্ছে। যদিও বাছাই পর্বে এ দু'দলের কোনো ম্যাচ নেই দুই গ্রুপে থাকায়। বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতেই টেস্ট খেলুড়ে দেশ দুটিকে দুই গ্রুপের প্রধান করে সূচি সাজিয়েছে আইসিসি। 

টানা ছয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে অভিজ্ঞতার ঝুলি পূর্ণ করে ফেলেছে বাংলাদেশ। সে অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয় যদিও। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসর বাদ দিলে গর্ব করার মতো তেমন কোনো পারফরম্যান্স নেই টাইগারদের। বরং ২০০৯ ও ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আইসিসির দুই সহযোগী দেশ আয়ারল্যান্ড (তৎকালীন) ও হংকংয়ের কাছে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। 

২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাছাইপর্বে ধর্মশালায় ওমানও দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপহার দিয়েছিল। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে নিয়েছিল অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে। এই বিশ্বকাপেও অভিজ্ঞতাই শক্তি টাইগারদের। কারণ প্রস্তুতির কথা চিন্তা করা হলে খুব একটা ভালো করেনি বাংলাদেশ। দেশে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে স্লো ও টার্নিং উইকেট বানিয়ে। যে ম্যাচগুলোতে উইকেট ভালো ছিল, মাহমুদউল্লাহরা তাতে জিততে পারেনি। ওই দুটি সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাস নিলেও ব্যাটিং বা বোলিং থেকে পেয়েছে ভুল আত্মবিশ্বাস বা 'ফলস কনফিডেন্স'। আমিরাতের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ হারে যেটা স্পষ্ট করে দিয়েছে বেশি করে।

টাইগারদের সমর্থন দিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ম্যাচের টিকিট কিনে রেখেছেন। সুতরাং গ্যালারির সাপোর্ট থাকবে লাল-সবুজের সঙ্গে। সব মিলিয়ে দেশের ভেন্যুতে খেলার মতো আমেজ থাকবে ওমানে। যেটা কাজে লাগিয়ে একটা ভালো শুরু উপহার দিতে পারে বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //