লিটন-মুশফিকের ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ

প্রথমদিনে লিটন-মুশফিকের দাপুটে ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ

প্রথমদিনে লিটন-মুশফিকের দাপুটে ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর ঘরে ফিরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ০-৩ ব্যবধানে হার। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য কাউকে না কাউকে তো দায়িত্ব নিতে হবে। সেই দায়িত্বই যেন কাঁধে তুলে নিলেন লিটন দাস আর মুশফিকুর রহিম। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচের প্রথম দিনে চট্টগ্রামে লিটন-মুশফিকের দাপুটে ব্যাটিংয়ে কিছুটা আলোর খোঁজ পেয়েছে লাল-সবুজের ক্রিকেট।

সাগরিকার পাড়ে ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানি বোলারদের শাসন করেন লিটন-মুশফিক। দাপুটে ব্যাটিংয়ে দু’জনের পার্টনারশিপ থেকে আসে অবিচ্ছেদ্য ২০৪ রান। প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ২৫৩ রান। টেস্টে অভিষেক সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া লিটন ১১৩ ও সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা মুশফিক ৮২ রান নিয়ে আগামীকাল (শনিবার) ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।

সকালে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। ইনিংসের প্রথম ওভারেই শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে কোন রান না করেই ফিরতে পারতেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। তবে উইকেটরক্ষক রিজওয়ানের হাতে বল ধরা পড়ার আগে যে সাদমানের ব্যাট ছুঁয়ে গেছে সেটি বুঝতে পারেনি সফরকারীরা। এ যাত্রায় বেঁচে যান সাদমান। তবে সুবিধা করতে পারেননি। হাসান আলীকে উইকেট দিয়ে ফেরেন ১৪ রানে।

তার আগে অবশ্য ইনিংসের পঞ্চম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির লাফিয়ে ওঠা বলে লাইন হারান সাইফ। যেটি জমা পরে আবিদ আলীর হাতে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যর্থ এই ব্যাটসম্যান আউট হন ১২ বলে ১৪ রান করে। ১৪ রানের গেরো কাটাতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্তও। নড়বড়ে ব্যাটিংয়ে ফাহিম আশরাফকে উইকেট দেন টেস্টে ‘অটো চয়েজ’ বনে যাওয়া শান্ত।

পয়া ভেন্যু চট্টগ্রামে অধিনায়ক মুমিনুল হকের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা দেশ। তবে এ যাত্রায় সতীর্থদের পথেই হাঁটলেন তিনি। ধীর-লয়ে ইনিংস শুরু করলেও সাজিদ খানকে উইকেট দেন ৬ রান করে। ৪৯ রান ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ দল। এরপরের গল্পটা কেবলি লিটন আর মুশফিকের।

৬৯ রানে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়া বাংলাদেশ দলকে দুই ব্যাটসম্যান দলকে টেনে তোলেন দ্বিতীয় সেশনে। চা বিরতির আগে স্বপ্নের মতো একটি সেশন পার করে বাংলাদেশ দল। এ সেশনে ১২২ রানের অবিচ্ছেদ্য ছুটিতে ব্যক্তিগত ফিফটির স্বাদ পান দু’জনই। তবে সেখানেই থেমে যাননি লিটন-মুশফিক। আর কোন উইকেট না হারিয়ে ১৭১ রান নিয়ে চার বিরতিতে যায় বাংলাদেশ দল।

লিটন ৬২ ও মুশফিক ৫৫ রান নিয়ে তৃতীয় ও শেষ সেশনের খাল শুরু করেন। তবে বিপদে হতে পারত ইনিংসের ৬৫তম ওভারে। ব্যক্তিগত ৬৭ রানে জীবন পান লিটন। আফ্রিদির করা বলে পুল করেন লিটন, বল সোজা মিড উইকেটে দাঁড়ানো সাজিদ খানের হাতে। কিন্তু তা লুফে নিতে ব্যর্থ হন সাজিদ। 

জীবন পেয়ে আর পেছনে ফিরে তাকাননি লিটন। ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। বাঁহাতি স্পিনার নুমান আলির করা ৭৮তম ওভারের তৃতীয় বলে মিড অফে ঠেলে দিয়ে ছুঁয়েছেন তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার। যদিও ফিল্ডারের সরাসরি থ্রোতে স্টাম্প ভাঙলে রান আউটই হতে হতেন লিটনকে। পঞ্চাশ রানের মাইলফলক ছুয়ে উদযাপন না করলেও সেঞ্চুরির পর ব্যাটে তুলে সতীর্থদের অভিবাদনের জবাব দেন।

শাহিন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলী, নোমান আলী, সাজিদ খানরা হতাশায় মুষড়ে পড়েন লিটন-মুশফিকের ব্যাটের কাছে। বিশ্বমানের পাকিস্তানি বোলারদের যেন মাটিতে নামিয়ে আনলেন এই দু’জন। এতে অপেক্ষা বাড়ল অভিষেক হওয়া ইয়াসির আলী রাব্বির। প্রথম সেশন থেকে দিনের বাকিটা সময় প্যাড পরে বসে থাকতে হলো তাকে। যদিও আলোক স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের পাঁচ ওভার আগেই শেষ হয় প্রথম দিনের খেলা।

তৃতীয় ও শেষ সেশটিও স্বপ্নের মতো কাটল স্বাগতিকদের। সেশনে ২৬ ওভার ব্যাট করেন লিটন-মুশফিক। কোন উইকেট হারাতে হয়নি বাংলাদেশ দলের। দাপুটে ব্যাটিংয়ে দুজনের পার্টনারশিপ থেকে আসে অবিচ্ছেদ্য ২০৪ রান। যেখানে চট্টগ্রামে পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটিতে নাম তোলেন লিটন-মুশফিক। যা টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষেও সর্বোচ্চ।

টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ২৫৩ রান। টেস্টে অভিষেক সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া লিটন ১১টি চার ও ১ ছক্কায় ১১৩ ও সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা মুশফিক ১০টি চারের মারে ৮২ রান নিয়ে আগামীকাল (শনিবার) ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।


মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //