পানির নিচে ডুবে আছে লালমনিরহাটের কৃষকের স্বপ্ন

জেলার ৫ উপজেলায় তিস্তা চর ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ৩৬০ হেক্টর জমির আমন ধানের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়াও ৫ হেক্টর সবজি ও ৪ হেক্টর বীজ বাদাম ক্ষেতও ডুবে আছে পানির নিচে। এতে ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা করছেন চাষিরা।

জানা গেছে, প্রায় সপ্তাহ জুড়ে টানা ভারী বর্ষণে লালমনিরহাটের তিস্তা চর ও তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ডুবে যায়। এতে জেলার ৫ উপজেলার তিস্তা চর ও নদী তীরবর্তী নিচু অঞ্চলের আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। টানা কয়েকদিন পানিতে ডুবে থাকায় আমনের চারা গাছ পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উঁচু অঞ্চলের আমন ক্ষেতের চারা গাছের কিছু অংশ দেখা গেলেও নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ ধান ক্ষেত এখনো পানিতে ডুবে রয়েছে। ফলে আমনের উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা করছেন চাষিরা।

ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেতের আমনের চারা গাছ পচে নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকায় আমন ক্ষেত পচে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

তিস্তা ও ধরলা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলসহ কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের আমন উৎপাদনের কয়ার দোলা, কালিকুড়ার দোলা, দলগ্রামের বুকশুলার দোলা, আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ও ভাদাই ইউনিয়নের স্বর্ণমতি সতি নদী তীর, সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর রেলগেট এলাকায় শত শত হেক্টর জমির মধ্য বয়স্ক আমন ধান ক্ষেত পানিতে ডুবে আছে। ভারী বৃষ্টি ও ধীর গতিতে পানি নেমে যাওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থা দীর্ঘ হলে এসব অঞ্চলের আমন ক্ষেত চারা গাছ পচে নষ্ট হয়ে যাবে। নিজেদের খাদ্য মেটানো দূরের কথা আমনের খরচই উঠবে না কৃষকের। ফলে আমনের উৎপাদন নিয়ে চরম শঙ্কিত জেলার কৃষকরা।

এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকরা জানান, আমন ধান রোপণের পর থেকে যাবতীয় পরিচর্যা শেষ করেছেন তারা। কিছুদিন পরে ধানের শীষ বের হত। এমন সময় টানা বৃষ্টিতে তাদের ধান ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে এ গ্রামের সব চাষির ধান ক্ষেত ডুবে আছে। কিছু কিছু ধান গাছ ইতোমধ্যে পচে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। নতুন করে চারা রোপণের মত চারা গাছও নেই। সময় স্বল্পতায় ধান গাছ পচে নষ্ট হলেও নতুন করে চারা রোপণের কথা ভাবছেন না তারা। আর আমন ধান ঘরে তুলতে না পারলে পরিবার পরিজন নিয়ে খাদ্যহীনতায় ভুগতে হবে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ শামীম আশরাফ বলেন, অনেক স্থানে আমন ক্ষেত ডুবে আছে। যার মধ্যে কিছু বেঁচে যাবে এবং কিছু পচে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে। আর টানা দুই সপ্তাহ ডুবে থাকলে তা সমূলে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর জেলার ৫উপজেলায় ৮৫ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে চাষাবাদ হয়েছে ৮৫ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে ৩৬০ হেক্টর জমির আমন ধানের ক্ষেত বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়াও ৫ হেক্টর সবজি ও ৪ হেক্টর বীজ বাদাম ক্ষেতও ডুবে আছে পানির নিচে। তবে এর চেয়ে দ্বিগুণ আমন ক্ষেত পানিতে ডুবে আছে বলে কৃষকদের দাবি।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh