ক্রিকেটে নতুন কোচিং জুটিতে পরিবর্তন আসছে

কখনোই কোনো জাতীয় দলকে কোচিং না করা স্টিভ রোডস, চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বাংলাদেশে এসে সফলতা পেয়েছিলেন। এরপর রাসেল ডমিঙ্গোও এসেছিলেন একই অভিজ্ঞতা নিয়ে। কিন্তু তার নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই নানা কথা ছিল।

নিয়মিত পারফরমারদের বাদ দিয়ে নিজের মতো করে দল গঠন। এরপর সাফল্য পেলেও কাটেনি হতাশা। তারপর তো পরিস্থিতি বুঝে নিজে থেকেই পদত্যাগ করতে হয়েছে। এর পরই নতুন কোচ নিয়োগ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। 

এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে, তারা তিন ফরম্যাটের জন্য আলাদা কোচ নিয়োগ দেবে না। এক কোচের অধীনেই পরিচালিত হবে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি। এখন বেশ কয়েক বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে এক ‘প্রধান’ কোচ নীতিতে ফিরতে যাচ্ছে বিসিবি। 

২০২৩ সালটা বেশ ব্যস্ততার মধ্যেই কাটবে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের। সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়ে। রঙিন পোশাক-সাদা বলের বিশ্বকাপের বছরে হেড কোচ শূন্য এখন জাতীয় দল। সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে সিরিজেই পদত্যাগ করেছেন কোচ ডমিঙ্গো। নতুন কোচ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, তালিকায় বড় কিছু নামও আছে। আবার কোচিং নীতি নিয়েও চলছে নানা ধরনের  কথা।

গত বছর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, তারা ভিন্ন ফরম্যাটে আলাদা কোচ নিয়োগের কথা ভাবছেন। কারণ এত বেশি খেলা যে, একজন হেড কোচের পক্ষে সব সিরিজে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা সম্ভব হবে না। এরপরই জানা যায়, বিসিবি কোচিং প্যানেলে বিভক্তি চাইছে না। এখন আর দলে একাধিক হেড কোচ নিয়োগ নীতি থেকেও সরে আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, একজন হেড কোচ নিয়োগ দিয়ে তার একজন ডেপুটি কোচ রাখা যেতে পারে। যিনি হেড কোচের ছুটিতে দল সামলানোর সময় দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সিরিজের মাঝে যে কোনো একটা ফরম্যাটে হেড কোচের ভূমিকা পালন করবেন সহকারীদের কেউ কেউ। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীধরন শ্রীরাম হেড কোচের দায়িত্বে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিলেও অতটা কার্যকর ছিল না।

চলমান বিপিএলের পরেই বাংলাদেশের ইংল্যান্ড সিরিজ। ওই সিরিজের আগেই হেড কোচ ও কোচিং প্যানেল চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির। এরই মধ্যে বাংলাদেশে এসেছিলেন শ্রীরাম। অনেকে বলাবলি করছেন, কোচ হিসেবে নিজের মেয়াদ বাড়াতেই তার এ আগমন। এই ভারতীয়কে টি-টোয়েন্টি দলের স্থায়ী হেড কোচ করা হবে। তবে তাকে সহকারী কোচ করার সম্ভাবনাই এখন বেশি। 

বাংলাদেশ দলের পরবর্তী হেড কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন সাবেক কোচ হাথুরুসিংহে। এছাড়া মাইক হাসি, মোহাম্মদ কাইফ, রবিন সিং, ল্যান্স ক্লুজনাররা রয়েছেন আলোচনায়। এর বাইরে বিসিবি নতুন করে হেড অব প্রোগ্রাম (ডিরেক্টর অব কোচিং) পদ সৃষ্টির কথা ভাবছে। ওই তালিকায় অভিজ্ঞ টম মুডি ও রিচার্ড পাইবাসের নাম আছে সংক্ষিপ্ত তালিকায়। সে হিসেবে বড় পরিকল্পনার পথেই হাঁটছে দেশের ক্রিকেট পরিচালনাকারী সংস্থাটি।

এদিকে হাথুরুসিংহে, শ্রীরাম ছাড়া নতুন করে আলোচনায় রয়েছে জুলিয়ান উড। জাতীয় দলের জন্য একজন পাওয়ার হিটিং কোচ হিসেবে ইংলিশ এই কোচের নাম শোনা যাচ্ছিল বেশ জোরেশোরে। যদিও শেষ পর্যন্ত ওই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানে দায়িত্ব পালন করায় সাড়া দিতে পারেননি উড।

তবে এখন বাংলাদেশের কোচ হতে তিনি প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন উড। এবারের বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পাওয়ার হিটিং স্পেশালাইজড বটে কিন্তু তিনি ব্যাটিং কোচও। উডকে নিয়োগ দিলে সহকারী কোচ করা হতে পারে। 

বিসিবি চাইছে টেস্ট ও ওয়ানডের জন্য সাবেক হাথুরুসিংহেকে নিয়োগ দিতে। আর টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব শ্রীরামের হাতে তুলে দিতে। কিন্তু দুই কোচের সঙ্গে চুক্তিতে যেতে পারছে না বোর্ড। কারণ হাথুরুসিংহে চাইছেন তিন সংস্করণেই প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করতে।

আর শ্রীরামকে সহকারী হিসেবে চাইছেন তিনি। কিন্তু শ্রীরাম লঙ্কান কোচের অধীনে কাজ করতে চাইছেন না। শ্রীরাম টি-টোয়েন্টি দলের পুরো দায়িত্ব নিতে চাইছেন। এসবের বাইরে কোচ নিয়োগ দিয়ে নানা অপূর্ণতা আর অসঙ্গতি কাটাতে এবং দলকে পুরনো রিদমে ফেরাতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2023 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //