ধর্ষণের অভিযোগে শ্রীঘরে মামা

পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে ধর্ষণের মামলায় মামা শ্বশুর আক্তার হোসেন খন্দকারকে (৩৮) কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। একই মামলায় স্বামী আতিয়ার রহমানকেও (৩০) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে ধর্ষণের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে গত রবিবার রাতে পাটগ্রাম থানায় মামলা করেন। আক্তার জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গোড্ডিমারী ইউনিয়নের মধ্যগোড্ডিমারী এলাকার মৃত- নেহার উদ্দিন খন্দকারের ছেলে এবং আতিয়ার রহমান একই উপজেলার বড়খাতা মিলনবাজার এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে। 

পাটগ্রাম থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামছুল হক বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারীকে ধর্ষণ করে তার মামা শ্বশুর আক্তার হোসেন খোন্দকার। এই ঘটনায় ওই নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণে মামা শ্বশুরকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনেন। এজাহার নামীয় দুই আসামীকে ওই মামলায় গত রবিবার রাতে আটক করে সোমবার বিকেলে গ্রেফতার দেখিয়ে লালমনিরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর আতিয়ার রহমান ও আরজিনা বেগমের বিয়ে হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর স্বামী আতিয়ার রহমান বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারমারা (বাঁশকল) এলাকায় তার মামার ‘খন্দকার রেস্টুরেন্ট’-এ বাবুর্চির কাজ নেন। পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর আতিয়ার রহমান তার স্ত্রী আরজিনা বেগমকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে আসে। ওই রাতে আরজিনা বেগমকে তার মামার ভাড়া বাসায় একা রাখেন। ওই রাতে আরজিনার মামা শ্বশুর আক্তার হোসেন খন্দকার বাসায় ফিরে এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর পর্যন্ত ওই বাড়িতে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখা হয়। পরে আরজিনা বেগমের স্বামী বাইরে থেকে পরোটা দিতে যায়। আরজিনা স্বামীকে দেখে প্রাচীর টপকে বাইরে চলে আসে। এরপর আরজিনা বাবার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারকে বিচার দিলে তারা কোনো বিচার না করায় ফের বুড়িমারীতে গিয়ে খন্দকার রেস্টুরেন্টে গিয়ে চিৎকার-চেচামেচি করলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে স্থানীয় বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে হস্তান্তর করে। 

পরে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা পাটগ্রাম থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাদের আটক করে নিয়ে যায় এবং আরজিনার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়। 

পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আসামিদের আটক করে থানায় আনা হয়। এরপর আরজিনা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)/৩০ এর ধারায় মামলা রুজু করা হয়। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh