বিশ্বকাপ দল নিয়ে কেন বিসিবি সতর্কতা দেখাল

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেশে। ক্যারিবীয় দ্বীপেও খেলা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ক্রিকেটের সঙ্গে খুব একটা পরিচিত নন। তবে সেখানে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার প্রচুর নাগরিক বাস করেন। ফলে টিকিট সব বিক্রি হয়ে গেছে। জুনে বিশ্বকাপ হওয়ায় সবাই দল দেওয়া শুরু করেছে। সবার আগে নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে। এর পর একে একে সবাই। বাংলাদেশ তাড়াহুড়া করেনি। একটু বাড়তি সতর্ক ছিল তারা।

গাজী আশরাফ লিপু নতুন নির্বাচক। তিনি রয়েসয়ে জিম্বাবুয়ের সিরিজটির দিকে এক চোখ রেখেছেন। তবে কথা হয়ে গেছে ৯০ শতাংশ। মেহেদী হাসান মিরাজ নেই বিশ্বকাপে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাইফউদ্দিন প্রবেশ করেছেন দলে। তা হলে অপেক্ষা কার জন্য! কেনই বা এত গবেষণা? চোট সমস্যা কি! না প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও গাজী আশরাফ অন্য কিছু ভাবছিলেন। 

সৌম্য সরকারের চোট নিয়ে ছিল চিন্তা। হাথুরুসিংহের প্রিয় ছাত্র এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। জিম্বাবুয়ে সিরিজ তানজিদ হাসান তামিমকে বাজিয়ে দেখার ব্যাপার ছিল। সেটাও হয়ে যায়। সৌম্য বাদে ১৪ জনের নাম নিশ্চিত ছিল। অতিরিক্ত তিন ক্রিকেটার নেওয়া যায় অবশ্য। সেটার খরচ বিসিবির বহন করতে হবে। তবে বিশ্বকাপে গিয়ে চোটে পড়তে পারেন ক্রিকেটার সেটাও ভাবনার বিষয়। শান্ত, লিটন, রিয়াদ, সাইফউদ্দিন, হৃদয়, সাকিব, রিশাদ, মোস্তাফিজ, তানজিদ তামিম, জাকের আলী, মাহাদী, তাসকিন, শরিফুল ও তানজিম সাকিব মাথায় ছিল বোর্ডের। চিন্তার শুরুটা হয় সৌম্যকে নিয়ে। শ্রীলংকা সিরিজে তিনি চোট পান। তার জন্য বোর্ড সতর্ক ছিল। আর একটু বাড়তি কিছু তারা ভাবছিল। বেশ ওয়েল ব্যালান্সড দল বিশ্বকাপে। একটু অপেক্ষা করে পূর্ণ শক্তি চাইছিল বিসিবি। 

ক্রিকেট বিশ্বকাপ এলে বাংলাদেশ বেশ সতর্ক থাকে। একেবারের ডেট লাইনের কাছাকাছি দল ঘোষণা হয়। অবশ্য আরও একটা প্রসঙ্গ তো ছিলই। দলের সবচেয়ে আলোচিত ব্যাটসম্যান লিটন দাসের ফর্ম। বাংলাদেশ দলে আলটিমেট ক্রিকেটার তিনি। তাকে বিশ্রাম বা বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ আনা বেশ কঠিন। অবশ্য অবিশ্বাস করার মতো তেমন কিছুই নয়। তার সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। জাকের কিপিং পারেন। পারভেজ ইমন বা বিজয়ও অপশন ছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলের ১৪ জন নিশ্চিত হওয়ার পরও বাংলাদেশ একটু গবেষণা ও দেরি করেছে। 

মাহমুদউল্লাহর ফিটনেস ইস্যু ছিল। কিন্তু তিনি ব্যাটিং ও টেকনিকে ঠিকঠাক থাকায় বেঁচে গেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে হেলদি একটা আবহাওয়া। বিশ্বকাপ দল দেওয়ার আগে একটু সতর্ক হতে চেয়েছেন ক্রিকেট বোর্ডের নতুন নির্বাচকমণ্ডলী। সাইফউদ্দিনও ইয়েস নো, ইয়েস নো পজিশনে ছিলেন। 

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট কাঠামো নেই। বিশ্বকাপ উপলক্ষে জাহাজে করে পিচ আসছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড থেকে। ড্রপ ইন উইকেটে খেলা। রানের ফোয়ারা ছুটবে। ফলে সবাই ভালো ৫-৬ জন ব্যাটসম্যান ও অলরাউন্ডার চাইবে দলে। লেগ স্পিনের পাশাপাশি বিগ হিট নিতে পারেন রিশাদ। তিনি বাড়তি মাত্রা যোগ করেন দলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পিচে স্পিনাররা সুবিধা পাবেন।

বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, নেদারল্যান্ডস ও নেপাল। ২০ দলের বিশ্বকাপ চার গ্রুপে ভাগ হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম দুটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে। টেক্সাসে শ্রীলংকা ও নিউইয়র্কে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিপক্ষ। নেদারল্যান্ডস ও নেপালের ম্যাচ বাংলাদেশের ক্যারিবীয় দ্বীপে (সেন্ট ভিনসেন্ট)। ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো করেনি। সেবার বাশার-নান্নুদের জামানা ছিল। গাজী আশরাফ লিপুর চ্যালেঞ্জ বেশ। 

টি-টোয়েন্টি ও টেস্টে বাংলাদেশ কেবল ভালো খেলা শুরু করেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মঞ্চে ছেলেরা মান রাখলে হয়।  

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //