‘হাওয়া’য় ভাসছেন তুষি

গত শুক্রবার (২৯ জুলাই) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে- মাল্টিপ্লেক্সে দর্শকসারির পাশের সিঁড়িতে বসে গভীর মনোযোগে পর্দার দিকে তাকিয়ে এক লাস্যময়ী। তিনি আর কেউ নন, নাজিফা তুষি। বড়পর্দায় মুক্তি পাওয়া নিজের দ্বিতীয় সিনেমা ‘হাওয়া’র প্রচারে এসে এভাবেই ক্যামেরায় ধরা পড়েন তিনি। 

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এ ছবিতে তাকে দেখা গেছে ‘গুলতি’ চরিত্রে। সে প্রসঙ্গে তুষি বলেন, “এটি একটি রহস্যময় চরিত্র। ওর মধ্যে যে রহস্য আছে তা ধাপে ধাপে উন্মোচন হয়। সে আসার পর থেকে গল্পের বাঁক বদলাতে থাকে। চরিত্রটি কেমন জানতে হলে ‘হাওয়া’ দেখার বিকল্প নেই।”

‘হাওয়া’ মুক্তির পর নানা মতামত দিচ্ছেন দর্শক; কেউ গল্পে মুগ্ধ হয়েছেন, কেউ বা অভিনয়ে, কেউ কেউ তো কাজল চোখের মেয়ে তুষির সৌন্দর্যের প্রেমে পড়েছেন। সবার কথায় বোঝা যায় তুষি ছবিতে দারুণভাবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। তাই বলা যায়, প্রশংসার ‘হাওয়া’য় ভাসছেন তুষি।

তবে ‘গুলতি’ হতে গিয়ে কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তুষিকে; বেদে পল্লীতে গিয়ে থেকেছেন, তাদের সঙ্গে মাছ কেটেছেন। এ ছবির শুটিং করেছেন তারা মাঝ সমুদ্রে; পড়েছিলেন ঝড়ের কবলেও। ছবিটি দেখে ‘গুলতি’তে বিবশ দর্শক যেন তার পরিশ্রমের ফল পাতে তুলে দিচ্ছেন।

অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তুষি জানালেন, এ সময়ে এসে মনে হয় অসাধ্য সাধন করেছি। আমাদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ছয় মাস নিজের মাঝে ‘গুলতি’কে ধারণ করেছি। ছয় মাস বিছানায় ঘুমাইনি, মাছ কাটতাম, শাড়ি পরতাম, বেদে পল্লীতে গিয়েছি, ওদের সঙ্গে থেকেছি। শুটিংয়ে এক মাস মোবাইল ফোন ব্যবহার করিনি। আমি শুধু নই, ছবির অন্যরাও চরিত্রের জীবন-যাপনের চেষ্টা করেছেন। আমরা জানতাম ‘ডু অর ডাই’ অবস্থা হতে যাচ্ছে। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত আমার করা সবচেয়ে কঠিন চরিত্র ‘গুলতি’।

‘হাওয়া’ ছবিতে তুষি বাদেও অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, সোহেল মণ্ডল, নাসির উদ্দিন, সুমন আনোয়ার, শরীফুল রাজ প্রমুখ। ছবিটি দেখে এসে দর্শক তাদের মুগ্ধতার কথা লিখছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মুক্তির আগেও দর্শক নিজের মতো করে ‘হাওয়া’য় ভেসেছেন।

ছবির গান ‘সাদা সাদা কালা কালা’ তো হিট হয়ে যায় প্রচারের পরপরই। দর্শক-শ্রোতার আগ্রহে গণমাধ্যম খুঁজে বের করে মূল শিল্পী হাসিম মাহমুদকে। মেঘদলের গাওয়া ‘এ হাওয়া’ নিয়েও এক শ্রেণির শ্রোতার উচ্ছ্বাসের শেষ নেই।

তাই দর্শকের প্রতি তুষির কৃতজ্ঞতা, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হাওয়া’র প্রচার চালাচ্ছে দর্শক। আমরা গান ও ট্রেলার ছাড়ার পর বাকি কাজ দর্শক ভালোবেসে করছে। প্রতিটি শ্রেণির মানুষ ‘হাওয়া’য় মেতেছে। নিজের কাজ যখন দর্শক পছন্দ করে, তখন ভালো লাগা অনেক বেড়ে যায়। আমারও ভালো লাগছে।”

তুষি প্রথম কাজ করেন রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘আইসক্রিম’ ছবিতে। তারপর দীর্ঘ বিরতি, মাঝে কাজ করেছেন ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্ল্যাটফর্মে। নেটওয়ার্কের বাইরে, ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প সিরিজের অথবা প্রেমের গল্প, দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা কিংবা হালের সিন্ডিকেট- প্রতিটি কাজেই তুষি নিজেকে অন্য পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সিনেমা, ওটিটি ও বিজ্ঞাপনচিত্র বাদে তুষিকে কোথাও দেখা যায় না। তিনি সবসময় সিনেমাই করতে চেয়েছেন।

সে প্রসঙ্গে তুষি বলেন, ‘হাওয়া করার আগে জানতাম না সিনেমার প্রস্তুতি কেমন হয়। অভিনয়ের প্রথম স্কুলিং হয়েছে হাওয়াতে। আমার কাছে শুটিং শুরু করার পূর্বপ্রস্তুতি খুব মজা লাগে। এরপর প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইনে কোর্স করেছি। সৈয়দ জামিল আহমেদ স্যারের কাছে শিখেছি। এ ছাড়াও বিভিন্ন অভিনয়ের কোর্স করেছি। জানার মধ্যেই ছিলাম। অভিনয়ের চর্চা করেছি।’

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //