চার ফিফটিতে জিম্বাবুয়েকে বড় লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে চার ফিফটিতে ভর করে বড় লক্ষ্য দিলো বাংলাদেশ। জিততে হলে তাদের ৩০৪ রান তুলতে হবে। এর আগে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২ উইকেটে ৩০৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

শুরুতে তামিম ইকবাল এবং লিটন দাসের ১১৯ রানের দুর্দান্ত উদ্বোধনী জুটি ভিত গড়ে দেয় বড় সংগ্রহের। এরপর আরো দুটি পঞ্চাশোর্ধ রানের জুটি গড়েন টাইগাররা। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার আগে লিটন দাস মাত্র ৪৫ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন এনামুল হক বিজয়ের সাথে।

এরপর বিজয় এবং মুশফিকুর রহিম গড়েন ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। ৭৬ বলে ৯৬ রানের এই জুটি ভাঙে বিজয় ৭৩ রান করে ফিরলে। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মুশফিকুর রহিম মিলে ২৪ বলে ৩৪ রানের জুটি গড়লে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৩০৩ রানের।

ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বেশ ধীরেসুস্থে খেলতে থাকে দুই ওপেনার। সকাল বেলা হারেরের স্পোর্টস ক্লাবের উইকেটে বোলারদের জন্য কিছুটা সুবিধা ছিল। আর এ কারণেই দুই টাইগার ওপেনার ব্যাট চালিয়েছেন রোডেশিয়ান বোলারদের সমীহ করেই।

প্রথম পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে অর্থাৎ ১০ম ওভারে তামিম ইকবাল দুটি চার মারলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫১। তবে পাওয়ার প্লে'র পরে রানের চাকা কিছুটা স্লথ হয়ে যায় বাংলাদেশের। দুই ব্যাটারই তখন আরও ধীর গতিতে খেলতে শুরু করেন। দুই ব্যাটারই ৬০ এর উপরে স্ট্রাইক রেট নিয়ে ব্যাট করছেন। এতেই দলের দ্বিতীয় ফিফটি ছুঁতে লেগে যায় ২৪ ওভার। প্রথম ফিফটি হতে যেখানে বাংলাদেশের লেগেছিল ৪৮ বল। সেখানে দ্বিতীয় ফিফটি হতে বল লেগেছে ৮৫টি।

দলের শতরান ছোঁয়ার আগে ওয়ানডেতে নিজের ৫৪তম ফিফটি তুলে নেন টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ফিফটি ছুঁতে তিনি খেলেছেন ৭৯টি বল। ইনিংসে ২৩তম ওভারের পাঁচ নম্বর বলে দুই রান নিয়ে পূর্ণ করেন ফিফটি।

ইনিংসের ২৪তম ওভারের পঞ্চম বলটি করতে আসেন সিকান্দার রাজা। অফ স্ট্যাম্পের ব্যাটের সামনের দিকটা খুলে দিলে বল থার্ড ম্যানকে পরাস্ত করে চলে যায় বাউন্ডারিতে। এতেই ৫৭ রান পূর্ণ হয় তামিম ইকবালের। আর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নাম লেখান এই মাইলফলকে।

আর ওয়ানডে ইতিহাসের ৩৩তম ব্যাটার হিসেবে আট হাজার রানের ক্লাবে তামিম। আর ২০তম এশিয়ান ক্রিকেটার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এর আগে ওয়ানডেতে নিজের ৫৪তম ফিফটি তুলে নেন টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ফিফটি ছুঁতে টাইগার অধিনায়ক খেলেছেন ৭৯টি বল। ইনিংসে ২৩তম ওভারের পাঁচ নম্বর বলে দুই রান নিয়ে পূর্ণ করেন ফিফটি।

তবে মাইলফলকে নাম লেখানোর পর ইনিংসটা বড় করতে পারেননি তামিম। ফিরেছেন ইনিংসের ২৬তম ওভারে সেই সিকান্দার রাজার বলেই। ২৬তম ওভারের চতুর্থ বলে রাজাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কাইয়ার তালুবন্দি হন তামিম। আউট হওয়ার আগে ৮৮ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন টাইগার অধিনায়ক।

তামিম ফেরার পর দলের হাল ধরেন লিটন দাস। দুর্দান্ত এক ফিফটি হাঁকালেন লিটন দাস। ক্যারিয়ারের ৭ম অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পর রান তোলার গতি বাড়িয়েছিলেন লিটন। ছুটছিলেন শতকের দিকে। থামতে হয়েছে লিটনকে, পায়ে টান লেগে মাঠ ছেড়েছেন স্ট্রেচারে করে। ইনিংসের তখন ৩৪তম ওভারের খেলা চলছিল, প্রথম বলে দৌড়ে রান নিতে গিয়ে পায়ে টান লাগে লিটনের। এরপর মাঠেই কিছুক্ষণ চিকিৎসা নেন এই ওপেনার। তবে কিছুতেই কিছু হয়নি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শে মাঠের মধ্য থেকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

সিকান্দার রাজার করা ৩৪তম ওভারের প্রথম বল আলতো করে অন সাইডে খেলেই দ্রুত রান নিতে ছোটেন লিটন। রানের শেষ পর্যায়ে তাকে দেখা যায় একটু খোঁড়াতে। পরে মাঠেই পড়ে যান তিনি। ফিজিও এসে চিকিৎসাও করেন তাৎক্ষনিক। তবে আর উঠে দাঁড়ানোর অবস্থা হয়নি। মাঠ ছাড়তে হয় তাকে স্ট্রেচারে করে।

মাঠ ছাড়ার আগে ৮৯ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন লিটন। দুর্দান্ত ইনিংসটি ৯ চার ও ১ ছক্‌কায় সাজান লিটন। এর আগে ফিফটি করতে তার লেগেছিল ৭৫ বল। পরের ৩১ রান আসে স্রেফ ১৪ বলেই। প্রিয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে আরও একটি ফিফটি করে ফেললেন লিটন কুমার দাস। ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৭৫ বলে পৌঁছলেন পঞ্চাশে।

৫৭ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তার সেঞ্চুরি ৫টি, ফিফটি হলো ৭টি। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩ ম্যাচেই সেঞ্চুরি ৩টি, ফিফটি ২টি। বাংলাদেশের সবশেষ ওয়ানডেতেও গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ফিফটি করেছিলেন লিটন।

২০১৯ সালের ৩১ জুলাই শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে খেলতে নেমেছিলেন এনামুল হক বিজয়। এরপর দীর্ঘ তিন বছরে ডাক পাননি জাতীয় দলের। তবে অবশেষে ফিরেছেন তিনি। আর ফিরেই নিজের প্রথম ওয়ানডেতেই তুলে নিয়েছেন ফিফটি। আট বছর পর ওডিআইতে অর্ধশতকের দেখা পেলেন তিনি। ক্যারিয়ারে এটি বিজয়ের চতুর্থ অর্ধশতক। বেশ ভালোই ব্যাট করছিলেন বিজয়। রানের চাকাও ঘোরাচ্ছিলেন জোরেশোরে। কিন্তু থামতে হলো ৬২ বলে ৭৩ রান করে।

এরপর বাকি সময়টা দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মেলে কাটিয়ে দেন। শেষ দিকে রিয়াদ ১২ বলে ২০ আর মুশফিকুর রহিম ৪৯ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২ উইকেটে ৩০৩ রান। জিম্বাবুয়ের হয়ে একটি করে উইকেট নেন ভিক্টর নিয়ুচি এবং সিকান্দার রাজা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩০৩/২ (তামিম ৬২, লিটন আহত অবসর ৮১, এনামুল ৭৩, মুশফিক ৫২*, মাহমুদউল্লাহ ২০*; এনগারাভা ১০-১-৬১-০, নিয়াউচি ১০-১-৭০-১, মাসাকাদজা ৫-০-৩১-০, জঙ্গুয়ে ১০-০-৫৬-০, বার্ল ১.১-০-৮-০, শুম্বা ৪.৫-০-২৭-০, রাজা ৯-০-৪৮-১, মাধেভেরে ১-০-৫-০)।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //