পুঠিয়া পৌরসভা নির্বাচনের আগাম প্রচার শুরু

রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভা নির্বাচনের আগাম প্রচার শুরু করেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তফসিল ঘোষণা না হলেও নির্বাচনি প্রচারে সরব হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। 

আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের একাধিক সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন।

নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় মনোয়ন পেতে প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের নেতাদের সাথে বিভিন্ন ভাবে যোগযোগ করে চলেছেন। সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে কে পাচ্ছেন এবার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদের পরিচিতির জন্য পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে, পাড়া-মহল্লায় কর্মী ও সমর্থকদের সংগঠিত করছেন। পৌরসভার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

এবারে পুঠিয়া পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তরুণরা। গতবার অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই অংশগ্রহণ করে। তবে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হলেও পরে আদালতের রায়ে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রবিউল ইসলাম বর্তমান মেয়র পদে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মিডিয়া কর্মী সৌরভ হাবিব, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পালোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আ’লীগের সদস্য অধ্যক্ষ গোলাম ফারুক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহিম কনক, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার খালেদ হোসেন লালন আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। 

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন- পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুল হক আসাদ ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লা আল মামুন।

রাজনৈতিকভাবে পুঠিয়া পৌরসভা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিধায় বর্তমান আওয়ামী লীগ এমপি ডা. মুনসুর রহমানের অনুসারীগন ক্লিন ইমেজের তরুণ কাউকে নমিনেশন দিয়ে ভোটের মাধ্যমে এই পদটি ধরে রাখতে ওঠে পড়ে লেগেছেন।

সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী সৌরভ হাবিব বলেন, জনসেবায় আত্মনিয়োগ করলেই যে জনপ্রতিনিধি হতে হবে তা আমি মনে করি না। আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। নিজেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম। দীর্ঘ ২১ বছর সাংবাদিকতা করার সময় অসহায় নিপীড়িত মানুষের পাশে থেকেছি। সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছি। আমি মনে করি শুধু দলের পদে থাকলেই হবে না, অসহায় মানুষের সেবায় কাজ করতে হবে। আমি মেয়র প্রার্থী হবো কিনা তা আমি একা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। এলাকার অনেকেই আমাকে প্রার্থী হতে উৎসাহ দিচ্ছেন। অনুপ্রাণিত করছেন। তারা আশা করছেন, আমি জনপ্রতিনিধি হলে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারবো- যা এতো দিন হয়নি। পৌরবাসী ও দলীয় প্রধান চাইলেই প্রার্থী হবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।

আগামী পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে বর্তমান মেয়র রবিউল ইসলাম রবি জানান, তিনি পুনারায় দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার সময়ে নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে উন্নয়নের ধারাকে চলমান রাখতে পৌরবাসী তাকে পুনরায় মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন বলে আশা করছেন।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দ্বারা জানান, আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন। দলীয়ভাবে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে, নেতাকর্মীরা তাদের পাশেই থাকবেন।

পৌরসভা নির্বাচন সম্পর্কে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাইদ চাঁন্দ জানান, আগামী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না তা দলের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত দেবে। তবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য বিএনপি নেতারা প্রস্তুত আছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে পুঠিয়া পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সেদিকটা লক্ষ্য রেখেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh