রাত পোহালেই পাবনা-৪ উপ-নির্বাচন

রাজত্ব রাখতে চায় আ.লীগ, বিএনপির টার্গেট পুনরুদ্ধার

(বাম দিক থেকে) আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস, বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজাউল করিম খোকন।

(বাম দিক থেকে) আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস, বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজাউল করিম খোকন।

শুক্রবার রাত পোহালেই পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী ও আটঘড়িয়া) আসনের উপ-নির্বাচন। ইতোমধ্যেই নির্বাচনী সব প্রচার প্রচারণা শেষ হয়েছে। আগামীকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা থেকে সব প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়।

করোনাকালে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার আব্দুল লতিফ শেখ। তিনি জানান, পাবনা-৪ আসনে দুইটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৮১ হাজার ১১২ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৯টি। এসব ভোট কেন্দ্রে দুই হাজার ৩০১ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

পাবনা-৪ আসন থেকে বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু গত ২ এপ্রিল মৃত্যু বরণ করলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আসনটি থেকে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের ১৮ জন লড়াই করে। অবশেষে ঈশ্বরদী উপজেলার চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসকে দলটি মনোনয়ন দেন। আর বিএনপি থেকে দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পাটি থেকে জেলা কমিটির কার্যকারী সদস্য রেজাউল করিম খোকনকে মনোনয়ন দেয়া হয়।

১৯৯১ সালে আসনটিতে বিএনপির সিরাজুল ইসলাম সরদার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। এরপর কেটে গেছে ২৫ বছর। এ সময়ের মধ্যে আসনটি আওয়ামী লীগের অধীনে রয়েছে। তবে আসনটি বিএনপি পুনরুদ্ধার করতে চায় বলে জানিয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা।

এরই মধ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসের দুইটি নির্বাচনী অফিসে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মতলেবুর রহমান মিনহাজ ফকির দাবি করেন, বুধবার দিনগত রাতে আজিজুল তলা গ্রামে বিএনপি-জামায়াতের দুর্বৃত্তরা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে এসে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে দেন। পরে ওই অফিসের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে চলে যান তারা। এর কিছুক্ষণ পরই মানিকনগর পূর্বপাড়ার অফিসেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, উপ-নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বুঝতে পারছেন যে নিশ্চিত পরাজয়। পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে বিএনপি-জামায়াতের গুণ্ডাপাণ্ডা দিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে।  

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এত বড় মিথ্যা কথা আর হতে পারে না। আমি সাধারণত মিথ্যা বলি না। সেখানে যে ভোটের সেন্টার আছে, সেটা আমার বাড়ির এলাকা। শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ কেন্দ্রে তাদের কোনো খবর থাকবে না। তাই আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে। বরং আমাদের নেতাকর্মীর ওপর হামলা, পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার তো আছেই। সাহাপুর ইউনিয়নের বিএনপির আহ্বায়ক রমজানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, পাবনা-৪ আসনের উপ-নির্বাচন অবাধ-নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেবে কমিশন। ব্যালট পেপার সকালে যাবে। কাজেই রাতে ভোট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তবে সিইসির বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে পারছেন না বিএনপির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সুর মিলিয়ে তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে নৈশভোটের আয়োজন করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন সিইসি। কাজেই তার আশ্বাসে বিশ্বাস করা যায় না। কারণ সিইসি যেদিন আশ্বাস দিলেন সেদিনই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের অফিসে হামলা চালিয়ে বিএনপির ওপর দোষ চাপাচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করিয়ে নির্বাচনী মাঠ খালি রাখার পাঁয়তারা করছে ক্ষমতাসীনরা।

তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের অফিসে হামলা চালিয়েছে, এখন দোষ আমাদের ওপর চাপাচ্ছে। তবে জনগণের ভোটে তাদের এ ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে। পাবনা-৪ আসনে গত আড়াই দশকের আধিপত্য ধরে রাখবে আওয়ামী লীগ। গত ২৫ বছরে এই আসনের যে উন্নয়ন হয়েছে, তা কেবল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ক্ষমতায় থাকায় সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরাও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম খোকন বা তার দলের কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠে প্রায় অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে মূল লড়াইটা যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মধ্যেই হবে, তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh